কিসের টানে আমেরিকায় বিশ্ব সিলেট সম্মেলন?

../news_img/53843 ri ni.jpg

সৈয়দ জগলুল পাশা ::সিলেট বিভাগ ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এক স্বকীয়তামণ্ডিত অঞ্চল। বরাক থেকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীবিধৌত অঞ্চল, উর্বর ভূমি, পাহাড় ও বনভূমি, হাওর-বাওর, বিল ও প্রাকৃতিক সম্পদের বৈভবে ভরপুর। এ জনপদে একাধিক ধর্মের মানুষ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের রয়েছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। মানুষের আচার-আচরণ, ভাষা, সংস্কৃতির ও রয়েছে স্বাতন্ত্র্য ও সমৃদ্ধি। সিলেট বিভাগের প্রাকৃতিক সুষমা পর্যটন বিভাগ রূপে তার খ্যাতিকে করেছে বিস্তৃত।

 


বিগত ১৩০০ শতাব্দীতে ৩৬০ জন আউলিয়াসহ আরবীয় মুসলিম সাধক হজরত শাহজালাল সিলেট আগমন করেন। হজরত শাহ পরাণসহ এ আউলিয়াকুল ইসলাম প্রচারের জন্য সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরু শ্রী চৈতন্য দেবের পিতৃভূমি সিলেট।

 

ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন, লাউড়, গৌড়, জয়ন্তিয়াও অন্যান্য রাজ্য নানা বিবর্তনে আসাম, পূর্ববঙ্গ, পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পৃক্ততায় গড়ে ওঠা সিলেট অঞ্চলের জনগোষ্ঠী নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে ধনে-মানে-জনে। বাংলা ভাষাভাষী হলেও স্বতন্ত্র উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি ও উপভাষা নিয়ে হয়েছে সিলেট সম্প্রীতির সোপান। বাংলাভাষায় বর্ণের স্বতন্ত্র বিন্যাস নাগরী লিপিও প্রবর্তিত ও বিকশিত এ অঞ্চলে। জানা যায়, সৈয়দ শাহনুর-এর সকল গান ও লেখা ছিল নাগরী লিপিতে। সিলেটি নাগরী লিপিতে বই ছাপার প্রেস ছিল কলকাতায় শিয়ালদহে। তাছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা তাঁদের ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ সাধন করেছে সিলেটে। মানুষের জীবন-জীবিকার বৈচিত্র্যের মাঝেও রয়েছে সাযুুজ্য। কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন মূল পেশা হলেও তা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে দীপ্যমান। সিলেটের চা শিল্প, মৎসসম্পদ ভাণ্ডার, ধান উৎপাদন, বনাঞ্চল, কমলা, লিচু ও কাঁঠাল ফল, গ্যাস ও জ্বালানি তেলসহ, প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ করছে জাতীয় অর্থনীতিকে। সিলেটের কমলা লেবুর সাধের জন্য স্বয়ং দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এক সময় অপেক্ষা করতেন কলকাতায়। সিলেটের চা শিল্প, গ্যাস, প্রাকৃতিক সম্পদ, মৎস্য ও কৃষিজাত খাদ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করছে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে। উপমহাদেশের প্রাচীন চা বাগান সিলেটে।

 

