‘যেভাবে পারেন চাল আনেন, দাম কমান’

../news_img/55647mmri iu.jpg

মৃদুভাষণ  ডেস্ক::যেভাবেই হোক চালের দাম কমাতে হবে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, ভারত থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানি করতে আমি নিজে কথা বলবো।

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় চাল বাজারের অস্থিরতা নিয়ে সচিবালয়ে মিল মালিক, আমদানিকারক ও আড়তদারদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি ব্যবসায়ীদের এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যে যেভাবে পারেন চাল আনেন। আমি এনবিআর ও কাস্টমসকে বলে দিচ্ছি। কেউ বাধা দেবে না।’

দীর্ঘ বৈঠকে চাল ব্যবসায়ীরা আমদানিতে তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা জানান।তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। চাল ব্যবসায়ে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘চাল আমদানিতে চটের বস্তা ব্যবহারে সরকারি বাধ্যবাধকতায়ও খরচ বাড়ছে। চটের বস্তায় চাল আমদানি করলে প্রতি কেজিতে এক টাকা খরচ বাড়ে। আর প্লাস্টিকের বস্তায় খরচ হয় মাত্র ১৫/১৬ পয়সা। যদি চটের বস্তা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করা হয় তবে আমদানিতে প্রতি কেজি চালের দাম দুই টাকা কমবে।’

ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো তাৎক্ষণিক মেনে নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চাল সংকট নিরসনে চটের বস্তায় চাল আমদানির সরকারি বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্ত আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারত থেকে সরকারিভাবে কীভাবে চাল আমদানি করা যায় এ ব্যাপারে সরকার ভাবছে। এ ছাড়া চালের ট্রাক আটকে থাকার জটিলতা নিরসনে ট্রেনে করে চাল আমদানি করা যায় কি না এ ব্যাপারেও সরকার ভাবছে।’

বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘চালের দাম কমাতে উপজেলা পর্যায়ে ওএমএস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে সরকারের খাদ্যবান্ধব যে কর্মসূচি রয়েছে তা আপাতত বন্ধ থাকবে।’

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও খাদ্য সচিব মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক পক্ষের সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী, অপর গ্রুপের খোরশেদ আলম খান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানসহ বিভিন্ন চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত সপ্তাহ হতে খুচরা বাজারে মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, আঠাশ চাল ৫২-৫৩, মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৫ ও বাসমতী ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে আসছিল। তবে গেলো কয়েকদিন ধরে সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানের চালের আড়তে অভিযান চালিয়েছে। পাশাপাশি ভারত, মিয়ানমার, ভিয়েতনামসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে চাল আমদানির কথা বলছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি চালে ২ থেকে ৫ টাকা কমেছে।