ধর্ষক যখন ধনীর দুলাল পুলিশের ভূমিকা হোক যথার্থ

../news_img/64900_noim.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক:: গত ২৮ মার্চ রাতে রাজধানীর বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি‘ হোটেলে পূর্ব পরিচিত সাফাত আহমেদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাতভর ধর্ষণের শিকার হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছিলো প্রায় মাসখানেক আগে। ধর্ষকদের হুমকির ভয়ে এবং লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষিতা ছাত্রীরা মাসখানেক পর থানায় মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে চায় নি। তারপর মামলা আমলে নেয়ার ৫ দিন পরেও ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় নি পুলিশ। পত্রিকার বিবরণে এসেছে যে, ধর্ষক ধনীর দুলাল, এ জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা কঠিন। তার বাবা ঢাকার এক বিরাট জুয়েলারির মালিক। বাংলাদেশের ধনীরা তাদের আলাল-দুলালদের শাসনে রাখেন না। সমাজকে কলুষিত করে যাচ্ছে এই সব ধনীর দুলালরা। এদের দাপটে সমাজ রসাতলে যাচ্ছে, নৈতিক ছাদ ধসে পড়ছে ধূলা-মাটিতে। শোনা যাচ্ছে টাকার দাপট খাটিয়ে ধর্ষক সাফাত আহমেদ পালাতে সক্ষম হয়েছে। পালাবার ছিদ্রটা পুলিশই তৈরি করে দিয়েছে। এরপর পুলিশ হাঁকডাক দিয়ে বলছে, ধর্ষকরা যত প্রভাবশালীই হোক, তারা ধরা পড়বেই। কিন্তু পুলিশ যথার্থ ভূমিকা নিলে অভিযোগ পাওয়া মাত্র সাফাত ও সাঙ্গপাঙ্গদের গ্রেপ্তার করতে পারতো। একটি সহযোগী দৈনিকে অভিযোগ উঠেছে যে, পুলিশ ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ধর্ষকদের সটকে পড়ার সুড়ঙ্গ তৈরি করে দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এ সব অভিযোগ যথারীতি অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে এ কথা মানতে হবে, ‘সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।‘ ধর্ষককে যদি পালাবার সুযোগ দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে এখন চীৎকার দিয়ে আসামী ধরার ব্যাপারটা লোক দেখানো। বিমানবন্দরে পাহারা বসানো হয়েছে, সতর্ক করা হয়েছে যেন আসামীরা বিদেশে পালাতে না পারে। এই পাহারা বসাবার আগেই টাকার পাখায় ভর দিয়ে সাফাত ও তার সঙ্গীরা পালিয়েছে কিনা পুলিশ সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারে নি। বনানীর যে হোটেলে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে সাফাত আহমেদ আরো আগে থেকেই আমোদ-ফূর্তি করতো। নানা অপকর্ম এবং অনুষ্ঠান করতো। হোটেল কর্তৃপক্ষ ধোয়া তুলসী পাতা নয়। তাদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। আজকাল হোটেলগুলোতে বিশেষ করে আবাসিক-অভিজাত হোটেলে অনেক কদাকার ঘটনাই ঘটছে। ঘটাচ্ছে টাকাওয়ালা-ধনীর দুলালরা। এ সব হোটেলগুলোর দিকে পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজর থাকা উচিত। কিন্তু তারা যদি মাসোহারা পেয়ে অভিজাত হোটেলগুলোর দিকে নজর না দেয় তাহলে সমাজে ক্রাইম শেকড় প্রসারিত করার সুযোগ পাবে। আরো দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, যেখানে টাকাওয়ালাদের দিকে পুলিশের চোঁখ থাকা দরকার কেননা অপকর্মটা তারাই করছে সেখানে পুলিশ টাকাওয়ালাদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে। এ খবর আমাদের বিবেককে যৎপরোনাস্তি বিচলিত করেছে যে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের কথা বলে বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে হোটেলে ডেকে এনে রাতভর ধর্ষণ করলো। এইসব ধনীর দুলালরা আগে থেকেই নানা অপকর্মে জড়িত। এর আগে সাফাত আহমেদ প্রেম করে এক মডেল কন্যাকে বিয়ে করেছিলো। সে বিয়ে পরিবার মেনে নেয় নি বলে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তারপর থেকে সাফাত ডিসপারেট হয়ে কদর্য, অশালীন ঘটনা ঘটিয়েই চলেছে। এর জন্য অনেক দায়ী ধর্ষক সাফাতের পিতা-মাতা এবং পরিবার। এই যে ডিসপারেট ছেলেকে শাসন করেন নি, তার অপকর্ম প্রশ্রয় দিয়েছেন, এর দায় বহন করতে হচ্ছে সমাজকে। যে দু’জন ছাত্রীকে ডেকে ইজ্জত কেড়ে নেয়া হলো, ওদের ভবিষ্যতটা কী দাঁড়াবে? ধর্মগুরুরা আজকাল বড়বেশি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এ জন্য তাদের কোনো ওয়াজ-নছিহতে জনগণ কর্ণপাত করে না। এ কারণে সমাজের অভ্যন্তরের শিরা-উপশিরায় চলছে প্রবল অনৈতিকতার স্রোত। কল্পনার চোঁখে ভেসে ওঠে সেই সব দানবদের ভয়ঙ্কর চেহারা যারা কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করে। এইসব ধর্ষকরা জঙ্গল থেকে উঠে আসেনি, তারা বসবাস করে মানবসমাজে। তারা এমনই বাজপাখি যে পুলিশ তাদের ধরতে পারে না। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ভাবছি যে, দেশ ও সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ করার উপায় কী? আমরা কি একটা নৈতিক স্খলিত সমাজে বসবাস করছি? না হলে প্রতিদিনের পত্রিকায় কেন নারী ধর্ষণ, কিশোরী ধর্ষণের খবর পড়বো? এ ক্ষেত্রে মেয়েদেরও সংযত, সতর্ক হয়ে চলার প্রয়োজন আছে। আমাদের মিডিয়ায় কিন্তু সংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে না। সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। আমরা চাই সাফাতের মতো ধর্ষকদের বিচার হোক।