মাদ্রাসার নামে ‘ক্যাডেট’ ‘ইন্টারন্যাশনাল’ নয়

../news_img/53939 mri nu i.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে যুক্ত ‘ক্যাডেট’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দ বাদ দিতে সারাদেশের ক্যাডেট মাদ্রাসাকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে অননুমোদিতভাবে প্রতিষ্ঠিত এ ধরনের মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের অনুমতি নিতে তিন মাস সময় বেঁধে দেওয়াসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে আজ রোববার জারি করা এক আদেশে ক্যাডেট মাদ্রাসার অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো শিগগিরই বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছাড়াও সব জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ক্যাডেট মাদ্রাসাগুলোর অধ্যক্ষদের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আদেশে বলা হয়, আগামী তিনমাসের মধ্যে অননুমোদিতভাবে প্রতিষ্ঠিত ক্যাডেট মাদ্রাসাগুলোকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারি অনুমতি নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নামকরণ থেকে ‘ক্যাডেট’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দ বাদ দিতে হবে।

এনসিটিবি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত বই পড়ানো ও পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নজরদারি করবেন। মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটিতে একজন জেলা বা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি থাকবেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত আবশ্যিকভাবে গাইতে হবে।

আদেশে আরও বলা হয়, জাতীয় দিবসগুলো বাধ্যতামূলক মাদ্রাসায় পালন করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের বেতন-ভাতা ও টিউশন ফি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো নির্ধারণ পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কয়েকটি মাদ্রাসা নামের সঙ্গে ‘ক্যাডেট’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দজুড়ে দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া ছাড়াও বেশি বেতন নিচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ‘ইন্টান্যাশনাল’ শব্দ লাগিয়ে এনসিটিবির কারিকুলাম অনুসরণ না করে নিজেদের পছন্দ মতো বই বিক্রি করে তা শিক্ষার্থীদের পড়তে বাধ্য করছে। এসব যেন আর না করতে পারে সে জন্যই মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে।