রাস্তায় স্ত্রীকে নির্যাতন

../news_img/58287 mmm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ঘরে রান্নার চাল নেই। তাই স্বামীকে খুঁজতে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন স্ত্রী। আর এ কারণে পথচারীদের সামনে নির্মম নির্যাতনের শিকার হলেন এক স্ত্রী। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এমসিবাজার এলাকায় শনিবার বেলা ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। পথচারীদের অনেকেই এই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি।

ওই স্বামী হলেন ইব্রাহিম মিয়া (৩৬)। তিনি উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি (আলী হালিরবাড়ি) গ্রামের ফজলুল হক ফজলুর ছেলে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম ফরিদা বেগম (৩৪)। তিনি উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের যুগিরসীট গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে। এ ঘটনায় বিকেলে ফরিদা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় ইব্রাহীমসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক আবদুল জলিলের তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন ফরিদা বেগম। জলিল মারা যাওয়ার সম্পর্কে তাঁর ভাই ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন ফরিদা। ফরিদা ইব্রাহিমের দ্বিতীয় স্ত্রী। সম্প্রতি ইব্রাহিম মৌরি নামের আরেক মেয়েকে বিয়ে করেন। ফরিদা মৃত স্বামীর ঘরের তিন সন্তানসহ ওই স্বামীর বাড়িতেই বাস করছেন। ইব্রাহিম পেশায় ট্রাকচালক। তিনি এ পর্যন্ত মোট তিনটি বিয়ে করেছেন। প্রায়ই স্ত্রীদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নির্যাতনের শিকার ফরিদা ঘরের জানালার গ্রিল ধরে কাঁদছেন। এ সময় তাঁর স্বামী ইব্রাহিম বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। সংবাদকর্মী এসেছে শুনে ইব্রাহিম এগিয়ে এসে বলেন, ‘আপনাদের যা করার করেন, আমার বড়জোর জেল হবে, হোক।’

স্বামীর অগোচরে বাইরে এসে ফরিদা বেগম জানান, সম্প্রতি মৌরিকে বিয়ে করার পর থেকে তাঁর ওপর নির্যাতন বেড়ে গেছে। ফরিদার সংসারের বাজার খরচ দিচ্ছেন না। শনিবার ঘরে রান্নার চাল না থাকায় তিনি স্বামীকে খুঁজতে এমসিবাজার এলাকায় যান। সেখানে ইব্রাহিম তাঁকে দেখেই ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। স্বামীর কাছে চাল কিনে দেওয়ার কথা তুলতেই তাঁর ওপর চরম নির্যাতন করা হয়। চুলের মুঠি ধরে টেনে রাস্তার ওপর নিয়ে এসে রিকশায় তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন ইব্রাহিম। রিকশায় উঠতে দেরি হওয়ায় আবারও চুলের মুঠি ধরে ধাক্কা দিয়ে রিকশার পাটাতনে ফেলে দেন। সেখানে ফেলে তাঁর শরীরে, পিঠে লাথি মারতে থাকেন ইব্রাহিম।

ইব্রাহিম মিয়া মারধরের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর স্ত্রী খুব রাগী প্রকৃতির। যেকোনো বিষয়ে দ্রুত উত্তেজিত হয় পড়েন। সকালে তাঁর স্ত্রী এমসিবাজার এলাকায় গিয়ে তাঁকে গালাগাল দিলে তিনিও রাগান্বিত হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর স্ত্রীর হাত ধরে তিনি রিকশায় উঠিয়েছেন। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও দেখালে তিনি চুপ থাকেন।

এদিকে বিকেলে ফরিদা বাদী হয়ে ইব্রাহিমসহ পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইব্রাহিমের তৃতীয় স্ত্রী মৌরী (২৫), মৌরির ছোট বোন ফারজানা (২২), নাছরিন(২০) এবং মৌরির মা জামিলা (৫০)।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।