পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘মা’

../news_img/ma.jpg

আজ মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার, বিশ্ব মা দিবস। সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজকের এই দিনে বাংলাদেশেও পালিত হয় দিবসটি। পৃথীবির সবচেয়ে ছোট এবং মধুর শব্দটি হলো মা। সবচেয়ে আপন হলো মা।

মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই/মায়ের চেয়ে নাম যে মধুর, ত্রিভুবনে নাই। কালে কালে একটি কথাই চিরায়ত সত্যিতে পরিণত হয়েছে, আর সেটি হচ্ছে- পৃথিবীতে মা শব্দের চেয়ে অতি আপন শব্দ আর দ্বিতীয়টি নেই। ছোট বেলায় বেঁচে থাকার একমাত্র অলম্বন হচ্ছে মা।

মায়ের গর্ভ থেকে শুরু করে জম্মের পরেও তীল তীল করে নাড়ি ছেঁড়া ধনকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে বড় করে তোলেন মা। মা, এক শর্তহীন ভালোবাসার নাম, ভালোবাসার সবটুকু দিয়েও এ ঋন শোধ করা যাবে না।

পৃথিবীতে ছোট শিশুটি প্রথম যে শব্দটি বলতে শেখে তা হলো মা। মা উচ্চারণের সাথে সাথে মায়ের হৃদয়ে যে আবেগ ও অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাতে অনাবিল প্রশান্তি নেমে আসে মায়ের মনে।

মা, মা-ই তার সঙ্গে কারো তুলনা হয়না। যখন সব হারিয়ে যায়, বিপদে-আপদে, দুঃসময়ে সবাই যখন দূরে সরে যায়, সবার মায়া-মমতা আর সেবা যখন থেমে যায়, তখন একজনই থাকেন অবশিষ্ট সে হলো আমাদের মা। তাই পৃথিবীতে মা সবার উপরে। কবির ভাষায়, ‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেন ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।’

মনের মাঝে সর্বোচ্চ আসনটি মায়ের জন্য বরাদ্দ থাকলেও কর্মব্যস্ত জীবনে কখনও মুখ ফুটে বলা হয়নি বা জানানো হয়নি মাকে কতোটা ভালোবাসি। আজ মাকে মন খুলে সেই ভালোবাসা জানানোর দিন।মায়ের গলা জড়িয়ে আজ সন্তানরা বলতে পারেন মা আমি তোমাকে বালোবাসি। মা সম্পর্কে একটি ছোট হাসিদ: এক ব্যক্তি হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর নিকট এসে জানতে চাইল

কে তার কাছে বেশি সেবা পাবার হকদার। রাসূল (সা:) বললেন ‘তোমার মা’। লোকটি একই প্রশ্ন তিনবার করলো। আর রাসূল (সা:) তিনবারই বললেন ‘তোমার মা’। তবে চর্তুথবার একই প্রশ্ন করলে রাসূল (সা:) তার বাবার কথা বললেন।

মা দিবসের ইতিহাস: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো আজ বাংলাদেশেও দিবসটি নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালন করা হবে। মা দিবস প্রথম উদযাপিত হয় গ্রিস ও রোমে। প্রাচীন গ্রিকরা তাদের দেবতা গ্রিককের মা রিয়ার সম্মানে উদযাপন করতো বসন্ত উত্সব। ১৬ শতকে যুক্তরাজ্যে 'মাদারিং সানেড' নামে একটি দিবস পালিত হতো; যুক্তরাষ্ট্রে এ দিবসটি প্রচলন হয় শান্তিকামী জুলিয়া ওয়ার্ড হোর উদ্যোগে ১৮৭২ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্বীকৃতি ও প্রসার ঘটে ১৯১৪ সাল থেকে।

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। পত্রিকাগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।