প্রেমের টানে ভারতে গিয়ে বিয়ে করে লাশ হল সুমি

../news_img/57138 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  মোবাইল ফোনে পরিচয় ও প্রেম। অতঃপর পরিবারের অমতে ভারতে গিয়ে নাজমুল হাসান নামের এক যুবককে বিয়ে করে কুমিল্লার মেয়ে সুমনা আক্তার সুমি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মাস না গড়াতেই লাশ হয়ে স্বজনদের বুকে ফিরে এলো সুমি।

রোববার দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার আন্তর্জাতিক সীমারেখায় শশীদল বিওপির বিজিবি ও ভারতের আশাবাড়ী বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সুমির লাশ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।

আশাবাড়ী এলাকার লোকজন ও সুমির স্বজনরা জানান, মোবাইলে পরিচয় ও প্রেমের সূত্র ধরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কলমচূড়া থানার রহিমপুর গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে নাজমুল হাসানের সঙ্গে এক মাস আগে বিয়ে হয় সুমির।

সুমি কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার সুজানগর এলাকার মৃত ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে।

পারিবারিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে গত ৫ নভেম্বর পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সুমি। বিয়ের এক সপ্তাহ পরে নাজমুল সুমিকে যৌতুকের জন্য মারধর করে। একপর্যায়ে সুমি সুখের কথা ভেবে স্বজনদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে স্বামী নাজমুল হাসানকে দেয়।

নাজমুলের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের মাত্রাও বাড়ে।

গত ১৮ নভেম্বর বিকালে সুমি স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে আশাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ সময় নাজমুল তার মামা আবদুল জলিলকে নিয়ে সুমিকে ধরে নিয়ে মারধর করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দৃষ্টিগোচর হয়।

বিএসএফ সুমিকে উদ্ধার করে ভারতের বক্সনগর সরকারি হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।

রোববার দুপুরের দিকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করে বিএসএফ।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার টিপু সুলতান জানান, ভারতে ময়নাতদন্তের পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ আমাদের কাছে সুমির মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে সুমির মরদেহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।