সিলেটের সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহুদিনের। সুফিসাধক সৈয়দ শাহনুর, রাধারমণ দত্ত, হাছন রাজা, শিতালং শাহ, শেখ ভানু, আরকুম শাহ, দুর্বিন শাহ, দীনহীন ও শাহ আবদুল করিম আমাদের নবরতœ। তাঁদের কালে তারা আমাদের সাংস্কৃতিক ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন। আধ্যাত্মিক গান, মুর্শিদি, বাউল গান, ভাটিয়ালি, ধামাইল ও লোকজ সংগীতের ক্ষেত্রে অগ্রণী সিলেট। কালের প্রবহমানতা নিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভারতে ও পরবর্তীতে পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশে সিলেট অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। বাগ্মী বিপিনচন্দ্র পাল, ব্রতচারী গুরুসদয় দত্ত, মৌলানা আব্দুর রশিদ, নারীনেত্রী লীলা রায়, ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাস, খান বাহাদুর মফিজুর রহমান, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য, লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী, কবি দিলওয়ার, দার্শনিক জিসি দেব ও দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফসহ অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তি এ ভূমিরই সন্তান। ১৮১৭ সালে সিলেটের গজনফর আলী খান আসামের প্রথম এবং সর্ব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে চতুর্থ আইসিএস হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। প্রশাসনিক বিভাগে উচ্চপদে নিযুক্ত হন তাদের মধ্যে ছিলেন দেবীচরণ রায়, সৈয়দ হোসেন আলী, রজনী রায় দস্তিদার, আবু নছর ওয়াহিদ ,দ্বারিকানাথ চৌধুরী, কৃষ্ণবিহারী চৌধুরী, গিরীশ নন্দী, খান বাহদুর মোহম্মদ চৌধুরী। মহিলারা কম যাননি ।বেগম জোবেদা রহিম চৌধুরী, অক্সফোর্ডে শিক্ষাপ্রাপ্ত মিস সাইদুন্নেছা জিল খান, বেগম সেরাজুন্নেছা চৌধুরী, সৈয়দ শাহের বানু চৌধুরী , হেনা দাশ প্রমুখ মহিলারা সমাজ উন্নয়ন ও রাজনীতির ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। আমাদের সমকালীন শিল্পী, সাহিত্যিক, নাট্যকার, কবি ও লেখকগণ এ ধারা রেখেছেন বহমান। তরুণ প্রজন্ম এ-উত্তরাধিকারের গর্বিত অংশীদার।
সিলেটের প্রকৃতি ও মানুষের সান্নিধ্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ ও ইবনে বতুতাসহ অনেক পরিব্রাজক। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মহাত্ম্য গান্ধী, জহরুললাল নেহরুসহ অনেক সর্বভারতীয় নেতৃবৃন্দ সফর করে মুগ্ধ হয়েছেন সিলেটের আতিথেয়তায়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এর ভাষায়Ñসিলেট শ্রীভূমি। কবিগুরু সিলেটে এসে মণিপুরী নাচ দেখে প্রথম সিলেটের নাচের শিক্ষক নিয়ে গিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে। তিনি পুত্র রথীন্দ্রনাথের সংস্কৃত শেখার জন্য সিলেটি পণ্ডিত শিবনাথ বিদ্যার্নবকেও শান্তিনিকেতনে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সিলেটি বিখ্যাত পণ্ডিত ড. সুখময় সপ্ততীর্থকেও তিনি তথায় নিয়ে আসেন। লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী শান্তিনিকেতনের প্রথম মুসলিম ছাত্র। তার সুত্রে জানা যায়, শান্তিনিকেতনে নাকি একবার সিলেট বনাম সারাবিশ্ব ফুটবল প্রতিযোগিতা হয়। শান্তিনিকেতনের কৃতি ছাত্র অনিল কুমার চন্দ, অপূর্ব কুমার চন্দ, অনাদি কুমার দস্তিদার ও সৈয়দ মুজতবা আলী। পরবর্তীতে ছিলেন অশোক বিজয় রাহা, ভূদেব চৌধুরী, বীরেন্দ্রনাথ পালিত কিংবদন্তিময় শিক্ষক ছিলেন বিশ্বভারতীর। আমাদের কিংবদন্তি চাদনীঘাটের সিড়ি, আলী আমজাদের ঘড়ি, কীন ব্রিজ এখনো আকর্ষণ করে সবাইকে। প্রায় ৩৫০ শত বছরের পুরনো শাহী ঈদগাহে অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা-সমাবেশ করেছেন। সিলেট অঞ্চল মোঘল শাসন আমলে নিষ্কর ভূমিরূপে ফরমানাধীন ছিল। পণ্ডিত জহরুললাল নেহরু সিলেট দেখে বলেছিলেনÑসিলেট ইজ বেঙল বাট উইথ এ ডিফরেন্স।

 

