হাবিবার বরের জন্য আস্ত খাসি-ইলিশ ভাজা!

../news_img/53913mm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::আজ শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসী হাবিবা আক্তারের আলোচিত বিয়ে। সকাল ৬টা থেকেই চলছে বরযাত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য রান্না-বান্নার কাজ। হাবিবার বর পুলিশ কনস্টেবল জাকারিয়া আলমের জন্য রান্না হচ্ছে এক আস্ত খাসি। সঙ্গে থাকছে আস্ত ইলিশ মাছ ভাজাও।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরকারি শিশু পরিবারে গিয়ে দেখা যায় বাবুর্চি বাবুল মিয়ার নেতৃত্বে চলছে হাবিবার বিয়ের অনুষ্ঠানের রান্নার আয়োজন। বাবুলের সঙ্গে কাজ করছেন আরও ৬ জন সহযোগী। পুরো কাজ তদারকি করছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজ উদ্দিন ভূইয়া ও পুলিশ পরিদর্শক (অপরাধ) তৌফিকুল ইসলাম।

বাবুর্চি বাবুল মিয়া জানান, প্রায় ৩ শতাধিক অতিথি আপ্যায়নের জন্যে সকাল ৬টা থেকে খাবার রান্নার কাজ শুরু করেছি। এর মধ্যে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগীর রোস্ট, টিকা কাবাব, ডিমের কুরমা ও চাইনিজ সবজি রয়েছে। পাশাপাশি বরের জন্য আস্ত খাসি ও ইলিশ ভাজাও করা হচ্ছে।

রান্নার কাজ তরারকি করা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজ উদ্দিন ভূইয়া জানান, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে আমরা সরকারি শিশু পরিবারে রয়েছি। পুরোদমে রান্নার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্যে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর ১টা থেকে অতিথি আপ্যায়ন শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সরকারি বাংলো থেকে হাবিবাকে বিদায় জানানো হবে। মেয়েকে তার বরের হাতে তুলে দেবেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী ফারহানা রহমান। সন্ধ্যায়ও অতিধি আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। অতিথি আপ্যানের জন্য থাকছে সাদা ভাত, গরুর মাংস ভুনা, মুরগির রোস্ট, ডিমের কুরমা, টাকি মাছ ভর্তা, বেগুন ভর্তা, ইলিশ মাছ ভাজা, পুঁটি মাছ ভাজা, পাবদা মাছ, মলা মাছ, সবজি, নান রুটি ও চিকেন গ্রিল এবং পায়েশ।

প্রসঙ্গত, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় শিশু পরিবার ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল হাবিবার। কিন্তু মায়া কাটাতে পারেনি হাবিবা। তাইতো ১০ বছর এই শিশু পরিবারের কাটানো সময়ে স্মৃতি কাটিয়ে মামা-মামির কাছে ফিরে যাওয়া হয়নি তার। পরে হাবিবার পুনর্বাসনের চেষ্টা গিয়ে গড়ায় তার বিয়ে পর্যন্ত। কসবা উপজেলার সোনাগাঁ গ্রামের বাসিন্দা, সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া পুলিশ কনস্টেবল মো. জাকারিয়া আলমের সঙ্গে হাবিবার বিয়ে হচ্ছে আজ।

হাবিবার বাবা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানও মেয়ের বিয়েতে কোনও ঘাটতি রাখছেন না। বিয়ের অনুষ্ঠানে পূর্ণতা দিতে তার সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিশু পরিবারের সঙ্গে যুক্ত শহর সমাজসেবা প্রকল্পের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার।

জানা গেছে, বিয়েতে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত থাকবেন।