মালয়েশিয়া ৩৫৪৬ বাংলাদেশির সেকেন্ড হোম

../news_img/53907mm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মালয়েশিয়ায় ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম’ (এমএমটুএইচ ) নামে বিশেষ কর্মসূচিটি চালুর পর থেকে  এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৪৬ বাংলাদেশি এ সুবিধা নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন।

বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে এমএমটুএইচের জাতীয় কর্মশালায় দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নাজরি আজিজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ২০০২ সালে বিশেষ কর্মসূচিটি চালুর পর থেকে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১২৬টি দেশের ৩৩ হাজার ৩০০ মানুষ এ সুবিধা নিয়েছে। সংখ্যার বিচারে এ তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচিতে অংশীদার হিসেবে সবার শীর্ষ স্থানে রয়েছে চীন; দেশটির আট হাজার ৭১৪ জন এই সুবিধা পেয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান; দেশটির চার হাজার ২২৫ জন এ সুবিধা নিয়েছে। আর তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশের তিন হাজার ৫৪৬ জন এই সুযোগ নিয়েছে।

এরপর যথাক্রমে যুক্তরাজ্য (দুই হাজার ৪১২ জন), ইরান (এক হাজার ৩৩৬ জন), সিঙ্গাপুর (এক হাজার ২৯৫ জন), দক্ষিণ কোরিয়া (এক হাজার ২৬৬ জন), তাইওয়ান (এক হাজার ২০৮ জন),  পাকিস্তান (৯৭৩ জন) ও ভারতের (৮৯০ জন) অবস্থান।

পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নাজরি আজিজ বলেন, সেকেন্ড হোম কর্মসূচির আওতায় অংশ নেয়া মানুষরা স্থাবর সুবিধা ও রাজস্ব হিসাবে মোট এক হাজার ২৮০ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ করেছে।

মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম প্রজেক্ট প্রথম চালু হয় ২০০২ সালে। প্রথমবার কোনো বাংলাদেশি সেকেন্ড হোমের জন্য আবেদন করেননি।

২০০৩ সালে প্রথমবার বাংলাদেশিরা আবেদন করেন। তখন থেকে এ পর্যন্ত মোট আবেদন করেছেন প্রায় ৮ হাজার ৩৫০ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে অনুমতি পেয়েছেন ৩৫৪৬ জন। 

সেকেন্ড হোম গড়ার পুরো টাকাই অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় নিয়েছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তবে কী পরিমাণ অর্থ মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত এমএমটুএইচ প্রোগ্রামে মালয়েশিয়ার ২৩৮টি এজেন্টের বাইরে অনুমোদিত এজেন্ট নেই।

কিন্তু দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় এমএমটুএইচের বাংলাদেশে সাব-এজেন্টের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এখন বিভিন্ন অনলাইন সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালটেন্ট লিমিটেড নামে এক সাব-এজেন্টের ওয়েব সাইটে দেখা গেছে, বিশ্বের তৃতীয় সাশ্রয়ী অবসরকালীন অভিবাসন সুবিধা মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম।

১০ বছরের নন-মালয়েশিয়ান ভিসার জন্য আবেদন করতে বাংলাদেশি ৫০ বছরের অনূর্ধ্বদের অ্যাকাউন্টে জমা থাকতে হয় ৫ লাখ রিঙ্গিত বা ১ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং মালয়েশিয়ার ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করতে হয় ৬৫ লাখ টাকা।

৫০-ঊর্ধ্ব বয়সীদের জন্য অ্যাকাউন্টে থাকতে হবে সাড়ে ৩ লাখ রিঙ্গিত বা ৭৫ লাখ টাকা। মালয়েশিয়ায় ফিক্সড ডিপোজিট করতে হবে ৩২ লাখ টাকা। তবে উভয় ক্ষেত্রে মাসিক আয় হতে হবে কমপক্ষে ২ লাখ ১২ হাজার টাকা।

মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে দেয়া তথ্যে জানা গেছে, যে কোনো দেশের নাগরিক মালয়েশিয়ার 'মাই সেকেন্ড হোম' প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজেন্সি মারফত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি এ প্রোগ্রামের সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে।

এছাড়া এজেন্টের মাধ্যমেও সেকেন্ড হোমের জন্য আবেদন করা যাবে। এ প্রোগ্রামে অনেকে আবার প্রতারণার শিকারও হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে ৩৩টি দেশের যৌথ কর পরিহার চুক্তি রয়েছে। এসব দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বা বাড়ি নির্মাণে যে কোন এক দেশে কর দিলেই হয়। এ সুযোগ নিয়ে অনেকেই কোনো দেশেই কর দেয় না। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একটি সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম নিয়েছেন এমন বাংলাদেশিদের ওপর নজরদারি চালিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সেকেন্ড হোমধারীদের অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মালয়েশিয়াতে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এনবিআর। গত বছরের শেষের দিকে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের যুগ্ম পরিচালক সাব্বির আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়।

ওই কমিটির কার্য পরিধি সংক্রান্ত এনবিআরের আদেশে বলা হয়, আয়কর না দিয়ে অবৈধভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার বা সেকেন্ড হোম নির্মাণ করেছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকৌশল নির্ধারণ করছে।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পাশাপাশি দুদকের এক উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ টিম সেকেন্ড হোম নেয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের এ দুই সংস্থার বাইরে ইমিগ্রেশন বিভাগের মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদি মালয়েশিয়ান ভিসাধারীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ওই তালিকা তৈরির পরই পুরোদমে কাজ শুরু করবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।

দুদক ও এনবিআর তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছে, এ সুবিধা পেতে মালয়েশিয়ার ব্যাংকে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা রাখতে হলেও এদেশের সুযোগ গ্রহণকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে নানা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কায় অনেকে সেকেন্ড হোম নিয়ে থাকেন। এ কারণে সরকার পরিবর্তনের সময়গুলোয় সেকেন্ড হোম প্রোগ্রামে আবেদনের হিড়িক পড়ে যায়।