সিনেটে আজ আবার ভোটাভুটি

../news_img/58298 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের নতুন বাজেটে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের মধ্যে জোর দরকষাকষি চলছে। নিজেদের দাবিতে অনড় ডেমোক্রেট। টলছে না রিপাবলিকানরাও। শর্ত পূরণে চলছে চরম রেষারেষি। ডেমোক্রেটরা বলছেন, তরুণ অভিবাসী প্রকল্প ‘ডাকা’ বহাল না রাখলে কোনো আলোচনা নয়। রিপাবলিকানরা বলছেন, আলোচনায় আসুন, সিনেটে বসে সংকট সমাধান করুন। তার পরই আপনাদের শর্ত মেনে নেব।
 
দফা-দাবির টানাহেঁচড়ার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের অচলাবস্থার একদিন শেষ হয়ে গেল। পূর্বপরিকল্পনা মাফিক নতুন সপ্তাহের প্রথম দিন শুরুর আগেই সংকট নিরসনে আদা-জল খেয়ে নেমেছেন রিপাবলিকান সিনেটররা। সোমবার (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার) সিনেটে ফের ভোটাভুটি হবে বলে ঘোষণাও দিয়েছেন সিনেট রিপাবলিকান নেতা মিথচ ম্যাককনেল। টানাপোড়েনের এমন টানটান মুহূর্তে দুই দলেই টিমটিম করছে আশার আলো। রিপাবলিকানরা ভাবছেন, এই বুঝি সংকট কেটে যাবে। ডেমোক্রেটরা মনে করছেন, আবারও আটকে যাবে বাজেট বিল, আমাদের দাবিরই জয় হবে। খবর বিবিসি ও এএফপির।

বাজেট বিল পাসের জন্য শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। এদিন শেষ মুহূর্তে স্বল্পমেয়াদি ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের বাজেট বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব সিনেটে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। যার অর্থ পুরোপুরি কার্যকর একটি সরকারি ব্যবস্থাপনা ছাড়াই মেয়াদের দ্বিতীয় বছর শুরু করতে হয়েছে ট্রাম্পকে। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাবটি সিনেটেই আটকে যায়। বাজেটের বিষয়ে ৫০-৪৯ ভোট পড়ে। বিল পাসের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোট। ডেমোক্রেটিক পার্টির দাবি, বাজেট সমঝোতার অংশ হিসেবে ‘ড্রিমার’ হিসেবে পরিচিত প্রায় আট লাখ তরুণ-তরুণী, যারা এ দেশে শিশু অবস্থায় বাবা-মায়ের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, তাদের পূর্ণ বৈধতা দেয়া হোক। ওবামা আমলে তাদের সাময়িকভাবে বৈধতা দেয়া হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চের মধ্যে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না হলে তারা অবৈধ হয়ে পড়বেন ও দেশ থেকে বহিষ্কারের হুমকির মুখোমুখি হবেন। জনমত জরিপ অনুসারে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ তাদের বৈধতা দেয়া সমর্থন করে। ট্রাম্প শর্ত দিয়েছেন, ডিমার্সের বদলে তার প্রস্তাবিত মেক্সিকো দেয়াল তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন আনতে হবে। এ ছাড়া সামরিক বরাদ্দ বৃদ্ধি, ভিসা লটারি ও পারিবারিক ভিসা ব্যবস্থা বাতিল চান ট্রাম্প।

শুক্রবার রাতে ডেমোক্রেটিক সিনেট নেতা চাক শুমার সমঝোতার লক্ষ্যে ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। কিন্তু সেখানেও কোনো দফারফা হয়নি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ হুকাবি স্যান্ডার্স বলেন, ‘ডেমোক্রেটরা এ খেলা বন্ধ না করলে এবং সরকারি কর্মকাণ্ড চালু না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট অভিবাসী সংস্কারের বিষয়ে সমঝোতায় আসবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।’ সিনেটের ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার বলেন, ‘অনেকবারই রিপাবলিকানদের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হলেও ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কট্টর অবস্থানের কারণে চুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত ভোল পাল্টালে আলোচনা অসম্ভব।’

অচলাবস্থার কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নভেম্বরের কংগ্রেসের নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কায় এ নিয়ে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিন্মকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ও উচ্চকক্ষ সিনেটে শনিবার এক বিরল অধিবেশন বসে। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায়ও দুই কক্ষই এ বিষয়ে সমঝোতায় ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় সময় রোববার থেকে ওই অধিবেশন ফের শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিথচ ম্যাককনেল জানান, সরকারি বাজেট ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবে সোমবার রাত ১টায় (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দুপুর ১২টা) সিনেটে ভোট হবে, যদি না ডেমোক্রেটরা এর আগেই এ বিষয়ে একমত হয়। তিনি বলেন, ‘কালও (রোববার) আমরা ফিরে আসব এবং ডেমোক্রেটদের অচলাবস্থা কাটানোর প্রস্তাবিত ভোটে যতক্ষণ পর্যন্ত না আনা যায়, ততক্ষণ আলোচনা চালিয়ে যাব।’

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর ১ অক্টোবরের মধ্যে মার্কিন সরকারের বাজেট পাস করতে হয়। কিন্তু কংগ্রেস বারবারই তাদের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। নতুন বছরেও গড়িয়েছে এ আলোচনা। কিন্তু পাস করতে পারেনি বাজেট। এ নিয়ে চারবারের মতো স্বল্পমেয়াদি বরাদ্দ বিল পাসে উদ্যোগী হয় রিপাবলিকান। এবার তা আটকে গেল। ফলে শনিবার প্রথম প্রহর থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে ট্রাম্প সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম। চলমান পরিস্থিতিতে সরকারি বহু কর্মীকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। কাউকে কাউকে নতুন করে তহবিল ছাড়ের আগ পর্যন্ত বেতন ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। ক্যাপিটল ভবনের বাইরের স্থান, পার্ক, উন্মুক্ত মনুমেন্ট ও স্মিথসনিয়ান জাদুঘর অচলাবস্থার প্রথম দিনও খোলা ছিল। দর্শনার্থীদের ফিলাডেলফিয়ার লিবার্টি বেল, স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং নিউইয়র্ক হারবারের এলিস আইল্যান্ড থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। অচলাবস্থার কারণে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প ও মন্ত্রিসভার কয়েক সদস্যের নির্ধারিত সফরের কাজ দৈনন্দিন ভিত্তিতে অগ্রসর হবে বলে হোয়াইট হাউসের বাজেটবিষয়ক পরিচালক মিক মুলভানি জানিয়েছেন।