ব্যাংক ঋণ বিতরণে নিয়ম মানা হচ্ছে না: অর্থমন্ত্রী

../news_img/55069mm.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকারদের কব্জায় নিতে খেলাপি বানানো হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। ভাল প্রকল্পে ঋণ দেয়া হচ্ছে, কিন্তু বিতরণের সময় কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। ঋণের অর্থের কিস্তিও ব্যাংকগুলো ঠিক মতো দিচ্ছে না।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা পর্যালোচনা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যাংকার চান, যাকে তিনি পয়সা দেবেন, শুরুতেই তিনি যেন খেলাপি হন। এতে ঋণ গ্রহীতা তার কব্জার মধ্যে আসবে। এই সংস্কতি পরিহার করে আরও সচেতন হওয়া খুবই দরকার।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চলতি মূলধন বিবেচনা না করেই ঋণ দেয়া হচ্ছে। চলতি মূলধনের বিষয়টি অনুসরণ করে ঋণ দেয়ার বিধান থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না। প্রচুর প্রতিষ্ঠান আছে চলতি মূলধনের অনুপাতে ঋণ পাওয়ার কথা ২০ কোটি টাকা, তাকে ১০০ কোটি টাকা দিয়ে খেলাপি বানাচ্ছে। এতে ব্যাংকের মুলধন ঘাটতির সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সরকার বড় অংকের টাকা ব্যয় করে সে ঘাটতি পূরণ করছে। জাতীয় স্বার্থে করের টাকায় ঘাটতি পূরণ করা হলেও এগুলো যাতে বেশি না ঘটে সবাইকে নজর দিতে হবে।

ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থার ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আর্থিক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান।

বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অনুপাতে আমাদের খেলাপির হার খারাপ পর্যায়ে আছে। এটি ১০ থেকে ১১ শতাংশ। এরমধ্যে সরকারি ব্যাংকের হার ২৭ শতাংশ, এটি লজ্জার বিষয়। আপনাদের (চেয়ারম্যান ও এমডি) এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। ক্রমান্বয়ে এটি কমিয়ে আনতে হবে। মনে করে দিতে চাই, ঋণ অবলোপন হয়ে গেছে এর মানে এটি শেষ হয়ে যায়নি। এই টাকা আদায় করার দায়িত্ব আপনাদের।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকে আসা ঋণ প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা আরও উন্নত করা উচিত। ঋণের প্রস্তাব শাখা থেকে শুরু করে প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত ৮টি টায়ার অতিক্রম করে। কিন্তু কেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কয়েকটি স্তর নির্ধারণ করে দেয়া যেতে পারে।

মন্ত্রী মনে করেন, ব্যাংকগুলোতে কোনো কেরানী পর্যায়ের কর্মীর দরকার নেই। এখানে কর্মকর্তা থাকবেন। প্রত্যেকেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখবেন। বিশ্বের অধিকাংশ ব্যাংকেই কোনো ধরনের কেরানী পর্যায়ে লোক নেই উল্লেখ্য মন্ত্রী বলেন, আপনারাও সে চেষ্টা করেন। কোনো কেরানীকুল রাখার প্রয়োজন নেই।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, লালবাতি একটা ব্যাংক জ্বালালে, এটি ওই ব্যাংকের শুধু সমস্যা হবে না। এটি জাতীয়ভাবে সমস্যা হবে। অবশ্য ব্যাংক লাটে যাওয়ায় আপনারা দেখেননি। ১৯৪৯ সালে একবার হয়েছিল ভারতে কমপ্লিট ব্যাংকে। আমার নিজেরও স্কলারশিপের ১৪০ টাকা ওই সময়ে লোকসান হয়েছিল। কমপ্লিট ব্যাংক লাটে ওঠার পর এই অঞ্চলে আর কোনো ব্যাংক লাটে ওঠেনি।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো এক সময়ে মার্জ (একীভূত) হবেই। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি হবে। এ জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। এ জন্য আইনি কাঠামো দরকার। এটি চেষ্টা করবো আগামী বছরের মধ্যে দেয়ার জন্য।