মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসক আটক

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় মো. জুয়েল মিয়া (৩৪) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে স্থানীয় ট্রমা জেলারেল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল মিয়া উপজেলার চন্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকার হাজী আলাউদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় পোল্ট্রি ব্যবসায়ী ছিলেন।

এদিকে জুয়েলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুর চালিয়েছেন আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ভৈরব থানার পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় কামরুজ্জামান আজাদ নামে এক চিকিৎসককে আটক করা হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক ইমরান অপারেশনের সময় রোগীকে অ্যানেসথেসিয়া (অজ্ঞান করতে) দিতে ভুল করেছেন। এছাড়া কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই রোগীকে ভুল ওষুধ দিয়ে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই মো.কামাল মিয়া বলেন, দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় জুয়েলের হাতের কবজি ভেঙে যায়। সে সময় কবজিতে অপারেশন করে স্ক্রুসহ দুটি প্লেট লাগিয়ে দেন ডা. কামরুজ্জামান আজাদ। দুই বছর পর সেই স্ক্রু ও প্লেট অপসারণের জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় চিকিৎসক কামরুজ্জামান আজাদ জুয়েলকে অপারেশনে থিয়েটারে নিয়ে যান। ‘রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওটি থেকে চিকিৎসক বের হয়ে বলেন, রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। জুয়েলকে (উনাকে) ঢাকায় আইসিইউতে নিতে হবে। এরপর তিনি আবার ওটিতে চলে যান। কিছুক্ষণ পর এসে আবার বলেন, আপনার ভাইয়ের কাজটা সুন্দরভাবেই করলাম। যখন বেডে নেব সে সময় শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। সেটা আমরা ক্লিয়ার করতে পারছি না। এখন সেটা সমস্যা মনে হচ্ছে। তখন আমি তাকে জিঙ্গাসা করলাম, আমার ভাই কি জীবিত আছে নাকি মারা গেছে। পরে আমি ওটিতে গিয়ে দেখি জুয়েল মারা গেছে। ভুল ওষুধ দিয়ে তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে।

আটক চিকিৎসক কামরুজ্জামান আজাদ বলেন, সম্পূর্ণ অজ্ঞানে ঝুঁকি থাকায় রোগীর এক পাশ অবশ করে অপারেশন করা হয়। রোগীর আবদার ছিল, তিনি যেন কোনো রকম টের না পান। সেজন্য ঘুমের বিষিয়টি নিশ্চিত করা হয়। রোগীর অনুরোধে ডা. ইমরান তাকে ঘুমের ওষুধ দেন। পরে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে তার হাত থেকে স্ক্রুসহ দুটি প্লেট অপসারণ করা হয়। তারপর হঠাৎই রোগীর পেশার কমে যায় এবং তার হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর পরই রোগী মারা যান।

রোগীর ভয়ের কারণেই এমনটা হয়েছে বলে চিকিৎসক কামারুজ্জামান মনে করেন।

ভৈরব সার্কেল অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রেজাওয়ান দীপু বলেন, খবর পেয়ে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যাই। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যে চিকিৎসকরে বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রোগীর স্বজনরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com