উপমহাদেশের প্রথম বাংলাভাষার সাময়িক পত্র ইংরেজ সম্পাদিত ‘মাসিক দিগদর্শন’ প্রকাশিত হয় ১৮১৮ সালের এপ্রিলে। প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ‘সমাচার দর্পণ’ প্রকাশিত হয় ১৮১৮ সালের ২৩ মে। প্রথম সিলেটি সম্পাদিত সংবাদপত্র ”জ্ঞানান্বেষণ” কলকাতা থেকে মৌলভীবাজারের রাজনগরের শ্রী গৌরি শংকর তর্কবাগিশ এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ১৮৩১ সালে। পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে তিনি ‘সংম্বাদ ভাস্বর’ সম্পাদনা করে কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন। সিলেট ও সিলেট শহর থেকে প্রথম প্রকাশিত বাংলা সাপ্তাহিক ‘শ্রীহট্ট প্রকাশ’ বড়লেখার শ্রী প্যারীচরণ দাস সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পায় ১৮৭৫ সালে। কালে কালে সংবাদপত্র ও সাময়িকীর প্রকাশনায় সিলেট রেখেছে অনেক অবদান যা আজও দীপ্যমান। এমনকি প্রবাসে থেকেও প্রায় অর্ধশতাধিক সংবাদপত্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে সিলেটিরা যুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটিদের অর্থায়ন ও সমপাদনায় প্রকাশিত হচ্ছে জনমত, নতুন দিন, পত্রিকা, সুরমা, সময়, বাংলা টাইমস, ইউকে বেঙ্গলি, কানাডা থেকে দেশ-বিদেশে, সময়, যোগাযোগ, আজকাল, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঠিকানা, পরিচয়, একুশ ও সময়ের কথা। শিলচর, করিমগনজ ও কলকাতায় রয়েছে আমাদের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার উজ্জ্বল উপস্থিতি। সিলেট থেকে প্রকাশিত হচ্ছে অনেক দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও সাময়িকীÑযার নাম স্বল্প আয়োজনে বলা যাবে না। কেবল সিলেট বিভাগে কর্মরত সাংবাদিক এক হাজারেরও অধিক।

 

ফরাসি বিপ্ল­বের অন্যতম নেতা ‘জামর’-এর বাড়ি ছিল সিলেট। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদানের জন্য খ্যাতিমান বাগ্মী বিপিনচন্দ্র পাল, গণনাট্য আন্দোলন পুরোধা হেমাঙ্গ বিশ^াস, গায়ক নির্মলেন্দু চৌধুরী, ব্রতচারী শ্রী গুরুসদর দত্ত, নারী আন্দোলন পথিকৃত লীলা নাগÑএ মাটির সন্তান। এ মাটির সন্তান ফাঁসিতেও ঝুলেছেন। সিলেটের হাদামিয়া-মাদামিয়া ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সূচনা করে শহীদ হন। ব্রিটিশ ভারতে সিলেটের রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃত্ব ভারতের স্বাধীনতার জন্য অবদান রেখেছেন। গণভোটের মাধ্যমে বর্তমান সিলেট যোগ দেয় পূর্ব পাকিস্তানে। সিলেট যাতে গণভোটের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দেয় সেজন্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও নিরলস কাজ করেছেন।

 

মহান ভাষা আন্দোলনে সিলেটিদের বিশেষ অবদান রয়েছে। ১৯০১ সালে সিলেটের মৌলভী আবদুল করিম ঢাকায় সর্বভারতীয় শিক্ষা সম্মেলনে বাংলাভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে প্রচলনের প্রস্তাব করেন। প্রকৃতপক্ষে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরেই পাকিস্তানে ভাষা সংগ্রাম শুরু হয়। সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে বিখ্যাত বাংলাভাষা বিষয়ক ভাষণ প্রদান করেন। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ভূমিকা রয়েছে এতে। ১৯৫২ সালে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সংগ্রামে আমাদের অনেকে জেল ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। বাংলাভাষা প্রবর্তনের আরেক ঘটনা ঘটে আসামের শিলচরে ১৯৬১ সালে। সেখানে বাংলাভাষা রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে চালু রাখার সংগামে ১১ জন শহীদ হন। সেখানে শহীদ মিনার ও রয়েছে। তারাও পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। সিলেটের অনেক গুণীজন পেয়েছেন একুশে পদক। কবি দিলওয়ার, বাউল শাহ আবদুল করিম, মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, ডা. অরুপ রতন চৌধুরী, নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা।

