আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট পশ্চিমপাড়ের মিয়া বাড়িটি এখন পাখিদের বাড়ি

../news_img/45722 mri nu.jpg

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :: আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে পয়সারহাট পশ্চিমপাড় বাসস্ট্যান্ডের উত্তরপাশে মিয়াবাড়ির অবস্থান। গত চারবছর আগেও এলাকার যে কারও কাছে মিয়াবাড়ির অবস্থান জানতে চাইলে বাসস্ট্যান্ডের উত্তরপাশের বাড়িটি দেখিয়ে দিত। তবে এখন ওই বাড়িটি  ‘পাখির বাড়ি’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি উপজেলায়ও ছড়িয়ে পরেছে এই পাখির বাড়ির কথা। সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত করা হয়েছে এই বাড়িটি। পাঁচ একর আয়তনের বাড়িতে প্রায় চারহাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছে রয়েছে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আগত অতিথি পাখিদের বসবাস।

বাড়ির ভেতরে গেলে বুনো হাঁস, পানকৌড়ি, নিশিবক, সাদা বক, লাল বক, মাছরাঙা, ডাহুক, ঘুঘু, সরালি, কুদালীসহ শীতপ্রধান সাইবেরিয়া থেকে আসা নাম না জানা পাখিদের দেখা মিলবে। পাখির বাড়ির মালিক মরহুম আ. রশিদ মিয়ার ছেলে পাখিপ্রেমী রাসেল মিয়া জানান, প্রতিবছর শীত মৌসুমের শুরু থেকেই তাদের বাড়ির পাশের বিশাল জলাবদ্ধ চাষের জমিতে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত এ সকল পাখির দেখা মেলে। দেশি প্রজাতির পাখির সঙ্গে শীতের সময় ঝাঁকে ঝাঁকে আসে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি ।

সারাদিন দল বেঁধে পাশের জলাশয়ে খাবার খায় পাখিরা। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই রাত্রিযাপনের জন্য বিলের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বিল ও জলাশয় থেকে পাখিরা এসে আশ্রয় নেয়  তাদের বাড়ির বড় গাছের মগডালসহ নিরাপদ ঝোঁপঝাঁড়ে। আবার ভোর হলেই আবার খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন বিলে চলে যায় তারা। তিরি আরও জানান,  প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিকারীদের শিকার, যান্ত্রিক শব্দ ও মনুষ্যসৃষ্ট বিরূপ পরিবেশের কারণে এলাকায় এখন আর আগের মত পাখির বিচরণ দেখা যায়না। তারপরেও গত চারবছর ধরে মিয়াবাড়িতে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন জাতের হাজার হাজার পাখি। প্রতিবছর শীতমৌসুমের শুরুতেই তাদের বাড়িতে ঝাঁক বেঁধে আসা শুরু করে পাখি। বাড়ির উঁচু গাছে দল বেঁধে থাকতে শুরু করে পাখির দল। রাসেল জানান, শীতমৌসুমে পাখিদের আসা শুরু হলে তা শিকারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পরে শিকারীর দল। প্রকাশ্যে ও লুকিয়ে নির্বিচারে চলে পাখি নিধন।
তিনি জানান, শিকারীদের হাত থেকে পাখিদের রক্ষা করতে দীর্ঘ কয়েক মাস দিনের বেশিরভাগ সময়ই বাড়িতে বা বাড়ির আশপাশের এলাকায় অবস্থান করতে হচ্ছে তাকে। কাজের জন্য কোথাও গেলে শিকারীদের হাত থেকে পাখিদের বাঁচাতে নিজস্ব দু’জন লোককে পাহারা দেয়ার দায়িত্ব  দেন। পাখিপ্রেমী রাসেল মিয়া জানান, নিজ উদ্যোগে পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত করেছেন বাড়িটিকে। ইচ্ছে আছে পুরো গ্রামটিকে পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত করার। তবে সরকারি সহযোগিতা বা পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া তার একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের স্বার্থে অতিথি পাখি রক্ষায় সরকারসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বাণ জানান তিনি। আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশুতোষ রায় জানান, তিনি একমাস আগে এখানে বদলি হয়ে এসেছেন। এব্যাপারে কিছুই জানেন না। তবে খোঁজখবর নিয়ে পাখিদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।