সাগরতলে মিলল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন রণতরী

../news_img/54541 mri nu.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের মার্কিন এক রণতরীর ধ্বংসাবশেষ প্রশান্ত মহাসাগরে খুঁজে পাওয়া গেছে। ৭২ বছর আগে মার্কিন রণতরী ইউএসএস ইন্ডিয়ানাপলিসকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছিল জাপানি সাবমেরিন টর্পেডো। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাড়ে ৫ কিলোমিটার (১৮ হাজার ফুট) গভীরে তার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে বলে শনিবার জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর গবেষক দল। এছাড়া রণতরীটির সন্ধানে বেসামরিকদের একটি গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহকারী প্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন। খবর বিবিসির।

১৯৪৫ সালের ৩০ জুলাই পরমাণু বোমা তৈরির উপকরণ মার্কিন বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিয়ে ফিরছিল যুদ্ধজাহাজ ইন্ডিয়ানাপলিস। ফিলিপাইন সাগরে গুয়াম ও লেইটির মাঝামাঝি জায়গায় এসে পৌঁছলে জাপানি সাবমেরিন টর্পেডো হামলা চালায় তার ওপর। এতে মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যেই বিশালাকার এ জাহাজটি ডুবে যায় সমুদ্রগর্ভে। ফলে বিপদের বার্তা দেয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। রণতরীটিতে ১ হাজার ১৯৬ জন ক্রু মেম্বার ছিলেন। তাদের মধ্যে ৮০০-৯০০ জন সমুদ্রে লাফিয়ে পড়েন। কিন্তু চার দিন ধরে সমুদ্রের হিংস হাঙ্গরের সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাদের, বেঁচে যান মাত্র ৩১৬ জন। অন্যরা হাঙ্গরের খাদ্য হয়েছেন। বাকিদের অধিকাংশই অনাহার এবং ডিহাইড্রেশনে মারা যান। দীর্ঘ সময় পরও এখন পর্যন্ত মার্কিন রণতরীটির ২২ জন ক্রু বেঁচে রয়েছেন। মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে জাহাজটি ডুবে যাওয়ায় তার নির্দিষ্ট অবস্থান কোথায় ছিল, তা নিয়ে এতদিন রহস্যই ছিল। ১৮ আগস্ট অ্যালেনের দল জাহাজটির সন্ধান পায়। ২০১৬ সালে পল অ্যালেনের তত্ত্বাবধানে সিভিলিয়ান রিসার্চের একটি দল প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে দেড় হাজার বর্গকিলোমিটার জায়গা চিহ্নিত করে তল্লাশি শুরু করে। পল জানান, ধ্বংসাবশেষের গায়ে ইন্ডিয়ানাপলিস নামটা অক্ষত থাকায় সহজেই তাকে চেনা গেছে। তবে ধ্বংসাবশেষ ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে, তা জানাতে চায়নি মার্কিন নৌবাহিনী। গবেষণা দল এক বিবৃতিতে জানায়, ইউএসএস ইন্ডিয়ানাপলিস মার্কিন নৌবাহিনীর সম্পত্তি। এটি এখন থেকে সুরক্ষিত যুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে। বেঁচে থাকা ২২ জন ক্রুদের এক মুখপাত্র বলেন, প্রত্যেকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন যে কখন তাদের জাহাজটির সন্ধান পাওয়া যাবে।

মার্কিন এ রণতরীটি গোপন মিশনের জন্য বিখ্যাত ছিল। জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে ‘লিটল বয়’ ও ‘ফ্যাটম্যান’ নামের দুটি ভয়াবহ বোমার উপকরণ বহন করেছিল। ইন্ডিয়ানাপলিস ডোবার এক সপ্তাহেরও কম সময় পর হিরোশিমায় পরমাণু বোমা ফেলা হয়। এর তিন দিন পরই নাগাসাকিতে আরেকটি বোমা ফেলা হয়। এর জেরে জাপান আত্মসমর্পণ করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। মার্কিন রণতরীর আগেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত জাপানি ও ইতালির দুটি জাহাজের সন্ধান পাওয়া গেছে। জাপানের রণতরী মুসাশি ও ইতালির নৌবাহিনীর রণতরী আর্টিগ্লিয়েরের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।