ওসমানীনগর সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এক বছরেও চার্জশীট দেয়নি পুলিশ

../news_img/53667 mri n u.jpg

ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি :: প্রভাবশালী আ’লীগ পরিবারের সন্ত্রাসীদের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে পা হারা পঙ্গু অসহায় প্রবাসী আহমদ মালিক দীর্ঘ এক বছরেও পুলিশ প্রশাসনের নিকট থেকে সুবিচার না পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো গণমাধ্যম কর্মিদের দ্বারস্থ হয়েছেন। পা হারানোর ঘটনার এক বছর অতিবাহিত হবার পরও মামলার এজাহার ভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাশীন দলের প্রভাবশালী নেতার স্বজন হওয়ায় পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। এমনকি ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে ওসমানীনগর থানা পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র(চার্জশীট)আদালতে জমা দিচ্ছে না। প্রশাসনের এহেন আচরণ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি। শনিবার দুপুরে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ কালে এমন অভিযোগ করেন বাহরাইন প্রবাসী আহমেদ মালিক।

উপজেলার সাদিপুর ইউপির ইব্রাহিমপুর গ্রামের তাজপুর ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারী মোঃ রহমত উল্লার বাহরাইন প্রবাসী আহমেদ মালিক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, গত বছরের জুনের প্রথম দিকে প্রবাস থেকে ছুটিতে দেশে বেড়াতে এসে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হই। ২০১৬ সালের ১৫ই জুন আজকের দিনে নিজ বাড়ির সামনে এলাকার সন্ত্রাসী গোষ্টি ওসমানীনগর উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কবির বাহিনীর প্রধান কবিরের হুকুমে তার চাচাতো ভাই মুছলের নেতৃত্বে কবিরের ছেলে সুমন, তার ভাগিনা বাদল, ভাতিজা মাহি আমাকে গুলি করে প্রাণে মারার চেষ্টা করে। সন্ত্রাসী সুমনের দেয়া বন্দুক থেকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি দুটি বন্দুক দিয়ে আমার ডান পায়ের হাটুর উপরে গুলি করে সন্ত্রাসী বাদল ও মাহি। অপর সন্ত্রাসী সুমনের হাতে থাকা আরেকটা বন্দুক দিয়ে গুলি মারতে চেষ্টা করে ভাগ্যক্রমে গুলি লক্ষভ্রষ্ট হয়। আমার ছোট ভাইয়েরা আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদের সাথে থাকা অপর সন্ত্রাসী দোলন, জুবেল, ইমন, তাহের, ছায়েদ, শ্যমল ও অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে লম্বা দা দিয়ে কুপ মেরে আমার দুই ভাইকে রক্তাক্ত আহত করে। যারা সবাই কবিরের আত্বীয় স্বজন। এদের সাথে আরো কয়েকজন দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত (লম্বা দা,লাটি,ছুরি/চাকু ও কুচা) ছিলো।

এ ব্যাপারে আমার বাবা বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় ঘটনার দিন রাতে (মামলা নং-১১) দায়ের করেন। জীবন বাঁচাতে সিলেট হাসপাতালে আমাকে নিলে আমার অবস্থা আশংকাজনক থাকায় সিলেটের ডাক্তাররা ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে আমাকে সাথে সাথে প্রেরণ করেন। ১৯ জুন  ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে আমার ডান কেটে ফেলতে বাধ্য হন ডাক্তাররা।
কিন্তু ঘটনার এক বছর হয়ে গেলেও দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার ও এদের কাউকে গ্রেফতার করেনি।

আমার বর্তমান পরিস্থিতি কি আর বলবো, যারা আমার চিকিৎসার জন্য সাহায্য সহযোগিতা করেছেন,যারা আমার শরীরে রক্ত দিয়েছেন,যারা আমাকে দেখতে হাসপাতালে ও বাড়িতে এসেছিলেন,যারা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন,তাদের সবাইকে এসব সন্ত্রাসীরা হুমকি দামকি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে,আমার সাক্ষীদের উপর মিথ্যা সাজানো মামলা করে প্রভাবশালী এ সন্ত্রাসীরা হয়রানি করছে।

তাই কোন উপায় আন্তর না দেখে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমার পা হারানোর ঘটনায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।