হজে যেতে পারলেন না ৩৭৫ জন

../news_img/55115mmn.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::ভিসা হওয়ার পরও এজেন্সির প্রতারণাসহ বিভিন্ন কারণে এবার হজে যেতে পারেননি ৩৭৫ বাংলাদেশী। এদের মধ্যে বেশ কয়েক দিন ধরে হজে যাওয়ার আশায় আশকোনা ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন শতাধিক হজযাত্রী। সোমবার হজ ফ্লাইটের শেষ দিনে সব সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ হওয়ার পর ক্ষোভ আর দুঃখ নিয়ে একে একে ক্যাম্প ত্যাগ করেন সবাই।
হজ অফিস সূত্র জানায়, এ বছর ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ সরকারি-বেসরকারি কোটায় মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৯৬ হজযাত্রীর ভিসা দেয় সৌদি দূতাবাস। এদের মধ্যে ফ্লাইটের শেষ দিন সোমবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ২২১ জন সৌদি আরবে গেছেন। সে হিসাবে ভিসাপ্রাপ্ত ৩৭৫ জন এবার হজে যেতে পারেননি। ২৪ জুলাই থেকে যৌথভাবে হজযাত্রী পরিবহন শুরু করে বিমান ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স। সর্বশেষ সোমবার ভোররাতে বিমানের এবং সকালে সৌদিয়ার হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যায়।
সূত্র মতে, বেসরকারি বিভিন্ন এজেন্সি বা তাদের দালালদের প্রতারণার শিকার কয়েকশ’ হজযাত্রী বেশ কয়েক দিন ধরে হজ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। এসব হজযাত্রীর ভিসা ও পাসপোর্ট থাকলেও টিকিট নিয়ে গড়িমসি করে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি। শেষ মুহূর্তে হজ অফিস ও হাব নেতাদের হস্তক্ষেপে বেশকিছু হজযাত্রীর টিকিটের ব্যবস্থা হলেও শেষ পর্যন্ত হজে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন ১২৯ জন। এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ১২টি এজেন্সির নাম পাওয়া গেছে। অবশ্য ভিসাও হয়নি এমন কিছু প্রতারিত হজযাত্রীরও খোঁজ পাওয়া গেছে। হজে যেতে না পারা বাকিরা প্রতারিত হয়েছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে যাননি- তা এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। হজ পরিচালকসহ হজ ব্যবস্থাপনায় জড়িত কর্মকর্তারাও রোববার রাতের মধ্যে সৌদিতে চলে যাওয়ায় সোমবার হজ অফিস প্রায় ফাঁকা ছিল।
সোমবার সকালে হজ ক্যাম্পে এসে ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন দাবি করেন, ভিসাপ্রাপ্ত ৮১ হজযাত্রী টিকিট পাননি। তাদের আজ (সোমবার) রাত ৮টা ১০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সৌদি আরব পাঠানোর চেষ্টা চলছে। অবশ্য পরে ওই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
হজ ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই আসাদ জানান, ১২৯ প্রতারিত হজযাত্রীর তালিকা পাওয়া গেছে। এদের সবার ভিসাসহ পাসপোর্ট থাকলেও বিমানের টিকিট নেই। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতারিত হজযাত্রীদের সৌদি পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি রিয়াদে যাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে প্রতারিত হজযাত্রীদের জানিয়ে দেয়া হয়, তাদের আর এবার হজে যাওয়ার সুযোগ নেই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টরা একে একে ক্যাম্প ত্যাগ করে চলে যান।

প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে মদিনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাভিয়েশন ৬ জন, ইকো ট্রাভেলস ১৯, সাউথ এশিয়ান ট্রাভেলস ৩, আশা অ্যাভিয়েশন ৬, আল সাফা ১৬, আল বালাদ ১, গোল্ডেন ৮, ওলামা আউলিয়া ৭, ইউরো এশিয়া ২২, আবাবিল ১ ও গুলশান মোহাম্মদিয়া ৭ জন। এদিকে হজযাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে টিকিট না দেয়ার অভিযোগে ইকো অ্যাভিয়েশনের গ্রুপ লিডার আতাউর রহমান ও তার স্ত্রীকে সোমবার সকালে আটক করে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
বিমান মন্ত্রীর ব্রিফিং : সোমবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, নানা জটিলতার পর বাংলাদেশের অধিকাংশ হজযাত্রী এবার সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত ৩৭৫ জন যেতে পারেননি ভিসা না পাওয়ার কারণে। ভিসা জটিলতা, মুয়াল্লিম ফি পরিশোধ ও বাসা ভাড়ায় বিলম্বের কারণে বাংলাদেশ বিমানের ২৪টি ফ্লাইট এবং সৌদিয়ার চারটি ফ্লাইট এবার বাতিল করতে হয়েছে।

হজ এজেন্সিগুলোর কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল জানিয়ে মেনন বলেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের হজ এজেন্সি ধরে আনতে র‌্যাব ইউজ করতে হয়েছে। টাকা আদায়ের জন্য তাদের ধরে নিয়ে আসা হচ্ছে। যেসব হজ এজেন্সি এ জটিলতার জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি মূলত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। যেসব ট্র্যাভেল এজেন্সি টিকিট নিয়ে যাত্রী দেয়নি, তাদের লাইসেন্স বাতিল করার পদক্ষেপ নেব।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত হজযাত্রী পরিবহন করেছে বিমান : বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, চলতি হজ মৌসুমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সফলতার সঙ্গে তার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত হজযাত্রী পরিবহন করেছে। মোট ৬৪ হাজার ৮৭৩ হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দিয়েছে বিমান। যদিও বিমানের হজযাত্রী পরিবহনের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন। বাংলাদেশী ধর্মপ্রাণ মানুষের হজযাত্রা নিশ্চিত করতে বিমান অতিরিক্ত ১ হাজার ২৭৪ হজযাত্রী পরিবহন করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র হজের গুরুত্ব ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৪ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৮৭টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ১৫২টি ডেডিকেটেড এবং ৩৫টি শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রী পবিত্র ভূমিতে গেছেন। ঢাকা থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয় ১৩৩টি। চট্টগ্রাম থেকে ১৫টি ফ্লাইট এবং সিলেট থেকে ৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এবারই প্রথম বিমান বাংলাদেশ চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
হজযাত্রী সংকটের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ২৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। নির্বিঘ্নে হজযাত্রা নিশ্চিত করতে পরবর্তী সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে অতিরিক্ত আরও ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। হজযাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান ঢাকা থেকে যাত্রা-পূর্বে হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইটের বোর্ডিং কার্ড দিয়ে দিয়েছে। হজ শেষে দেশে হাজীদের ফিরিয়ে আনতে পোস্ট-হজ ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে; চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।