সমাবেশে না এলে বেতন কাটা যাবে,চাকরি চলে যাবে: ফখরুল

../news_img/57135mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::স্কুল-কলেজে চিঠি দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাগরিক সমাবেশে যোগ দিতে বাধ্য করেছে সরকার। এ অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে স্কুল-কলেজ এবং ব্যাংকগুলো চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে সমাবেশে আসতে হবে। না আসলে ব্যাংকে কর্মরতাদের চাকরি চলে যাবে ও বেতন কাটা যাবে’ এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে বড় একটি সমাবেশ হচ্ছে। এটা নাকি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। এটা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সমাবেশ। ৭ মার্চের ভাষণের উপর ইউনেস্কোর পুরস্কারের জন্য এই সমাবেশ। ভালো কথা, অত্যন্ত আনন্দের কথা। কিন্তু প্রত্যেকটি স্কুল ও কলেজকে চিঠি দিয়েছেন না আসলে চাকরি থাকবে না। ব্যাংকের লোকজনকে চিঠি দিয়েছে না আসলে ৫ দিনের বেতন কাটা যাবে। সবাইকে এই কথা বলে এখানে নিয়ে আসছেন।’

রাজধানীর সেগুন বাগিচায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব অভিযোগ করেন।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করে ভাসানী স্মৃতি সংসদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সকালে দেখে এসেছি বড় বড় বাসে স্কুলের বাচ্চাদেরকে সমাবেশে নেয়া হচ্ছে। আমাদের তো আপত্তি নেই। কিন্তু কী গেইন করছেন? একটি মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিচ্ছেন। মিথ্যা দিয়ে সব ঢেকে দিচ্ছেন।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকার জন্য যা যা করার তাই করছেন  আপনারা।’ 

ভাসানী প্রথম স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন।
ভাসানীর স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ভুলে যাইনি যে ভাসানী প্রথম স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন।’

 ফখরুল বলেন, যে আ্ওয়ামী লীগ তৈরি হয়েছিল মওলানা ভাসানীর হাত ধরে আজকে তারা তাদের জন্মদাতাকেই ভুলে গেছেন। ভাসানীকে এই সরকার ভুলে যেতে পারে, কিন্তু দেশের মানুষ তাকে ভুলবে না।’

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণ দেখতে চায় মানুষ। নিরপেক্ষ-নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেই এমনটি সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন,  তোষামোদি না করে আগামী নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সমান ক্ষেত্র) তৈরি করতে হবে নির্বাচন কমিশনকেই (ইসি)।

প্রসঙ্গ : বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের আয়োজন করে নাগরিক কমিটি। এতে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে ইতিমধ্যেই ভরে গেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।