ইউরোপ থেকে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত

../news_img/55141mmn.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ইউরোপ থেকে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা-সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ ও ইউরোপিয়ান কমিশনের মধ্যে এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ (পশ্চিম) অনুবিভাগের মহাপরিচালক খোরশেদ খাস্তগীর বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) কামরুল আহসান ও ইউরোপিয়ান কমিশনের এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পলা পামপোলানি ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের মহাপরিচালক লোরেন্ট মাসতেন।

এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ (পশ্চিম) অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, ‘আজ দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করার পর একটি স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিওর চূড়ান্ত করেছি। এর ফলে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা সহজ হবে’ তিনি বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষ অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ অনুমতি প্রক্রিয়া শুরু করব। আশা করি, আগামী দুই মাসের মধ্যে এটি স্বাক্ষরিত হবে।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বছর থেকে ইউরোপে অবৈধভাবে অধিক পরিমাণ বাংলাদেশি ঢোকার কারণে ইউরোপিয়ান কমিশনের পক্ষ তাদের ফেরত নেওয়ার জন্য শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর ইউরোপিয়ান কমিশনের পক্ষ থেকে এসওপির একটি খসড়া বাংলাদেশকে দেওয়া হয়। ওই খসড়াটি যাচাই-বাছাই করে গত মাসে আমরা তাদের দেই। এরপর তারা তাদের অভিমত জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা তাদের বাংলাদেশে এসে এ বিষয়ে আলোচনা করে খসড়া চূড়ান্ত করার প্রস্তাব দেই। এরপর তারা প্রতিনিধি দল পাঠান।’

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কী রকম হবে—জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যেকোনও দেশের লোকের প্রত্যাবাসনের প্রথম কাজটি হচ্ছে তার নাগরিকত্ব যাচাই করে দেখা। এটি করার জন্য দেশের অভ্যন্তরে সমন্বয়ের প্রয়োজন। কারণ এর সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয় যুক্ত। এ জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেস, ইমিগ্রেশন অফিস, পাসপোর্ট অফিসের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে এই এসওপিতে। ’

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রায় ৮ হাজার ২০০ জন এবং ২০১৭ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৮ হাজার ৫০০-এর বেশি বাংলাদেশি ইটালিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন।

এছাড়া, ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ৩০০ বাংলাদেশি ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। এরমধ্যে প্রায় ১১ হাজার ৮০০ আবেদন খারিজ করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৬ হাজার আবেদনের অধিকাংশ খারিজ হতে পারে বলেই এই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘খারিজ হওয়া এই আবেদনকারীদের ইউরোপে থাকার কোনও অধিকার নেই। তাদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের পর সবাইকে ফেরত আনা হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য ২৭টি দেশে প্রায় দুই লাখ বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, যাদের সেখানে থাকা ও কাজ করার অনুমতি আছে। সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন যুক্তরাজ্যে।