পদ্মাপাড়েই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: চাপ কমবে শাহজালালের

../news_img/58552mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দ্রুতগতিতে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর কাজ যেমন এগিয়ে চলেছে, তেমনি সেখানেই গড়ে ওঠার জোর সম্ভবনা দেশের সবচেয়ে বড় ও সর্বাধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটি শুধু দেশের সেরা বিমানবন্দরই হবে না, এটি হবে এশিয়ার অন্যতম সেরা বিমানবন্দর। যার নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’।

এটা হলে এই অঞ্চলে লাগবে আধুনিকতার ছোঁয়া। কেননা একে ঘিরে হবে বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল, সেইসঙ্গে হবে নগরায়ণ। তাতে পাল্টে যাবে এই এলাকার মানুষের জীবন জীবিকা।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে এ নিয়ে আলাপকালে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মন্ত্রী যোগ করেন, পদ্মার পাড়ে বিমানবন্দর নির্মাণের পরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমবে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ ঘিরে আমাদের বিশাল ও সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ পদ্মাসেতু ঘিরে এই অঞ্চলে বিশাল এক অর্থনৈতিক হাব গড়ে উঠবে। তাতে পুরো এলাকাটির অর্থনৈতিক চেহারাটাই যাবে পাল্টে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের বিশ্বাস, পদ্মাপাড়ের এই বিমানবন্দরই হয়ে উঠবে দেশের প্রধান ও সর্বাধুনিক বিমানবন্দর। দুই নম্বরে থাকবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আর তিন নম্বরে থাকবে কক্সবাজার।
    
তিনি জানান, পদ্মাপাড়ের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকল্প এলাকা নির্ধারণ সেটাই প্রমাণ করে। পদ্মার পাড়ে চর জানাজাত (শিবচর, মাদারীপুর) এর সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এপারে যে তিনটি স্থান সম্ভাব্য বলে ধরা হয়েছিলো সেগুলো হচ্ছে চর বিলাসপুর (দোহার, ঢাকা), কেয়াইন (সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ) ও লতব্দি (সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ)।
    
মুস্তফা কামাল বলেন, স্থান নির্ধারণের জন্য সমীক্ষা চালানো হয় জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০১৭ পর্যন্ত। তবে বিশাল এই প্রকল্পে কি পরিমাণে ব্যয় হবে কিভাবে বিমানবন্দর ঘিরে নগর পরিকল্পনা গড়ে উঠবে সেটা জানতে হলে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ জুনেই বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ব্যয়-নকশা ইত্যাদি বিষয় নিশ্চিত করতে এখনও চলছে সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ। চুক্তি অনুযায়ী জাপানি কনসালট্যান্ট ফার্ম নিপ্পন কোয়েই কোম্পানি লিমিটেড ২০১৮ সালের জুন মাসে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করবে। এর জন্য জাপানি কোম্পানিকে বাংলাদেশ সরকার ১২০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।
 
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিএ) আবুল হাসনাত মোঃ জিয়াউল হক বলেন, পদ্মার পাড়ে মাদারীপুর অথবা শরিয়তপুরেই দেশের সেরা বিমানবন্দরটি হবে। অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করতে এখনও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডিজ) চলছে। এটি বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোর একটি। এই বিমানবন্দরটি নির্মাণে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। একে ঘিরে থাকবে সংযোগ সড়ক আর অত্যাধুনিক নগর-জনপদ। ২০১৮ মাসের জুন মাসে রিপোর্ট পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ।
 
ঢাকা থেকে দূরত্ব, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমির পর্যাপ্ততা, আন্তর্জাতিক রুট, সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, পুনর্বাসন, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি বিবেচনা করেই স্থান নির্বাচন করা হবে।
 
জুনের পরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরি করবে মন্ত্রণালয়। ব্যয়ের দিক থেকে এটা হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম মেগা প্রকল্প।