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধরত বাহিনীসমূহের প্রধান সেনাপতিরূপে নেতৃত্ব প্রদান করেন মরহুম জেনারেল এমএজি ওসমানী, উপ-প্রধান মরহুম জেনারেল এম এ রব, সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল সি আর দত্ত, বীর উত্তম, মেজর জেনারেল হারুন আহমদ চৌধুরী বীর উত্তম, মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান বীর উত্তম, অনারারি ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান চৌধুরী বীর উত্তম, বীরপ্রতীক ইয়ামিন চৌধুরী, এনামুল হক চৌধুরীসহ অনেক বীরমুক্তিযোদ্ধা। শহীদ ডা. শামসুদ্দিন, সোলেমান, জগতজ্যোতি দাশসহ লাখো শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের ধারায় সিলেটের গৌরবময় অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীসহ সিলেটবাসীদের ব্যাপক অবদান রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রতে অবস্থিত আমাদের প্রবাসীগণ অর্থ, বিত্ত, শ্রম ও কুটনৈতিক পর্যায়ে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। ভারতের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের মিনিস্টার জনাব এ এম এ মুহিত পাকিস্তান পক্ষ ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত করেছেন। বাংলাদেশের সকল দুর্যোগে ও বন্যায় আমাদের প্রবাসীগণ দেশবাসীর সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন অকাতরে।

 

রাজনীতি ক্ষেত্রে সিলেটের জনসচেতনতা ও নেতৃত্বের অবদান কৃষক আন্দোলন, নানকার আন্দোলন সর্বপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারায় মিশ্রিত। আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণসাধনে সিলেটবাসীর অপরিসীম অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের পূর্বতন স্পিকার জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী জনাব এম সাইফুর রহমান ও জনাব শাহ এস এম এস কিবরিয়া, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব আবদুস সামাদ আজাদ, সাবেক মন্ত্রী এম এ খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জনাব দেওয়ান ফরিদ গাজী, সাবেক মন্ত্রী জনাব মোস্তফা শহীদ, সাবেক মন্ত্রী জনাব এম এ হক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিভিন্ন সময়ের উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অনেক অবদান রেখেছেন। প্রয়াত রাজনীতিবিদ জনাব পীর হবিবুর রহমান, বরুন রায়, আবদুল হামিদ, আসাদ্দর আলী, নূরুƒর রহমান ও তারা মিয়াসহ অনেকের জনগণের জন্য সংগ্রাম আমাদের প্রেরণা যোগায়। আমরা এখনো অনেকের নাম জানি না বা বিস্মৃত হয়ে গেছি।

 

