বড়লেখার হাকালুকি পাড়ে দু’দিন ব্যাপী মাছের মেলা শুরু

../news_img/44458 mri ni ui k.jpg

লিটন শরীফ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :: কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে চারপাশ। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কনকনে হাওয়ায় ভর করে বাড়ছে শীত। বৃহস্পতিবার রাত তখন সাড়ে ৭টা। এমন হিমঝরা রাতে লেপ-কাঁথার মধ্যে না ঢুকে চাদর-মাফলারে কান-মাথা মুড়ে রীতিমতো উৎসব করে সবাই যাচ্ছেন হাকালুকি হাওর এলাকার কানোনগো বাজার হাসপাতাল মাঠে।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কানোনগো বাজার হাসপাতাল মাঠ। পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে প্রথমবারের মতো বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) থেকে সেখানে বসেছে দু’দিন ব্যাপী মাছের মেলা। চলবে (১৩ জানুয়ারি) শুক্রবার রাত পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস। 

মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে বিক্রেতারা বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, কালি বাউশ, আইড়মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ নিয়ে বসেছেন। বৈদ্যুতিক বাতি আর কুপির আলোয় ঝলমলে বড় বড় রুই-কাতলা আর চিতল-বোয়ালের রুপালি শরীর। খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে শীতের রাতে সরগরম হয়ে উঠে কানোনগো বাজারের হাসপাতাল মাঠে।

প্রথমবারের মতো মাছের এ মেলায় কেনার চেয়ে দেখার জন্য ভীড় করছেন অনেকেই। তবে প্রথমদিন মেলায় মাছের বিকি-কিনি বেশ ভালো না হলেও শেষদিন জমবে উঠবে বলে বিক্রেতারা আশা করছেন।

বড়-বড় রুই-কাতল ও চিতল মাছ নিয়ে বসে ছিলেন আব্দুল খালিক নামের এক বিক্রেতা। স্থানীয় ব্যবসায়ী কাওছার হামিদ প্রায় ২০ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছের দাম জানতেই তিনি হাঁকলেন ২৬ হাজার টাকা। পাশে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন ২০ হাজার টাকা। মাছের এমন দাম শুনে কাওছার হামিদ-ই নন অনেকেরই চোখ ছানাবড়া অবস্থা দেখে মাছ বিক্রেতা খালিক বললেন, ‘ভাইসাব চিন্তার কোন কারণ নাই ইতা মাছ রাইত (রাত) ১২ টার আগে বেচি লাইমু (বিক্রি করবেন)।

তালিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস বলেন, ‘প্রথমবারের মতো মাছের মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠেছে। প্রথমবার তো তাই বিকি-কিনি একটু কম। তবে শেষ দিনে মেলা জমে উঠবে।’