কমলগঞ্জে ময়না তদন্ত শেষে মৃত হরিণ ও হনুমানকে মাটিচাপা

../news_img/41944 mri ni u.jpg

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যানের রেলগেট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত মায়া হরিণ এবং মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা এলাকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত চশমা পরা হনুমানের ময়না তদন্ত শেষে মাটি চাপা দেওয়া হয়। পাহাড়ি এলাকায় ট্রেনের দ্রুত গতিতে চলাচল ও মাধবপুর অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক লাইনই দুটি বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর কারণ বলে বন বিভাগের (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) দাবী। গত বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে কমলগঞ্জের পৃথক স্থানে এ দুটি ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যানবাহনের চাকায় পৃষ্ট হয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকার সড়ক ও রেলপথে একাধিক প্রাণির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক মাসে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় ২০টি প্রাণী মারা গেছে বলেও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ জানায়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্য প্রাণীর নিরাপত্তার কথা ভেবে বন বিভাগ জাতীয় উদ্যানের ভিতরের কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল প্রধান সড়কটিও স্থানান্তর করার প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন বিভাগে প্রেরণ করেছে। জাতীয় উদ্যানের ভিতরের রেলপথও স্থানান্তর করা নিয়েও পরিবেশবাদীরা দাবী করছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ভোর ছয়টায় কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতরের রেল গেইট এলাকায় ভোরের দ্রুতগামী একটি ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে একটি মায়া হরিণ মারা যায়। একই সময় আবার মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা এলাকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে একটি চশমা পরা হনুমানও মারা যায়।

বন বিভাগের (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) সহকারী বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো: তবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার ভোরে জাতীয় উদ্যানের রেলগেট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একটি মায়া হরিণ এবং কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনে পৃষ্ট হয়ে একটি চশমা পরা হনুমানের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, মৃত হরিণ ও চশমা পরা হনুমান উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গলের প্রাণী সম্পদ বিভাগের ভ্যাটেনারী সার্জন দ্বারা ময়না তদন্ত শেষে জাতীয় উদ্যানের জাকনিছড়া এলাকায় মাটি চাপা দেওয়া হয়।

লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, এ দুটি প্রাণীর মৃত্যুর জন্য পাহাড়ি এলাকায় দ্রুতগতিতে ট্রেন চলাচল ও মাধবপুরে অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক লাইনই দায়ী। তিনি আরও বলেন, দিনের বেলায় বনাঞ্চলে অধিকহারে যানবাহন চলাচল ও লোক চলাচলে বন্যপ্রাণী এখন রাতে চলাচল করে থাকে। আর রাতে চলাচলকালে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মায়া হরিণটি মারা গেছে ও সড়কপথে বন্য প্রাণী মারা যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ের গণপূর্ত বিভাগের উর্দ্ধতন উপসহকারী প্রকৌশলী আলী আজম বলেন, বিধি মোতাবেকই পাহাড়ি এলাকায় আন্তনগর ট্রেন ৫০ কি:মি: গতিতে চলাচল করছে। তিনি আরও বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে লাউয়াছড়া পাহাড়ি এলাকায় ট্রেনের গতি কমতে পারে। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের ডিজিএম মোবারক হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার বিদ্যুতায়িত হয়ে চশমা পরা হনুমান মারা যাওয়ার কোন তথ্য তিনি জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছেন বলেও জানান তিনি।