সিলেটে স্কুলছাত্রী ধর্ষিত

../news_img/Dorshon.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সিলেটে চতুর্থ শ্রেনির এক ছাত্রীকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ধর্ষণ করেছে এক সন্ত্রাসী। পরে ওই ছাত্রীকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নদীরপাড়ে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ধর্ষিতার পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে- গতকাল পর্যন্ত পুলিশ ধর্ষককে আটক করতে পারেনি। এদিকে- গুরুতর অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। জালালাবাদ থানায় ধর্ষিতার মামা দুলাল মিয়া বাদী হয়ে একই গ্রামের মছব্বির আলীর ছেলে ধর্ষক সুনুর মিয়াকে আসামি করে মামলা করেছে। পুলিশ জানায়- বোন মারা যাওয়ার পর তার মেয়েকে বাড়িতে রেখে লেখাপড়া করাচ্ছে। ওই মেয়ে শহরতলীর নোয়াগাঁও শাহজালার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। বর্তমানে তার বয়স ১৪ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের বখাটে সুনুর মিয়া কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। স্কুলছাত্রী লজ্জায় কাউকে কিছু বলেনি। গত ২৬ আগস্ট রাতে বাদী বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে সুনু মিয়া ঘরের দরজার ছিটকারী ভেঙে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে কাপড় গুঁজে বিছানা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় শব্দ শুনে বাদীর স্ত্রী রোসনা বেগমের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভাঙার পর বিছানায় ভাগিনীকে না পেয়ে ঘরের বাইরে খোঁজাখুজির পর মোবাইলে ফোনে রোসনা তার স্বামী দুলালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দুলাল মিয়া সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে এসে পাড়া প্রতিবেশীদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভাগিনীকে খোঁজ করেন। সারারাত খোঁজাখুঁজি করে কোথায়ও না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। অবশেষে ভোর ৬টায় চেঙ্গেরখাল নদীর পাড়ে অচেতন অবস্থায় ভাগিনীকে দেখতে পায়। দুলাল মিয়া ভাগিনীকে বাড়ীতে এনে পঞ্চায়েতের মুরব্বিদের পরামর্শে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করেন।

ভাগিনী স্বাভাবিক হওয়ার পর জানতে পারেন ‘সুনুর মিয়া তাকে জোরপূর্ব ঘর থেকে উঠিয়ে নিয়ে নৌকা যোগে নদীর উত্তরপাড়ে রাইছ মিলে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সে কাকুতি মিনতি করলেও পাষণ্ড সুনুর হাত থেকে রক্ষা পায়নি।’ এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আসামী সুনু মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনার পর এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এদিকে- মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার এসআই যোবেদা বেগম জানিয়েছেন- মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন- আসামির ২২ ধারা জবানবন্দি গ্রহণসহ পরবর্তী কার্যক্রম তারা গ্রহন করছেন। এখনো নির্যাতিতা মেয়েটি ওসিসিতে ভর্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।