মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ফের কারাগারে ওলা কারজাভি

বিশ্বখ্যাত মুসলিম মনীষী ইউসুফ আল কারজাভির মেয়ে ওলা কারজাভি। ছবি: সংগৃহীত

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মিসরে বিনা বিচারে আটক বিশ্বখ্যাত মুসলিম মনীষী ইউসুফ আল কারজাভির মেয়ে ওলা কারজাভিকে আদালতের মুক্তির নির্দেশ সত্ত্বেও ফের কারাগারে পাঠিয়েছে দেশটির সরকার।

গত বৃহস্পতিবার মিসরের একটি আদালত ওলা কারজাভিকে মুক্তির আদেশ দিয়েছিল, কিন্তু আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে তাকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওলা আল কারজাভি ও তার স্বামীকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ দুই বছর বিনা বিচারে আটক রেখেছে মিসর সরকার। তার বাবা ইউসুফ আল কারজাভি বর্তমানে কাতারে নির্বাসিত রয়েছেন।

মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, মিসরের আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে বিনা বিচারে দুই বছরের বেশি আটক রাখা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে আইনে।

বিনা বিচারে আটক রাখার এ আইনকে পাশ কাটিয়ে সরকারি কৌঁসুলিরা নিয়মিতভাবে এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন।

ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ২০১৭ সালের ৩০ জুন ওলা ও তার স্বামী হোসাম খালাফকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ষড়যন্ত্রসহ সন্ত্রাসে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।

এর আগে গত বছর জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় ইউসুফ আল কারজাভির মেয়ে ওলা ও তার জামাতার মুক্তির দাবি জানিয়েছিল।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছিল, মিসরের সবচেয়ে নিকৃষ্ট কারাগারে ওলা আল কারজাভিকে নিঃসঙ্গ কারাবাসে আটক রাখা হয়েছে। আলাদা আরেকটি কারাগারে তার স্বামী হোসাম খালাফকেও একইভাবে আটকে রাখা হয়।

জাতিসংঘ কার্যালয় জানায়, আমরা দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে অন্যায়ভাবে আটক এই দম্পতির মুক্তি দাবি করছি।

গত জুনে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা জানিয়েছে, ওলা কারজাভি ও তার স্বামীকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। তাকে দীর্ঘ নিঃসঙ্গ কারাবাসে রাখার মাধ্যমে তার প্রতি নির্যাতন, নৃশংসতা ও অমানবিক আচরণ বাড়ছে এবং তার চিকিৎসার অধিকারকে খর্ব করা হচ্ছে।

কায়রো সরকার দাবি করছে, ওলা কারজাভি ও হোসাম খালাফ দেশটিতে নিষিদ্ধ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িত। তবে পরিবারটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com