ছাতক ও দোয়ারাবাজার সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে

../news_img/46682 mri nu i.jpg

চান মিয়া, ছাতক (সুনামগঞ্জ)::  ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাস্তা-ঘাট, ফসলী জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্টানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরমা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো পরিবার। গত ১২ফেব্রুয়ারি পানি সম্পদ মন্ত্রী বরাবরে ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও ছাতকস্থ জাবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম ও কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও হরিশপুরের সাবেক মেম্বার নূরুল হকের দেয়া আবেদনকে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক বরাবরে প্রেরণ করেছেন। আবেদনে বলা হয়, ছাতকের কালারুকা ইউপির মক্তিরগাঁও, পৌরসভার বৌলা, দোয়ারাবাজার উপজেলার নইনগাঁও, মাঝেরগাঁও, মাছিমপু, মুরাদপুর, মাষ্টারপাড়া, আমবাড়িবাজার, কাটাখালীবাজার, সোনাপুর, নূরপুরসহ সুরমা নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, স্কুল, মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। বিশেষ করে মুক্তিরগাঁও-ছাতক সড়ক দিয়ে মুক্তিরগাঁও আটগ্রামসহ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পারকুল, টুকেরগাঁও, শিবপুর, পুটামারাসহ অন্যান্য গ্রামের লোকজন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। কিন্ত‘ এসড়কটি সুরমার ভয়াবহ ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ায় এ সড়কে প্রায় ৬মাস থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক দফতরগুলো নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।

২০১৬সালের ২১নভেম্বর ও ২০১৩সলের ২১অক্টোবর সিলেট বিভাগীয় কমশিনার বরাবরে নদী ভাঙ্গনরোধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে পৃথক দু’টি আবেদন করা হয়। ২০১৩সালের আবেদন করেন হরিশপুর গ্রামের মানিক মিয়া ও বৌলা গ্রামের জয়নাল আবেদীন রফিক। এটি সুনামগ জেলা প্রশাসকের (এসএ) শাখা ছাতক উপজেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে একটি তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এর সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার স্মারক নং০৫.৬০.৯০০০.০৮.১২.১২১.১৩-৩১৬২(২), তাং ১৪.১১.২০১৩ইং ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের স্মারক নং-১৮৯৮, তাং ১৭.১১.২০১৩ইং মুলে মুক্তিরগাঁও ও বৌলা এলাকায় সুরমা নদীর ভাঙ্গনের ব্যাপারে বলা হয়, ছাতকের ২১৯নং জেএলস্থিত পূর্ব কামারগাঁও মৗজা ও ২২৫নং জেএলস্থিত নিজগাঁও মৌজার নদীর তীরবর্তী ফসলী জমি ভেঙ্গে ধীরে ধীরে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এক্ষেত্রে নদীর ভাঙ্গন রোধ করা একান্ত আবশ্যক। এছাড়া টুকেরগাঁও গ্রামের চরজাগা অংশ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন ভূমি। যাহা খনন করা হলে এলাকাবাসীর মতে বিভিন্ন প্রতিষ্টান ও ফসলী জমি রক্ষা পাবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পরে ২০১৪সালের ১৬জুন জেলা প্রশাসক মহোদয় এ প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে প্রেরণ করলে এর কোন অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি পানি সম্পদ মন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক বরাবরে প্রেরণ করেছেন। মন্ত্রী মহোদয়ের দেয়া নির্দেশ যেন কালের গর্ভে বিলীন হয়ে না যায় এ প্রত্যাশাই করছেন এলাকাবাসী।