শিশুর ডায়রিয়া

../news_img/54318 mri nu.jpg

অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী  ::ঘনঘন পাতলা পায়খানা হওয়াকে ডায়রিয়া বলে।
* পায়খানা পাতলা হওয়া অর্থাৎ মলে পানির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়া ডায়রিয়ার আবশ্যিক শর্ত। পায়খানা বারবার হয়েও মল যদি পাতলা না হয়, তা ডায়রিয়া নয়।
* ঘনঘন পায়খানা সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ৩ বা তারও বেশিবার পায়খানা হলে ডায়রিয়া বলা হয়।
মনে রাখতে হবে, শুধু মায়ের দুধ পান করে এমন শিশু অনেক সময় দিনে ৫-১০ বার পর্যন্ত পায়খানা করতে পারে, যা পেস্টের মতো সামান্য তরল হয়, একে ডায়রিয়া বলা যাবে না। শিশু যদি খেলাধুলা করে, হাসি-খুশি থাকে তা হলে এর জন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।
ডায়রিয়ার কারণ
কতগুলো রোগজীবাণু খাদ্যনালিতে প্রবেশ করে ডায়রিয়া ঘটায়। আমাদের দেশে যেগুলো হচ্ছে : ১. ভাইরাস-রোটাভাইরাস ২. ব্যাকটেরিয়া-ই-কোলাই, সিগেলা, ভিবরিও কলেরা ইত্যাদি ৩. প্যারাসাইট-এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা ও জিয়ারডিয়া ল্যাম্বলিয়া।
কীভাবে ডায়রিয়ার জীবাণু খাদ্যনালিতে প্রবেশ করে
* খাদ্য বা পানীয় বস্তু।
* অপরিষ্কার হাত, গ্লাস, চামচ, বাসনপত্র বা সচরাচর ব্যবহৃত অন্যান্য জিনিসপত্র।
* মল।
* মাছি ইত্যাদির মাধ্যমে।
ডায়রিয়ার পরিণতি
* তাৎক্ষণিক- পানিস্বল্পতা এবং সময় মতো তার সুচিকিৎসা না হলে অনিবার্য মৃত্যু।
* পরবর্তীকালে-অপুষ্টি এবং রাতকানা, অন্যান্য রোগ দেখা দিতে পারে।
ডায়রিয়া চিকিৎসায় ওষুধের ব্যবহার
প্রায় সব ডায়রিয়াতেই প্রকৃতপক্ষে স্যালাইন ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। কোনো ওষুধ ব্যবহার না করলেও তা এক সময় আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের দেশে অজ্ঞানতাবশত ডায়রিয়ার সময় বিভিন্ন উদ্দেশ্যে অ্যান্টিবায়োটিকসহ কিছু ওষুধ ব্যবহৃত হয় যেগুলো কোনো কজে আসে না, বরং উলটো নানাবিধ শারীরিক ক্ষতি করে। বিশেষত শিশুদের মাত্র কয়েকটি ক্ষেত্রে রোগীর অসুস্থতার মেয়াদ কমানো ও রোগবিস্তাররোধে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তখনও মনে রাখতে হবে স্যালাইন ডায়রিয়ার প্রধান চিকিৎসা।
আমাশয় বা ডিসেনট্রি হলে : যখন খালিচোখে মলে রক্ত দেখা যাবে। এ ছড়া গায়ে জ্বর, পেটে ব্যথা ও পায়খানা করার সময় প্রচণ্ড কোঁত দেয়ার ইচ্ছা থাকে।
ওষুধ এমপিসিলিন- ২৫ মিলিগ্রাম শিশুর কেজি ওজনের জন্য দিনে-রাতে ৪ বার ৬ ঘণ্টা পরপর ৫ দিন অথবা কোট্রাইমক্সাজল-ট্রাইমিথোগ্রিম ৫ মিলিগ্রাম/কেজি ওজনের জন্য অংশহিসেবে দিনে-রাতে ২ বার ১২ ঘণ্টা পরপর ৫ দিন।
এভাবে চিকিৎসা শুরুর পর ৪৮ ঘণ্টা বা পূর্ণ ২ দিন অপেক্ষা করতে হবে। যদি রোগীর উন্নতি দেখা যায় অর্থাৎ পায়খানায় রক্তের পরিমাণ কমতে থাকে, জ্বর কমে যায়, পেট ব্যথা ও পায়খানার স্থায়ীত্বকাল কমে যায়, তবে এই চিকিৎসা ৫ দিন চালিয়ে যেতে হবে। আর যদি রোগীর কোনো উন্নতির লক্ষণ না দেখা যায় তবে এই চিকিৎসা বন্ধ করে অন্য ওষুধ : ন্যালিডিক্সিক অ্যাসিড-১৫ মিলিগ্রাম/কেজি ওজনের জন্য দিনে-রাতে ৪ বার ৬ ঘণ্টা পরপর ৫ দিন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর অবস্থার উন্নতি হলে এই ওষুধ ৫ দিন খাওয়াতে হবে। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই ওষুধেও উন্নতি দেখা না দিলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন বা নিকটস্থ হাসপাতালে সুচিকিৎসার জন্য পাঠাতে হবে।
কলেরায় আক্রান্ত হলে : অন্ত্রে ভিবরিও কলেরা জীবাণু প্রবেশ করে ডায়রিয়া সৃষ্টি করলে কলেরা বলে। কোনো রোগীর পাতলা পায়খানা শুরু হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে যদি চরম পানিস্বল্পতা হয়, চালধোয়া পানির মতো পাতলা পায়খানা হয়, ঘনঘন বমি হয় এবং রোগী দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগী খুবই পিপাসার্ত হয়- তবে কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা যায়।
ওষুধ টেট্রাসাইক্লিন ১২.৫ মিলি গ্রাম. প্রতি কেজি ওজনের জন্য- দিনে-রাতে ৪ বার ৬ ঘণ্টা পরপর ৩ দিন অথবা কোট্রাইমক্সাজল-ট্রাইমিথোপ্রিম অংশের হিসেবেও ৫ মিলিগ্রাম/কেজি ওজনের জন্য ২ বার ১২ ঘণ্টা পরপর ৩ দিন।