রংপুরে বাহাই সম্প্রদায়ের নেতাকে গুলি

../news_img/711.jpg

মৃদুভাষণ  ডেস্ক:  রংপুর শহরে বাহাই সম্প্রদায়ের এক নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত। গুলিবিদ্ধ রুহুল আমিন (৪৪) রংপুর বাহাই কেন্দ্রের পরিচালক এবং রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।

জানা গেছে, গতকাল সকালে রুহুল আমিন রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের আইডিয়াল মোড় নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে হাসপাতালে ডিউটিতে আসছিলেন। বাড়ির কিছুদূরে আগে থেকে একটি মোটরসাইকেলে তিন যুবক দাঁড়িয়ে ছিল। রুহুল বাড়ির পাশের সড়কে আসা মাত্র তিন যুবকের দুজন কাছে এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরপর দুটি গুলি করে রুহুলকে লক্ষ্য করে। একটি গুলি রুহুলের গলায় বিদ্ধ হয় এবং অন্যটি পাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর আগে থেকে স্টার্ট দেয়া ওই মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। রুহুল ও তার স্ত্রীর চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে দ্রুত তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে এক ঘণ্টা ধরে চলে অপারেশন। অপারেশনে গুলি বের করতে না পারায় এবং রুহুলের অবস্থার শারীরিক অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তাকে গতকালও ঢাকায় আনা হয়নি। আজ সোমবার সকালে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে  এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে। বর্তমানে রুহুল আমিন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান নয়ন এবং রায়হান কবিরকে আটক করে। তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও মোটরসাইকেল এবং পিস্তল উদ্ধারে পুলিশ, র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে অভিযান শুরু করেছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার আবদুর রাজ্জাক জানান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে রুহুল আমিন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। এ ছাড়া অন্যকোন কারণ রয়েছে কী না তাও আমরা খতিয়ে দেখছি। পুলিশ সুপার আরও জানান, কোন রাজনৈতিক কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। রুহুল বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা হলেও ওই সম্প্রদায়ের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি  এটা অনেকটা নিশ্চিত।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. পরিতোষ চন্দ্র দাস গুপ্ত জানান, একটি গুলি রুহুলের গলায় বিদ্ধ হয়। গুলিটি ভেতরেই রয়েছে। এ ধরনের অপারেশন জটিল। এ জটিল অপারেশনের জন্য যেসব সরঞ্জামাদি প্রয়োজন তা আমাদের হাসপাতালে নেই। তাই রুহুল আমিনকে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।  কী কারণে তাকে গুলি করা হয়েছে তা তিনি বলতে পারছেন না।