মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

কুলাউড়ায় সন্ত্রাসী হামলায় কলেজছাত্র আহত, মামলা দায়ের

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: কুলাউড়ায় জমি দখলে বাধা দেয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় মো. মনোয়ার হোসাইন রুজেল (২৪) নামের এক কলেজ ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। সে উপজেলার কমর্ধা ইউনিয়নের কর্মধা গ্রামের মৃত আব্দুছ ছত্তারের ছেলে।

এ ঘটনায় রুজেল বাদি হয়ে ৪ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে কুলাউড়া থানায় মামলা (নং-০৩/১৯) দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মৃত আব্দুছ ছত্তারের ছেলেদের বসতভিটা অবৈধভাবে দখলের পায়তারা করছিলেন একই এলাকার পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা এবং মামলার অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়া (৫০) ও তার তিন পুত্র আলাউদ্দিন (২৮), সালাহউদ্দিন (২৪) এবং রিয়াজ উদ্দিন (২০)। দীর্ঘদিন ধরে দু’পক্ষের বিরোধ চলছিলো ও একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিসও হয়। কিন্তু ফিরোজ মিয়া গংরা সালিশী বৈঠকের সিদ্ধান্ত তোয়ক্কা না করে একাধিকবার মনোয়ার হোসাইনদের পৈত্রিক ভিটা জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে যান। সম্প্রতি মনোয়ার হোসাইনদের বসতভিটার সীমানা ওপর জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ চেষ্টা করেন ফিরোজ মিয়া ও তার পুত্ররা। গত সোমবার নিজেদের বসতভিটার ওপর ঘর নির্মাণে বাঁধা দেন মনোয়ার হোসাইন ও তার ভাইয়েরা।

বাঁধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষ ফিরোজ মিয়া ও উনার ছেলে আলাউদ্দিন, সালাহউদ্দিন, রিয়াজউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন লোক মিলে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ মনোয়ার হোসাইনের বাড়ির সীমানার ওপর জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করে। এসময় বাঁধা দিতে এলে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী আলউদ্দিন প্রথমে মনোয়ার হোসাইনের ওপর হামলা করে। এরপর এজাহারভূক্ত বাকি আসামীরাও একত্রে হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় বাড়িতে থাকা মনোয়ারে বড় ভাই সরোওয়ার হোসেনসহ পরিবারে লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহতবস্থায় কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে মামলার অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বসতবাড়ির নিয়ে আমাদের দু’পক্ষের পূর্বপুরুষদের দির্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিলো। সেটি অনেক আগেই সমাধানও হয়ে গেছে। আমরা আমাদের জায়গার সীমানায় ঘর নির্মাণ করছি। মনোয়াররা বাঁধা দিলে তাদেরকে বলেছি ঘরের ছাদ ঢালাই সীমানার ৬ ইঞ্চি ভিতরে থাকবে। আমরা কোন হামলা করিনি।

আহত মনোয়ার হোসাইন রুজেল বলেন, আমাদের বসতভিটা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছিলো আলাউদ্দিন ও তাদের পরিবারের লোকজন। এটা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠকে কাগজপত্র অনুযায়ী ভূমি জরীপ ও মাপ দিয়ে আলাদা করে সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করে সীমানা নির্ধারণের আগেই জোরপূর্বক আমাদের সীমানার ওপর ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে আলাউদ্দিনরা। ঘটনার দিন বাঁধা দিলে আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে প্রাণে হত্যার চেষ্টা চালায় আলাউদ্দিন ও তার সহযোগিরা। পরে আমার পরিবারের ও স্থানীয় লোকজনরা তাদের হাত থেকে আমাকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক হারুন আল রশীদ বলেন, ঘটনাটি তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com