সিডনির স্থানীয় নির্বাচনে লড়ছেন অনেক বাংলাদেশি

../news_img/54633 mri n k.jpg

কাউসার খান ::  অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) রাজ্যের রাজধানী সিডনির কয়েকটি স্থানীয় কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সিডনিপ্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার। এই কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছুদিন আগেই সম্পন্ন হয়ে গেছে বিভিন্ন দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়ন পর্ব। আর এবারের মনোনয়ন পর্বে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাঙালিরা অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল থেকে পাঁচজন বাংলাদেশিকে কাউন্সিলর পদে লড়াইয়ের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়েছেন একজন।

সিডনির স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে কয়েকজন আলোচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে একজন হলেন মনোবিজ্ঞানী ও লেখক তানভীর আহমেদ। তিনি কানাডা-বে কাউন্সিলের বর্তমান কাউন্সিলর। এ ছাড়া তিনি টেলিভিশন সাংবাদিক ও সিডনির জনপ্রিয় পত্রিকা সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের কলামিস্টও ছিলেন। দেশটির বর্তমান সরকারি দল লিবারেল পার্টি থেকেই মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। বর্তমান কাউন্সিলর হিসেবে তানভীর আহমেদের কর্মদক্ষতার প্রতি খেয়াল রেখে আবারও তার জয়যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ধারণা করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, দেশটির বিরোধী দল লেবার পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সুমন সাহা। দলের হয়ে কাউন্সিলর পদের জন্য কাম্বারল্যান্ড কাউন্সিলের ওয়েন্টওর্থভিল ওয়ার্ডে লড়বেন তিনি। বর্তমানে তিনি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্টমিড ক্যাম্পাসের অর্থ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বাঙালি কমিউনিটির কাছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজক হিসেবেও বেশ সুপরিচিত তিনি। এ ছাড়া কাম্বারল্যান্ড কাউন্সিলে অভিবাসীদের আধিক্য ও লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা সুমন সাহার জয়ের পক্ষে অনেক বেশি সুবিধাজনক প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন সুমন সাহার নির্বাচনী এলাকার প্রবাসী বাঙালিরা।
লেবার পার্টি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ক্যান্টারবারি সিটি কাউন্সিলের ‘বর্ষসেরা নাগরিক’ পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ নাজমুল হুদা। তিনি দলের হয়ে রোজল্যান্ড ওয়ার্ডে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মোহাম্মদ হুদা কমিউনিটিভিত্তিক ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য পেন এন পেপারের প্রকাশনা সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্টারবারি ব্যাংকসটাউন কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির মনোনীত প্রার্থীরাই জয়ী হয়ে আসছেন। সেই পরিসংখ্যানের বিবেচনায় মোহাম্মদ হুদার জয়লাভের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সিডনির ক্যান্টারবারি ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলের রোজল্যান্ড ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে লিবারেল পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ শাহে জামান টিটু। ইতিপূর্বে ওয়াটসন আসন থেকে লিবারেল দলের হয়ে তিনি ফেডারেল নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে এর আগে কোনো বাঙালি রোজল্যান্ড ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত না হওয়ায় আসন্ন ক্যান্টারবারি ব্যাংকসটাউন কাউন্সিল নির্বাচনে অনেকেই শাহে জামান টিটুর জয়লাভের বিষয়ে আশাবাদী।
এ ছাড়া একই দল থেকে বেসহিল ওয়ার্ডে নির্বাচন করতে মনোনয়ন পেয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এনামুল হক। অনেক বছর যাবৎই তিনি কমিউনিটির বিভিন্ন সমাজসেবামূলক সংগঠনেরও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তবে ওয়ার্ডটিতে লিবারেল পার্টির অতীত অবস্থান খুব একটা মজবুত না হলেও তা নিয়ে তেমন চিন্তিত নন এনামুল। নির্বাচিত হয়ে সকলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যই কাজ করতে আশাবাদী তিনি।
এদিকে, ক্যান্টারবারি ব্যাংকসটাউন কাউন্সিল নির্বাচনে ব্যাংকসটাউন ওয়ার্ডে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়েছেন শফিকুল্লাহ লিংকন। দলীয় রাজনীতি থেকে কাউন্সিল নির্বাচনকে মুক্ত রাখতেই স্বতন্ত্রভাবে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছেন তিনি। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন বাঙালি কমিউনিটির ব্যাপক সমর্থনও পেয়েছেন তিনি।
আবার একই ওয়ার্ডে লিবারেল পার্টি থেকে মনোনীত হয়েছেন আকিল আহমেদ। দলের হয়ে ব্যাংকসটাউন ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে দলটির সঙ্গে জড়িত তিনি। তবে তার নির্বাচনী এলাকায় বিরোধী দলের সমর্থক বেশি হলেও বাংলাদেশি হয়ে অস্ট্রেলিয়ার সরকার ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী আকিল আহমেদ।
অস্ট্রেলিয়ার সরকার কাঠামো তৈরির নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আনন্দিত অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা। ব্যাংকসটাউনে বসবাসরত একজন বাংলাদেশি এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশিরা যে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে পারে, আসন্ন নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিদের এই অংশগ্রহণই তা বলে দেয়। এ ছাড়া রোজল্যান্ড এলাকার একজন প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, কোনো বাংলাদেশির এগিয়ে যাওয়া কিংবা সাফল্য আমাদেরও অনুপ্রাণিত করে।
কাউন্সিলর নির্বাচনে অধিকসংখ্যক বাংলাদেশিদের জয়লাভ ঘটলে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাঙালিরা নিজেদের অধিকার সহজেই সরকারের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে বলেও আশাবাদী দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা।

কাউসার খান: সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।