নবীগঞ্জের নৌপথ শুকিয়ে যাওয়ায় নদী বন্দর অচল : ৫০ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা বঞ্চিত

../news_img/46717 mri nu i

এম,এ,আহমদআজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) ::  কুশিয়ারা, বরাক, সুটকি, রতœা, বিবিয়ানা, হাতিমারা ও ফিংলী নদীর সংস্কার এবং পুনর্খননের অভাবে প্রায় ২শ’ মাইল নৌপথ শুকিয়ে যাওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ৫০টি নৌবন্দর অচল হয়ে পড়েছে। ফলে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন ভাটা পড়েছে, তেমনি করে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৫০ হাজার হেক্টর জমি। ১০ হাজার নৌকার মাঝি বেকার হয়ে পড়েছেন। নদ-নদীতে ডুবোচর ও পানি অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পাওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার নৌপথগুলো হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। নদীপথে পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার নৌযোগাযোগ দারুণভাবে বিঘিœত হচ্ছে। কুশিয়ারার পানি দ্রুত হ্রাস, নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে ফেরি লঞ্চ চলাচল প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। কুশিয়ারার টানিং চ্যানেলে ডুবোচর ও নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল দারুণভাবে বিঘিœত হচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগকারী নৌযোগাযোগব্যবস্থা।

টিপাইমূখ বাঁধের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এবং প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মরুভূমিতে পরিনত হয়েছে।  ব্যাপকভাবে পলি পড়ায় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এসব নদী নাব্যতা হারাচ্ছে।  দীর্ঘদিনেও এসব নদ-নদী পুনর্খননের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। অথচ প্রতি বছর ড্রেজিংয়ের নামে অপরিকল্পিতভাবে কোটি টাকা খরচ হলেও নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পায়নি; বরং দিন দিন নদীর নাব্যতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যার প্রমাণ শেরপুর,ইনাতগঞ্জ ও রানীগঞ্জ নদীবন্দর তিনটি। এ বন্দর তিনটিই এককালে নৌবাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। বর্তমানে ইনাতগঞ্জ ও রানীগঞ্জ নদীবন্দর সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।  এছাড়াও বরাক, সুটকি, রতœা,বিবিয়ানা,হাতিমারা ও ফিংলী প্রায় ৭০ ভাগ নৌপথ শুকিয়ে চর জেগে ওঠায় এ ৫টি নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে জনবসতি। যে কারণে বিলুপ্ত হয়ে গেছে শত বছরের এ অঞ্চলের পাট ও পাটজাত দ্রব্যের আমদানি ও রফতানি ব্যবসা।

প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদ-নদীর উৎসমুখে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ক্রমেই নদীগুলো শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়। এসব নদীগুলোর প্রায় একশ’ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জেগে উঠেছে খগু খগু চর ও ডুবোচর। প্রায় ৫০ মাইল দীর্ঘ বিবিয়ানা নদ ভরাট হয়ে যাওয়ায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ ইনাতগঞ্জ ও রানীগঞ্জ নদীবন্দর ব্যবসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু বিবিয়ানা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্বাধীনতার পর থেকে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যের জৌলুস ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, যা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নিম্ন বরাক নদের ২০ কিলোমিটার এলাকা শুকিয়ে যাওয়ায় জেলার এ উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। ১৯১২ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার সদর উপজেলার ৮০ হাজার একর জমির সেচ সুবিধার জন্য এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে তৎকালীন নিম্ন এসব নদীর উৎসমুখে ৫টি লকগেট নির্মাণ করে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় লক গেটগুলো অচল হয়ে পড়ে। কুশিয়ারা, বরাক, সুটকি, রতœা, হাতিমারা ও ফিংলী নদীর ৫০ কিলোমিটার এলাকা শুকিয়ে যাওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার ৫০ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবার আশংকা রয়েছে। ফলে কৃষকদের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা। এছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে খাল, বিলের উৎসমুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে হ্রাস পাওয়ায় কয়েক হাজার হেক্টর জমি সেচের অভাবে চাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 এব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এড.আলমগীর চৌধুরী বলেন, আমরা নবীগঞ্জের ভরাটকৃত নদী নিয়ে চরম উবিগ্ন। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা এব্যাপারে  ব্যবস্থা নিবেন।

 এব্যাপারে  নবীগঞ্জ বাহুবল এলাকার সংসদ সদস্য এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, আমি কয়েকটি নদীর নব্যতা হারানোর জন্য তা পুনঃ খননের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীকে ডিও লেটার প্রদানন করেছি। আশা করি এসব নদীর খনন কাজ অচিরেই শুরু হবে।