হবিগঞ্জে খোয়াই বেরি বাঁধের ডেঞ্জার পয়েনট ভাঙ্গনের ভয়

../news_img/59556 mrini.jpg

মোঃ রহমত আলী, হবিগঞ্জ থেকে :: হবিগঞ্জ শহরতলীর পূর্ব ভাদৈ এলাকায় মোড় নেয়া খোয়াই নদীর তীরে ডেঞ্জার পয়েনটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ক্রমশই বেরি বাঁধ ধ্বসে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে স্থানটি হুমকির সম্মুকিন হচ্ছে। এখন শুকনো মওসুম গড়িয়ে গেলেও মেরামতের কোন উদ্যোগ লক্ষ কারা যাচ্ছে না। বর্ষা যতই ঘনিয়ে আসছে স্থানীয় লোকজনের মাঝে তত বাড়ছে আতংক ।

খোয়াই কখনো শান্ত আবার কখনো ধারণ করে ভয়াবহ রূপ। তার উতলা যৌবনের প্লাবন দিয়ে চুড়মার করতে পারে তার গতি পথের যে কোন দ্বার।  ফলশ্রুতিতে নদীর জোয়ারে তীর ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে পবেশ করে তবে লন্ডভন্ড করে দিবে বিস্তীর্র্ণ এলাকা ও জনপদ। আর অপুরনীয় ক্ষতি হবে ভাদৈ, তেঘরিয়া, নাজিরপুর, পশ্চিমপাড়া, পইল, আসামপাড়া, আটঘরিয়া, এড়ালিয়া, বারাপইত, শিয়ালদাড়িয়া, পাঁচপাড়িয়া, গোবিন্দপুরসহ গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওর বেষ্টিত জনপদের হাজার হাজার মানুষের। এমনকি প্রণহানিসহ ফসলি জমি, মৎস্য খামার, গবাদিপশু ও ভিবিন্ন শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হবে। পূর্ব-ভাদৈ গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ ফারুক মিয়া জানান, গত বছর কয়েক দফা খোয়াই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে খোয়াই নদীর বেরি বাঁধের উক্ত স্থানটি অকস্মিক ধ্বসে নদী গর্ভে তলিয়ে যায়। তিনি জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকার লোকজন স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপির কাছে সরনাপন্ন হন। তিনি উক্ত ডেঞ্জার পয়েন্টি মেরামতের জন্য ৪০ লক্ষাধিক টাকা তাতক্ষণিক বরাদ্ধ দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগ মাটির বস্তা দিয়ে নামে মাত্র কাজ করিয়ে সমুদয় টাকা উত্তোলন করে। তিনি বলেন, বর্ষা আসার পূর্বে ভাঙ্গন স্থানটিতে সিসি ব্লক অথবা পাথর স্থাপন করে স্থায়ী ভাবে ডেঞ্জার পয়েন্টি মেরামত করা না হলে প্রথম বর্ষাতে বেরি বাঁধ ভেঙ্গে বানের পানি লোকালয়ে পবেশ করে লন্ড ভন্ড হয়ে যাবে শহরের পূর্ব এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ। এমনকি পরিবর্তন হতে পারে নদীর গতিপথ ।

উল্লেখ্য যে, হবিগঞ্জ শহর ঘেষা বহমান খোয়াই নদীর সর্বত্র বালু উত্তোলনের ফলে প্রতিনিয়তই নদীর দু’তীর ও চর এলাকা ধ্বসে বিলিন হচ্ছে নদী গর্ভে। যতেচ্ছ বালু উত্তোলন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছেন। নদী ভাঙ্গনের এমন দৃশ্য তীর বসতি লোকজনের মাঝে দিন দিন আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। এভাবে ভাঙ্গণ অব্যহত থাকলে যে কোন সময় বেরীবাঁধ ধ্বসে শহর ও তীর বর্তি এলাকা বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বন্যাক্রান্ত প্রতিটি জনপদ।  গত বছরে খোয়াই নদীতে দফায় দফায়  বন্যা দেখা দিলে নদীর বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ আকারে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে শহরতলীর পূর্ব ভাদৈ, তেতৈয়া ও খোয়াই মুখ এলাকায় ভয়াবহ আকারে বেরী বাঁধ ধ্বসে তলিয়ে যায় নদীর গভীরে। তীর ভাঙ্গণ কবলিত এলাকায় স্থানীয় লোকজন নির্ঘুম দিনাদিপাত কাটাচ্ছেন।

 উল্লেখ্য যে, স্থানীয় মশাজান খোয়াই ব্রীজ থেকে কামড়াপুর এমএ রব ব্রীজ পর্যন্ত নদীতে স্থানে স্থানে বালু উত্তোলনের মেশিন বসিয়ে কিছু অর্থ পিপাষু সুবিধা লোভী লোক সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসাধু কর্মকর্তার চত্রছায়ায় বালু বিক্রি করে কুটি কুটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর সরাকার হারাচ্ছে রাজস্ব। নির্ধারিত বালু মহাল ব্যতিত যত্রতত্র নদীর বালু উত্তেলন বন্ধের দাবী জানান স্থানীয় সচেতন মহল।