বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৩৩ অপরাহ্ন

সিলেট এয়ারপোর্ট রোডে আলো চাই

খায়রুন নাহার চৌধুরী (লাভলী)

খায়রুন নাহার চৌধুরী (লাভলী) :: ৩০ জুন সিলেট থেকে ঢাকা আসবো,আমার ফ্লাইট ০৮:৩০ মিনিটে।লাগেজ আগেই গুছিয়ে রেখেছিলাম, নিজে রেডি হলাম। লিটনের মা (আম্মার আরেক সহকারী) গাছ থেকে রোজট পাতা এনে প্যাকেট করে দিলো সেটাও নিলাম।রোজট পাতা আমার প্রিয় রান্নার উপকরণ । সব ঠিকঠাক, এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছি । আম্বরখানা পর্যন্ত আসবার পর একটা জরুরী কল আসলো। আমি যেনো পাঁচটা মিনিট সময় দেই,সাথে আমার ছোট বোন পপি। গাড়ি ঘুরিয়ে পাঁচ মিনিটের জন্য গেলাম। কথায় কথায় ঘড়ির দিকে তাকানোর কথা মনে নেই। US Bangla ০৮:৩০ মিনিটের পর আর আমার জন্য অপেক্ষা করবে না, এটা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম ।হঠাৎ ঘড়ির দিকে নজর পড়তেই দেখি ০৮:১০ বাজে ! সাথে সাথে ছুটলাম বিমানবন্দর অভিমুখে ।কিছু দুর যাবার পর সিগন্যালে পড়ে গেলাম,তখন ০৮:২২ ।ড্রাইভার চাচাকে বললাম আপনি গাড়ি ঘোরান ,আজ আর যাওয়া হবে না । আমার কথা শুনে পপি খুশী হয়ে গেলো।একটা হাসি দিয়ে বললো,ভালোই হয়েছে,আরো একদিন তোমাকে পাওয়া যাবে। ফিরে আসলাম বাসায় ।

গতকালও আমার ফ্লাইট রাত ০৮:৩০ মিনিটে ছিল। আমি আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগেভাগে তৈরি হয়ে রওয়ানা দিলাম । ওমা আজ আবার নতুন সমস্যা!গাড়ি কিছুক্ষণ পর পর থেমে যাচ্ছে ! ড্রাইভার চাচা সময় নিয়ে অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। আমি তখন হার্ট ফাউন্ডেশনের কাছাকাছি । এর মধ্যে সন্ধ্যা ৭ টা বেজে গেছে। আর উপায় না দেখে একটা সিএনজি ডাকলাম। সিএনজি চালককে জিজ্ঞেস করলাম ৪৫ মিনিটে এয়ারপোর্ট পৌঁছাতে পারবেন? উনি বললো,” টাইট করি বউকা আম্মা, আল্লাহ্ ভরসা ।পঙ্কীরাজর লাখান উড়ালদি যাইমু ।” কথা আসলেই সত্য, সিএনজি এতো স্পিডে চলে জানা ছিল না । লাক্কাতুরা চা বাগানের রোডে এসে পঙ্কীরাজ বিকট শব্দ করে বন্ধ হয়ে গেলো! ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গেছে, পঙ্কীরাজের মালিক অনেক চেষ্টা করেও উনার পঙ্কিরাজকে এক বিন্দু নড়াতে পারলেন না ।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ০৭:৪৫ বাজে। মনে মনে চিন্তা কররাম, আজও তাহলে ফ্লাইট মিস করলাম । পুরো এয়ারপোর্ট রোডে একটা লাইট পোস্ট নেই! ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঝুপ জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি,ভয় ভয় করছিল। আমি রাস্তার উপর এসে হাত তুলে দাঁড়ালাম, যদি খালি গাড়ি পাওয়া যায় এই আশায় । সময় থাকলে এয়ারপোর্ট যাবো ,নয়তো আবার বাপের বাড়ি ফিরবো। আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণী আরো একটি সিএনজি পাওয়া গেলো। এবং যথা সময়ে এয়ারপোর্টে পৌছে গেলাম।যথা সময় বলতে তখন ০৮:১৩ বাজে। আমি প্রায় দৌড়ে বোর্ডিং করতে যাচ্ছিলাম,তখন US Bangla র এক কর্মী বললেন “ম্যাডাম এতো তাড়াহুড়োর কিছু নেই,আপনি ধীরে সুস্থে আসুন ফ্লাইট আরো পনেরো মিনিট ডিলে হবে। আমি তখন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম আর তাড়াহুড়ো করার কারণ হিসেবে ৩০ জুনের ফ্লাইট মিস করার কথাও জানালাম । উনারা বললেন ৩০ জুনেও পনেরো মিনিট ডিলে ছিল।আপনি চলে আসলে ফ্লাইট ধরতে পারতেন ।

মনে মনে ভাবলাম ,যাক বাবা ,মাঝে মাঝে ডিলে হওয়া তাহলে ভালো। আগামীতে যাত্রা বিলম্ব হলেও আর বিরক্ত হবো না । আমার মতো আরো কেউ যদি রাস্তায় বিপদে পড়ে থাকেন,তবে এই কিছুক্ষণের বিলম্ব উনাদের জন্য খুব প্রয়োজন ।

বিঃ দ্রঃ ফ্লাইট বিলম্বিত হলে যাত্রীদের জানানো উচিত । বেশিরভাগ সময় জানানো হয় না । আর আমাদের এয়ারপোর্ট রোডে কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই কেনো বুঝলাম ন


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com