বন্ধু দিবস : বেঁচে থাকুক বন্ধুত্ব

../news_img/54310 mri nu.jpg

প্রীতি রাহা  :: বন্ধু আর বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের অপরিহার্য একটি সম্পর্ক। যে মানুষ কারও সুখে-দুঃখে পাশে থাকে সেই তো প্রকৃত বন্ধু। বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে নেয়া যায় অনেক দুঃখের কথা। সুখের কথাতে প্রকৃত বন্ধু কখনও হিংসা করে না। সত্যিকারের বন্ধু চিনতে যারা ভুল করে তারা ভীষণ অভাগা।

বন্ধু ইংরেজি ভাষায় ‘ঋৎরবহফ’। বাংলায় অবশ্য লিঙ্গভেদে ‘বন্ধু’ আর ‘বান্ধবী’। তবে লিঙ্গভেদ না করে ছেলে-মেয়ে উভয়কে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করতেই আমরা বেশি পছন্দ করি। অনেকে আবার ইংরেজিতে বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আমার মনে হয়, বাংলায় বন্ধু সম্বোধনে যে আবেগ, যে মমতা থাকে তা অন্যকিছুতে নেই।

পৃথিবীতে অনেক কিছুরই বয়সসীমা থাকে, কিন্তু বন্ধুত্বের নেই। বন্ধুত্ব কোনো বয়স মানে না। বন্ধুত্ব শুধু মন মানে। মনের মিলই বন্ধুত্বের প্রধান বিষয়। আয়োজন করে বন্ধুত্ব করতে নেই। বন্ধুত্ব এমন একটি সম্পর্ক, যা আপনাআপনি হয়ে যায়। আজকাল শুনি অভিভাবকরা সন্তানের বন্ধু নির্বাচন করে দিচ্ছেন। একটু খুলে বলি। ক্লাসের ভালো শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাদের সন্তানের বন্ধুত্ব ঘটিয়ে দিতে চাচ্ছেন। একটু পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীর সঙ্গে মিশলে যদি তাদের সন্তানের পড়াশোনা খারাপ হয়ে যায়- এই শংকা তাদের পিছু ছাড়ে না। কিন্তু এ অভিভাবকরা ভুলে যান তাদের জীবনে বন্ধুর আগমন কীভাবে ঘটেছিল। অভিভাবকরা সন্তানদের বেলায় যে পদ্ধতি খাটাচ্ছেন, তা কি তাদের নিজেদের জীবনেও ঘটেছে? যদি ঘটে থাকে তবে বলতে দ্বিধা নেই, এই অভিভাবকদের জীবনেও কোনো সত্যিকারের বন্ধু নেই।

একজন ‘ভালো বন্ধু’ মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ। এ দুনিয়ায় টাকা থাকলে হয়তো অনেক কিছুই মেলে; কিন্তু বন্ধু মেলে না। বন্ধুত্বে কোনো হিসাব-নিকাশ চলে না। ক্লাসের সামনের সারি কিংবা পেছনের সারির শিক্ষার্থী বিচার করে বন্ধুত্ব হয় না। এ ধরনের সংকীর্ণতা থাকলে সারাজীবন ‘বন্ধু’ ছাড়াই কাটাতে হয়।

শিক্ষাজীবনের একটি বিশাল সময় মানুষের বিদ্যালয়ে কাটে। এজন্যই হয়তো স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে কারও তুলনা হয় না। একজন মানুষকে ভালো করে জানার সুযোগ তো হয় এখানেই। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন এক টাকায় লেমন আইসক্রিম পাওয়া যেত। টিফিনের সময় বান্ধবীরা মিলে খেতাম। মনে পড়ে, আমার বড় ভাই এই লেমন আইসক্রিম খাওয়ার গল্প শুনে বলেছিল, ‘ছি ছি। তুই এগুলো খাস কেন? রোগ হবে। আর খাবি না।’ শুধু আইসক্রিম? স্কুল থেকে ফেরার পথে ঝালমুড়ি কিনে নিয়ে খেতে খেতে আসতাম। এখনও বান্ধবীরা একত্রিত হলে পুরনো অনেক কিছু আবার করতে ইচ্ছা হয়। গত বছর পহেলা বৈশাখে বেশ কয়েকজন বান্ধবী মিলে সেই ছোটবেলার মতো লেমন আইসক্রিম খেয়েছিলাম।

আমাদের সময় এখনকার মতো বন্ধু দিবসের প্রচলন ছিল না, ছিল না ইন্টারনেটের রাজত্ব। আমরা বন্ধু দিবস সম্পর্কে অল্পস্বল্প জানলেও এখনকার মতো আয়োজন ছিল না। তাতে কী? বন্ধুত্ব তো বন্ধুত্বই। বন্ধুত্বে মনের টানটা খুব জরুরি। অযত্নে পৃথিবীর সব সম্পর্কই নষ্ট হয়ে যায়। সব সম্পর্কেরই যত্ন আবশ্যক। বন্ধুত্বেও প্রয়োজন যত্নের।
পৃথিবীতে বন্ধুত্ব বেঁচে থাকুক। ভালো থাকুক বন্ধুরা।

প্রীতি রাহা : প্রাবন্ধিক, ময়মনসিংহ