মাদক আটকে ফেঁসে গেলেন ছাত্রলীগের দুই নেতা

../news_img/53734 mri nu.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ৩০ বোতল ফেনিসিডিল ও দুই কেজি গাঁজা আটক নিয়ে মামলায় ফেঁসে গেলেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দুই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের দুই সভাপতি।

এ ঘটনায় একটি ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপর একটি ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতিসহ পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

শনিবার রাতে উপজেলার খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর চর এলাকা থেকে এক সভাপতিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার ঝুনগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম (৩৫) এবং ডালিয়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে ও চাঁপানী ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৩)।

রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে রোববার সকালে ডিমলা থানার এসআই আতিকুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আটককৃত দুইজনসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়।

অপর পলাতক পাঁচজন আসামি হলেন- উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের বিন্নাকুড়ি গ্রামের মোখলেছার রহমানের ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রতন (২৩), উত্তর সোনাখুলী গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান (৩২), একই গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মঈনুল (৩০), আজিজুল ইসলামের ছেলে হামিদুল ইসলাম (৩৫) ও পাশ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার শিঙ্গিমারী গ্রামের আফসার আলীর ছেলে এরশাদ হোসেন।

এদিকে ছাত্রলীগের দাবি, দুই ইউনিয়নের সভাপতিকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। 

এলাকাবাসী জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামসহ তার অপর সঙ্গী পাঁচজন লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা হয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বাইশপুকুর চর গ্রাম দিয়ে ৩০ বোতল ফেনসিডিল ও দুই কেজি গাঁজা নিয়ে আসে। এ সময় বাইশপুকুর গ্রামের লোকজন তাদের আটক করে ডিমলা থানায় খবর দেয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই মাদক ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামের অপর চার সঙ্গী নুরুজ্জামান, মঈনুল, হামিদুল ইসলাম ও এরশাদ হোসেন পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় উক্ত ছাত্রলীগের দুই ইউনিয়ন সভাপতি। এ সময় এলাকাবাসীর হাতে আটক থাকা মাদক ব্যবসায়ী জহুরুল এলাকাবাসীকে জানান ছাত্রলীগের ওই দুইজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

এ কথায় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করলে ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি রতন পালিয়ে গেলেও এলাকাবাসীর হাতে আটক হয় খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে মাদক ব্যবসায়ী জহুরুলসহ রাকিবকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী।

এদিকে ডিমলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সায়েম সাংবাদিকদের জানান, খালিশা চাঁপানী ও ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের দুই ছাত্রলীগের সভাপতি সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চারের ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তারা পুলিশকে খবর দিয়ে এর আগেও মাদক ব্যবসায়ী জহুরুলসহ অনেকের মাদকের চালান পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে- মাদক ব্যবসায়ী জহুরুল বাইশপুকুর এলাকায় এবার মাদকসহ আটকের পর পূর্বশত্রুতাবশতঃ এলাকাবাসীর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে উক্ত দুই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতিতে মামলা থেকে অব্যহতি দেয়ার দাবি করেন আবু সায়েম।

ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বাইশপুকুর চর গ্রামের এলাকাবাসী মাদকসহ দুইজনকে ধরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি যারা পালিয়ে গেছে তাদের নাম প্রকাশ করায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।