বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস

../news_img/IT-290x171 মপহ.jpg

- রহিমা আক্তার::

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হল টেলিযোগাযোগ। গত ১ যুগ থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে অভাবনীয় উন্নয়ন ও উন্নতি হয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতে যা চোখে পড়ার মতো। পৃথিবীর কোন দেশেই টেলিযোগাযোগের উন্নতি ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক সমাজ গড়ে তোলা যায় না। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বা তথ্য ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ে জনসচেনতার সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৬৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১৭ মে তথ্য ও টেলিযোগাযোগ দিবস নানাভাবে ১৭ মে বিশ্ব তথ্য ও টেলিযোগাযোগ দিবস পালন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আর্থসামাজিক উন্নয়নের অন্যতম উপকরণ হিসেবে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সরকার ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ঘোষণা দিয়ে বলেছে ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন করা হবে। যে কোন দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দরিদ্রতা দূরীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা, সম্পদের সুষমবণ্টন, জনগণের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পেঁৗছে দেয়ার লক্ষ্যে। যে কোন খবরাখবর জানা ও জানানোর লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি অপার সম্ভাবনা হয়ে কাজ করছে।

২০২১ সালের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রযুক্তিকে থ্রাস্ট খাত হিসেবে ঘোষণা করে আইসিটি আইন ও আইসিটি নীতিমালা ২০০৯ প্রণয়ন করেছে সরকার। সেই হিসেবে এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি ইন্টারনেট ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সেবা গ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার কাজ করছে।

বর্তমান সময়ে তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এসব সেবাকেন্দ্র থেকে সরকারি ফরম, ভর্তি ফরম, নোটিস, পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত তথ্য, চাকরির খবর, নাগরিকত্বের সনদপত্র, পরীক্ষার ফলাফল বিভিন্ন বিলসহ মোট ২২০টি সেবা পাচ্ছে। আর টেলিযোগাযোগের উন্নতির ফলে ঘরে বসে মোবাইল ব্যাংকিং, কৃষি কাজের সহায়তা, ট্রেন বাসের টিকেটসহ অনেক সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে ৭০০ ধরনের ই-সেবা প্রধানের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ আমাদের উপকার করছে। কিন্তু এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র অপরাধ করে যাচ্ছে। হত্যা গুম চাঁদাবাজির মতো অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিকে হাতের নাগালে পেয়ে সুযোগের অপব্যবহার করে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে। প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে সাথে সরকার ও গ্রাহক এবং অন্য স্টকহোল্ডারদের স্বার্থরক্ষার কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর। মোবাইলের কলরেট কমেছে বলে এবং ব্যবহার বেড়েছে তার মাঝে ও বিভিন্ন সেবা ফিরতে হচ্ছে এখনও চড়া দামে। শুল্ক আমদানি হচ্ছে বিরাট এক বাধা। গ্রাম এলাকায় শুধুমাত্র টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করে ডিজিটাল দাবি করা ঠিক হবে না। সেই গ্রাম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক চাহিদাগুলো তাদের হাতের কাছে এনে দিতে হবে।