নববর্ষের প্রত্যাশা

../news_img/43471 mrinu imm.jpg

স্যার ফজলে হাসান আবেদ :: 

আমরা ইতিমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের সারিতে উত্তীর্ণ হয়েছি। উন্নয়নের অন্যান্য সূচকে বাংলাদেশের অব্যাহত সাফল্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে। কিন্তু আমাদের আত্মপ্রসাদ লাভের কোনো সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে, দেশের তিন কোটি মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। তাদের দারিদ্র্যমুক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব না।
এ আমাদের এক পরম সৌভাগ্য যে বাংলাদেশ তরুণ সংখ্যাগরিষ্ঠ
একটি দেশ। এ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন যুবসমাজের অগ্রণী ও নেতৃস্থানীয় ভূমিকা। এই নববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার হবে, দেশের তারুণ্যের শক্তিকে সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে উদ্যোগী ভূমিকায় অবতীর্ণ করে দেওয়া। নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমাদের তরুণদের অমিত প্রাণশক্তির পরিচয় আমরা নানাভাবে প্রকাশিত হতে দেখছি। সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তারা আরও বহুমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় যুক্ত হোক। এর মাধ্যমে প্রত্যেকে একেকজন সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। তারুণ্যের শক্তিতে এগিয়ে যাক আমাদের দেশ।

বিগত বছরটিতে উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে ব্র্যাক সফলতার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষত অতি দরিদ্রদের জন্য আমাদের কর্মসূচি অতি দারিদ্র্যের অভিশপ্ত আবর্ত থেকে বিপুল জনগোষ্ঠীকে বের করে আনতে সমর্থ হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। এর বাস্তবায়নে আমরা অবশ্যই সরকারের পাশে থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করব।

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ: প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন, ব্র্যাক