কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া ও মাগুড়ছড়া থেকে খাসিয়াদের স্থান্তরের সিদ্ধান্ত

../news_img/39667   mri nu i i oo.jpg

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়ার ন্যাশনাল পার্কের লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়ায় বসবাসকারী খাসিয়া পুঞ্জির লোকজনকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাসিয়া পুঞ্জিতে অবস্থানকারীদের বনের মধ্যের কোর জোন থেকে সরিয়ে বাফার জোনে নেওয়ার বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ সূত্র। বাফার জোনে স্থানান্তর করার বিষয়ে সমীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে। জায়গা দেখা শেষ হলেই খাসিয়া পুঞ্জির সদস্যদের সাথে আলোচনা ক্রমে স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে। খাসিয়া পুঞ্জি স্থানান্তরে প্রাথমিকভাবে বাফার জোন কালাছড়া ও চাউতলির বিষয়ে সক্রিয় বিবেচনা করা হচ্ছে। খুব শ্রীঘই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
 
সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দে জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবীর বিন আনোয়ার। ওই বৈঠকে লাউয়াছড়ার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোর জোনে থাকা লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়া পুঞ্জি স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বৈঠকে বলা হয়েছে, পুর্নবাসনে যা অর্থের প্রয়োজন, সব দেওয়া হবে। তিনি আরো জানান,অক্টোবর মাসে লাউয়াছড়ায় অনুষ্টিত সিএমসির বৈঠকে ও বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

বন বিভাগ সুত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে ভিলেজার হিসেবে ৬৩ টি পরিবারকে জমি লিজ দেওয়া হয়। সেই সময়ে ৪০টি পরিবারকে ৮ নম্বর কম্পাটমেন্টে আর ২৩টি পরিবারকে ২ নম্বর কম্পাটমেন্টে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রত্যেক পরিবারকে আড়াই একর করে আর ২ পুঞ্জির ২ হেডম্যানকে সাড়ে ৪ একর করে জমি লিজ দেওয়া হয়। যা দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করার কথা ছিল। বন বিভাগের হিসেব অনুসারে মাত্র ১৬১.৫ একর জমি লিজ দেওয়া হয় খাসিয়াদের। কিন্তু খাসিয়ারা ঠিক কতোটুকু জায়গা দখল করে রেখেছেন তার হিসেবে নেই খোদ বন বিভাগের কাছেও। অন্যদিকে খাসিয়াদের যে লিজও প্রতি বছর নবায়ন করার কথা। যথারীতি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে আর নবায়নের অনুমোদন দেয়নি বন বিভাগ।

লাউয়াছড়া পুঞ্জির মন্ত্রী পিটিশন জিডিশন প্রধান সুচিয়াং বলেন, আমরা আদি কাল থেকে এখানে অবস্থান করে আসছি। এই বন সৃষ্টির পেছনে আমাদের অবদান অনেক বেশি। পুঞ্জি স্থানান্তরের বিষয়ে আমরা এখনও কিছু জানি না। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই আপত্তি থাকবে আমাদের। আমরা আশা করবো, সরকার অবশ্যই আমাদের দিকটাও বিবেচনা করবে।

উল্লেখ্য যে ,খাসিয়ারা লাউয়াছড়া ও মাগুড়ছড়া বনে পান চাষ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে পান চাষের পরিধি বৃদ্ধি সহ নির্বিচারে বনের মধ্যের গাছের ডাল-পালা সহ ঝোঁপ-জঙ্গল পরিস্কার করার কারনে বন্যপ্রানীর জীবন বিপন্ন সহ প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন হয়েছিল।