সহকর্মীকে হত্যার পর সাত টুকরা, শিক্ষিকার কারাদণ্ড

../news_img/60256 mrini.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: নরসিংদীতে খোরশেদ আলম হত্যা মামলায় তাঁর সহকর্মী স্কুলশিক্ষিকা আনিসা সুলতানা এ্যামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম ফাতেমা নজীব এই রায় ঘোষণা করেন।

আসামি আনিসার (২৩) বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার গাবতলী এলাকায়। নিহত খোরশেদ আলম রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত অহেদ আলীর ছেলে। তাঁরা দুজনই গাবতলী এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন এবং নরসিংদী সরকারি কলেজে পড়তেন। খোরশেদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষে ও আনিসা হত্যাকাণ্ডের সময় দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়তেন।

পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে নরসিংদী শহরের সঙ্গীতা এলাকার শাকিল মিয়ার সঙ্গে আনিসার বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে সন্তান ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। একই কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতার সুবাধে খোরশেদ আলমের সঙ্গে আনিসার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খোরশেদকে গাবতলী ভাড়া বাসায় ডেকে আনেন আনিসা। দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে খোরশেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন আনিসা। একপর্যায়ে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন। পরে গুম করার জন্য বহনের সুবিধার্থে লাশটি সাত টুকরো করে দুই ভাগে বস্তায় ভরে ফেলেন। পরের দিন ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আনিসা ও তাঁর সহযোগীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে সদর ও শিবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা সোনাতলা (পুটিয়া বাজার সংলগ্ন) হাড়িদোয়া নদীতে ফেলতে যান। এ সময় তিন যুবকসহ এক তরুণীর নদীতে বস্তা ফেলার দৃশ্যটি দেখতে পায় মোস্তফা নামের এক পথচারী।

সন্দেহ হলে মোস্তফা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেলে লাশ ভর্তি বস্তা ফেলে তরুণেরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসী আনিসাকে মস্তকবিহীন লাশের বস্তাসহ হাতেনাতে ধরে ফেলেন। বস্তার মুখ খুলে তাতে মাথা-হাত-পা বিচ্ছিন্ন একটি লাশ দেখতে পায় তারা। আনিসা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় অটোরিকশাটিও আটক করা হয়।

পরে আনিসার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোরে শহরের পুরানপড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে নিহত কলেজছাত্রের মাথা, দুটি হাত, দুটি পা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বেদন মিয়া বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় আনিসা সুলতানা এ্যামি ও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ শুধু আনিসাকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে খোরশেদ আলম হত্যার সঙ্গে আনিসার জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিচারক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন।