কমলগঞ্জে হরিণ ও হনুমানের মৃত্যু

../news_img/41376 m mrinu n i k.jpg

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবস্থানরত বন্যপ্রাণির মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। রেল ও সড়কপথে আর বৈদ্যুতিক লাইনে পৃষ্ট হয়ে বছরে শত শত প্রাণির মৃত্যু ঘটছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় আবারও ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে একটি মায়া হরিন ও  মাধবপুর এলাকায় বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে কালো চশমাপড়া হনুমানের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। বৃহষ্পতিবার ভোরে লাউয়াছড়ার গেইট সংলগ্ন ও মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা নামক স্থানে এ দুই বন্য প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে কোন এক সময় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ২৯৪/৭ নং পিলারের কাছে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে একটি মায়া হরিনের মাথা শরীর থেকে বিছিন্ন অবস্থায় রেল লাইনের উপরে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় খাসিয়ারা। বিষয়টি বনবিভাগকে খবর দিলে  লাউয়াছড়া বিট কর্মকর্তা রেজাউল করিম মৃত মায়া হরিনটি উদ্ধার করেন। অপর দিকে একই দিনে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা নামক এলাকায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে লোকালয়ে বেড়িয়ে আসা একদল কালো চশমাপড়া হনুমান সকাল ১০টায় খাবারের সন্ধানে ছুটাছুটি করার সময় একটি পুরুষ হনুমান ১১ কেভি বৈদ্যুতিক লাইনে পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ সময় হনুমানের বুক ও হাত ঝলসে যায়।  পরে এলাকাবাসী আহত হনুমানকে উদ্ধার করে লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী বিভাগকে খবর দেন। বনবিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই হনুমানটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃত দুই বন্যপ্রাণী মায়া হরিন ও হনুমানকে ময়না তদন্তের জন্য শ্রীমঙ্গল প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের প্রেরণ করা হয়।

লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী ও ব্যবস্থাপনা প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক কর্মকর্তা তবিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই ঘটনা দু’টির জন্য বন্যপ্রাণি বিভাগ মর্মাহত। ইতিপূর্বেও যানবাহনের চাকায় পৃষ্ট হয়ে একাধিক প্রাণির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক মাসে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় ২০টি প্রাণি মারা গেছে।