ভারতের কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য মন্ত্রীসভায় ত্রিগুনা সেন, ময়নুল হক চৌধুরী, সন্তোষ মোহন দেব ও অনিল কুমার চন্দ মন্ত্রিত্ব করেছেন। তাদের বংশধরেরা আজও সর্বভারতীয় নেতৃত্বে রয়েছেন। যতদূর জানা যায়, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও প্রাথমিক শিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ১০ জন শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন সিলেট থেকে। ১৯২৯-১৯৫৮ সময়কালে ৭ জন শিক্ষামন্ত্রী আসাম প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তন্মধ্যেÑজনাব সৈয়দ আবদুল মজিদ (সিআইই), কাপ্তান মিয়া এম সি কলেজ-এর জন্য ব্যাপক অবদান রাখেন। শ্রী বসন্তকুমার দাশ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। প্রশাসনে খান বাহাদূর মাহমুদ (জালালাবাদ এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি), মাসাদ্দার আলী ,সৈয়দ নবীব আলী (ব্রিটিশ আমলে শিলঙের প্রথম ভারতীয় ডিসি), ইতিহাসবিদ সৈয়দ মুর্র্তাজা আলী ,গিয়াসউদ্দিন আহমদ চৌধুরী (পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট) ,নূরুল গনি (বঙ্গবীর আতাউল গনি ওসমানীর ভাই), ড. এম এ রশীদ (উপাচার্য- প্রকোশলী), জনাব গউস উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, আবিদুর রহমান চৌধুরী, সাজ্জাদ আলী মজুমদার (বিভাগীয় কমিশনার) , আবদুল মুবিন চৌধুরী , বেগম খান বাহাদূর মাহমুদ (জালালাবাদ এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি), মাসাদ্দার আলী ,সৈয়দ নবীব আলী (ব্রিটিশ আমলে শিলঙের প্রথম ভারতীয় ডিসি), ইতিহাসবিদ সৈয়দ মুর্র্তাজা আলী ,গিয়াসউদ্দিন আহমদ চৌধুরী (পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট) ,নূরুল গনি (বঙ্গবীর আতাউল গনি ওসমানীর ভাই), ড. এম এ রশীদ (উপাচার্য- প্রকোশলী), জনাব গউস উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, আবিদুর রহমান চৌধুরী, সাজ্জাদ আলী মজুমদার (বিভাগীয় কমিশনার) , আবদুল মুবিন চৌধুরী , বেগম শামসি খানম ,ড. এসডি চৌধুরী , এস বি চৌধুরী, অজিত কুমার দত্ত চৌধুরী , হেলাল উদ্দিন চৌধুরী দেশের প্রশাসনে নিয়োজিত আমাদের গৌরবময় প্রাত:স্মরনীয়।। স্বাধীনতার সময় ও পরে ভারতে নিয়োজিত বাংলাদেশের ৫ হাই কমিশনার সিলেটেরÑজনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, ফারুক আহমেদ চৌধুরী, সিএম শফি সামি, তোফায়েল করিম হায়দার ও বর্তমান সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। সম্প্রতি সিলেটি গভর্নর ছিলেন শ্রী শেখর দত্ত ভারতের ছত্রিশগড় রাজ্যে। আমাদের দুই বিদেশি কূটনীতিক জনাব আনোয়ার চৌধুরী (ব্রিটিশ) ও শ্রী স্বন্দীপ চক্রবর্তী (ভারত) পেরুতে কর্মরত। লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি  জনাব এএইচ মোফাজ্জল করিম। জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন ড.একে মোমেন। জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি  জনাব ইনাম আহমদ চৌধুরী ছিলেন ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান।। বিশ্বের সর্ববৃহত এনজিও ব্রাকের প্রতিষ্টাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ আমাদের বিশ্বনন্দিত গৌরব । জনাব আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী (তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ), ড.মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন (বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর) , জনাব আবদুল হামিদ চৌধুরী (সাবেক সচিব), ব্রিগেডিয়ার (অব:) ডা. আবদুল মালিক , সিএম শফি সামি (তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা) , রাশেদা কে চৌধুরী (তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা) ,রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান জনাব হাফিজ আহমেদ মজুমদার, বীমাবিদ নাসির এ চৌধুরী আমাদের কর্মকান্ডের প্রেরণার যোগানদার।

স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতির নিরবচ্ছিন্ন রূপকার সিলেটের সাবেক অর্থমন্ত্রী জনাব এম সাইফুর রহমান, জনাব শাহ এস এম এস কিবরিয়া ও জনাব এ এম এ মুহিত। ১৯৭১-২০১৭ মেয়াদের ৪৫টি বাজেটের ২৬টি বাজেট তারাই প্রণয়ন করেছেন। বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বর্তমান মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ, সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্য, সংসদীয় কমিটিসমূহের চেয়ারম্যন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশন মেয়র, পৌরসভা মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যন ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিগণ এবং সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জাতীয় উন্নয়নে নিরলস অবদান রেখেছেন ও রেখে চলেছেন। সকলের উ্েদ্দশ্য আমাদের সিলেটকে ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির সিলেট’-এ রূপায়ণ।

 

দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ পূর্বকাল হতে ব্যাপকভাবে কর্মপোলক্ষে প্রবাসগমন ঘটে সিলেটিদের। ইংল্যান্ড, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা,