নবীজির দুই সাহাবিকে স্বপ্ন দেখে হজ পালনে সৌদি যাচ্ছেন নান্নু!

../news_img/54851mn.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::প্রায় ১৫ বছর আগে স্বপ্ন দেখেন, রাসুলুল্লাহর (সা) দুই সাহাবি তাকে বলছেন, ‘নান্নু উঠো, তোমাকে নিয়ে আমরা হজে যাব।’ এর পর থেকে তিনি হজে যাওয়ার জন্য মনস্থির করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ বছর তিনি সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। আগামী ২০ আগস্ট তার ফ্লাইট। এতক্ষণ বলছিলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড শৌলা গ্রামের মো. নান্নু গাজীর(৫০) কথা।

সে রাতের বর্ণনা দিয়ে নান্নু গাজী বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগের কথা। কোনো এক রাতে তিনি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন স্বপ্নে দেখতে পান দুই সাহাবি তাকে বলছেন, ‘নান্নু উঠো, তোমাকে নিয়ে আমরা মদিনায় যাব। তোমার সব কিছু তুমি গুছিয়ে নাও।’ নান্নু গাজী বলেন, ‘হুজুর আমার তো সামর্থ্য নেই। আমি নিতান্তই গরিব, কী করে যাব? সাহাবিদ্বয় বললেন, ‘নিয়ত কর, আল্লাহ তোমায় বরকত দেবেন।’

ওই রাতেই ঘুম ভাঙে নান্নু গাজীর। তার পর সারারাত শুধু জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করেছেন। ফজরের নামাজ পড়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে অনেক ভাবেন। অভাবের সংসার। কী দিয়ে কী করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছিলেন না। হাতে ছিল মাত্র ১৬০ টাকা। সেই টাকা দিয়ে এক জোড়া মুরগি ছানা কিনে হজের নিয়ত করেন। প্রায় ছয় মাস পালন শেষে সেগুলো বাজারে বিক্রি করেন ৭০০ টাকা। ওই টাকা দিয়ে কিনের একটি ছাগল ছানা। বছর শেষে সেটি বিক্রি করেন ২৫০০ টাকা। ওই টাকা দিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে কিনেন একটি গাভী বাছুর। প্রায় সাড়ে ৪ বছর পালন শেষে সেটি বিক্রি করেন ৪০ হাজার টাকা। তার পর ওই টাকা দিয়ে কিনেন দুটি মহিষের বাছুর। এ দুটি লালন-পালন করেন প্রায় ৮ বছর। এরই মধ্যে একটি মহিষ একটা বাচ্চা প্রসব করে। মোট ৩টি মহিষ গত বছর তিনি বিক্রি করেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। পুরো টাকা তিনি আমানত রাখেন স্থানীয় সমাজসেবী শাহাবাজ হোসেন খান মিল্টনের কাছে। তার কাছে নান্নু সব ঘটনা খুলে বলেন। নান্নুর আগ্রহ ও একাগ্রতা দেখে মুগ্ধ হন মিল্টন খান। তিনি এ বছর নান্নু গাজীকে হজ পালনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

মিল্টন খান জানান, নান্নু গাজী নিতান্ত গরিব। কিন্তু তার একাগ্রতা দেখে আমি বিস্মিত। তাই তার গচ্ছিত টাকার সঙ্গে বাকি টাকা দিয়ে তাকে পবিত্র হজ পালনে পাঠানোর ইচ্ছা পোষণ করি।

স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুর রাজ্জাক বলেন, নান্নু গাজীর বিষয়টি আমি অনেক আগ থেকেই জানতাম। তিনি এ বিষয়ে আমার কাছ থেকে সব সময় পরামর্শ নিয়েছেন। আমি তার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তার মনের আশা পূরণ করেন।