ব্যাগ নিয়ে বিড়ম্বনার আশঙ্কা হজযাত্রীদের

../news_img/60035 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ট্রলিব্যাগ ও কিটব্যাগ নিয়ে হজযাত্রীদের বিপাকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবার এজেন্সি মালিক বা নির্ধারিত কোনও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাগ সরবরাহ করা হচ্ছে না। হজে যাওয়ার সময় নিজ দায়িত্বেই কিনতে হবে ব্যাগ। কিন্তু কোথা থেকে বাংলাদেশে পতাকা খচিত এ ব্যাগ কেনা যাবে, তার কোনও নির্দেশনা হজযাত্রীদের দেওয়া হয়নি। আবার অনেকে বলছেন, তাদের কাছ থেকে ব্যাগ বাবদ টাকা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হজযাত্রীরা ব্যাগ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ার আশঙ্কা করছেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় ও  হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়শেন অব বাংলাদেশ (হাব) বলছে, ব্যাগের টাকা প্যাকেজ রাখা হয়নি। আর হজযাত্রীরা বলছেন, বিগত সময়ের মতো প্রাক-নিবন্ধন ও মোয়াল্লেম ফিসহ অন্যান্য খরচের সঙ্গেই ব্যাগের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ট্রলিব্যাগ সরবরাহ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে হাবের বিরুদ্ধে। এছাড়া, নিম্নমানের ব্যাগ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয় হাজিদের মধ্যে। তাই ধর্ম মন্ত্রণালয় হাবকে এবার ট্রলিব্যাগ ও কিটব্যাগ সরবরাহের দায়িত্ব দেয়নি। হাজিদের নিজ দায়িত্বে ব্যাগ কেনার জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বংলাদেশের পতাকা খচিত ব্যাগ কোথায় পাওয়া যাবে এবং কে সরবরাহ করবে, তার কোনও নির্দেশনা নেই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন ও হজ) হাফিজ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আগেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি, হাজিরা নিজ দায়িত্বে ব্যাগ সংগ্রহ করবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় বা হাব এর পক্ষ থেকে ব্যাগ সরবরাহ করা হবে না।’

ফেনীর ছাগলনাইয়ার হজযাত্রী মাওলানা খলিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কোথায়, কীভাবে ট্রলিব্যাগ কিনতে পারবো, তা এখনও জানি না। আগে হাব এবং গত বছর এজেন্সির মাধ্যমে ব্যাগ দেওয়া হলেও এবার নাকি হজযাত্রীদের নিজ দায়িত্বে ট্রলিব্যাগ ও কিটব্যাগ সংগ্রহ করতে হবে। এগুলো কোত্থেকে সংগ্রহ করবো, বুঝতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘মোয়াল্লেম ফি জমার সময়ই নিবন্ধন ফি, ওষুধ, ট্রলিব্যাগ ও কিটব্যাগের দামসহ ৩০ হাজার ২০০ টাকা জমা নিয়েছে মন্ত্রণালয়।’ আরও কয়েকজন হজযাত্রী ট্রলিব্যাগ ও কিটব্যাগের দাম নেওয়া হয়েছে বলে জানান।

এদিকে ব্যাগ তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, কেউ নিজ দায়িত্বে ব্যাগ তৈরি করতে চাইবেন না। কারণ হাজযাত্রীরা কার কাছ থেকে ব্যাগ কিনবেন, নাকি কিনবেন না সেটা তাদের বিষয়। তাছাড়া অর্ডার ছাড়া ব্যাগ তৈরি করতে পতাকার মাপ ও অন্যান্য বিষয় ঠিক রাখার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে এ দায়িত্ব কেউ নিতে চাইবে না।

এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন ও হজ) হাফিজ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পতাকার মাপ সবাই জানেন। সেই হিসেবে বাংলাদেশের পতাকাখচিত ব্যাগ সংগ্রহ করবেন হজযাত্রীরা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পতাকা খচিত ট্রলিব্যাগ ও কিটব্যাগ সরবরাহ শুরু হয়। হজযাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া টকায় হাব এই ব্যাগ সরবরাহ করতো উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে। নির্ধারিত মাপে পতাকা খচিত ট্রলিব্যাগ ও কিটব্যাগ সরবরাহ করতো হাব। তবে নিম্নমানের ব্যাগ দিয়ে হাজিদের টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে হাবের বিরুদ্ধে। ওপেন টেন্ডার না দিয়ে ব্যাগ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলেন হজযাত্রীরা। এই ঘটনার পর ২০১৭ সালে টেন্ডার না করে এজেন্সি মালিকদের ব্যাগ সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবার হাব বা এজেন্সি মালিক নয়, সরাসরি হজযাত্রীর কেনার দায়িত্ব দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিম্নমানের ব্যাগ সরবরাহ করা নিয়ে হাবের বিরুদ্ধে অভিযোগেরে অন্ত ছিল না। হাবের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরাই সিদ্ধান্ত নেই, হাব কোনও ব্যাগ সরবরাহ করবে না। কারণ প্রতি বছর প্রায় ৩২ কোটি টাকার ব্যাগ প্রয়োজন হয়। ব্যাগের টেন্ডার করা হলে একটি মহল ব্যবসা করার জন্য বসে থাকে। তাই হজযাত্রীরা যাতে প্রতারিত না হন, সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন বাংলাদেশের পতাকাখচিত ব্যাগ বাজারের সব ব্যাগের দোকানেই পাওয়া যাবে। যিনি যে দামে ব্যাগ কিনতে চান সেই দামেই ব্যাগ কিনতে পারবেন। আমরা ব্যাগের টাকা হজযাত্রীদের কাছ থেকে নেইনি।’ -বাংলাট্রিবিউন