মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

../news_img/55418mmri iu.jpeg

মৃদুভাষণ ডেস্ক: আমেরিকায় নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। আজ বুধবার সকালে নাগরিক সংবর্ধনায় বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে তিনি আমেরিকায় অবস্থান করছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাশে দাঁড়ানোয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কথা বলছেন। তিনি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছেন, বিশ্বে মুসলমানরা শরণার্থী হচ্ছে কেন? ওআইসিভুক্ত মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ব্যাপারে তিনি জোর দিয়েছেন বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওআইসির মিটিংয়েও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারাও এ বিষয়ে কথা বলেছেন। আমি বলেছি, বিশ্বে মুসলমানরাই কেন শরণার্থী হবে? তারাও আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।
বাংলাদেশের নাগরিকদের শরণার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারত থেকে সব শরণার্থী ফেরত এনেছিলেন। আর কোনো দেশ এত দ্রুত ফেরত আনতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী, যেটা বঙ্গবন্ধু করতেন। বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নির্বাচনে যাবে না, সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু নির্বাচনে যাব না, হতেও দেব না- এটা ঠিক না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে আমাকে যখন দেশে ফিরতে দিচ্ছিল না, একের পর এক মামলা দিয়েছিল, তখন বিশ্বব্যাপী ও জনগণের চাপে তৎকালীন সরকার আমাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। বিভিন্ন দেশ থেকে শতাধিক প্রবাসী আমার সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।