এতদিন পর হঠাৎ নতুন তথ্য দিলেন সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা

../news_img/55568mmri iu.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক : ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ধ্রুবতারা হয়ে সালমান শাহ’র আবির্ভাব। মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। যে রহস্যের জট আজো খোলেনি। সালমান শাহ’র পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সন্দেহের আঙুল ওঠে স্ত্রী সামিরার দিকে। ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সালমান শাহ’র সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন সামিরা। প্রেমের বিয়ে পায় সফল পরিণতি। কিন্তু খুব দ্রুতই পরিণয় রূপ নেয় গভীর শোকে। এতদিন পর হঠাৎ নতুন তথ্য দিলেন সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা, বলেছেন সালমান শাহ’র সঙ্গে তার প্রেম, বিয়ে, দাম্পত্যজীবন এবং স্বামীর মৃত্যুপরবর্তী দুঃসহ সেইসব দিনের কথা। সামিরার বয়ানে পড়ুন এই ধারাবাহিকের প্রথম কিস্তি।

আমার ছোটবেলা কেটেছে চট্টগ্রাম। সেখানেই লেখাপড়া করি। আমরা বাবা সাবেক তারকা ক্রিকেটার শফিকুল হক হীরা। আমার মা লতিফুল হক লুসি। আমার আম্মা চাইনিজ। চট্টগ্রামে মায়ের পার্লার ছিল। আম্মার সঙ্গে মলি খালার ভালো সর্ম্পক ছিল। ১৯৯০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রাম ক্লাবে একটি ফ্যাশন শোয়ের আয়োজন করা হয়। ফ্যাশন শোয়ের সদস্য ছিল আমার বাবা। সে হিসেবে আমি ফ্যাশন শো দেখতে গিয়েছিলাম। মলি খালাও শো দেখতে গিয়েছিল।

সেদিন অনেকের সঙ্গে ইমন (সালমান শাহ) নামের একটি ছেলে পারফর্ম করেছিল। শো শেষে মলি খালা ইমনের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেয়। ইমন খালার বড় বোনের ছেলে। পরিচয়ের প্রথম কথাতেই ইমন হঠাৎ সবার সামনে আমাকে বলে বসল, ‘তুমি কিন্তু আমার বউ!’

কথাটা শুনে আমি ভেবেছিলাম ছেলেটা একটা পাগল! পর দিন সকালবেলা ইমন মলি খালাকে নিয়ে আমার আম্মার পার্লারে চলে আসে। তখন সে আমাকে একটি চিঠি দিয়ে যায়। চিঠিটি ছিল রক্তে লেখা। রক্তের চিঠি দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এর আগেও প্রেমের চিঠি পেয়েছি। কিন্তু রক্তে লেখা চিঠি এই প্রথম। সুতরাং কীভাবে ধরব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। চিঠির শুরুটাই ছিল ‘বউ’ দিয়ে। এরপর লেখা: ‘প্রথম দেখাতেই আমি বুঝে গেছি আমার জীবনে আমি কাকে চাই। আমি দেখা মাত্রই বুঝে গেছি তুমি আমার।’

চিঠিটা বাংলায় লেখা ছিল। ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ার কারণে তখন আমি বাংলা ভালো পড়তে পারতাম না। এরপর অনেকবার ও ফোন করেছে। বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থেকেছে। এভাবেই চার মাস চলল। ইমন তখন বাংলা মিডিয়াম থেকে এইচএসসি পাস করেছে। আর তখন আমার বয়স ১৭ বছর। অক্টোবরের ১৭ তারিখ আমি ইমনের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হই। এরপর থেকে ইমন প্রতি মাসের ১৭ তারিখ আমাকে ফুল দিত। পরে আমাদের প্রেমের বিষয়টি বাসায় জানাজানি হয়ে যায়। এজন্য আমি আম্মুর হাতে মারও খেয়েছি। ইমন বাসার সামনে চলে আসত। সিগারেট দিয়ে হাত পুড়িয়ে ‘এস’ লিখে দেখাত।

ইমন আগে থেকেই মডেলিং ও টুকটাক নাটকের কাজ করত। শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে কিন্তু সময় দিতে ভুল হতো না তার। তাজিব নামে ইমনের এক বন্ধু ছিল। তাজিব ভাইয়ের বাসা ছিল গ্রীনরোড। ৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাজিব ভাইয়ের গাড়িতে আমি-ইমন একসঙ্গে বেড়াতে বের হই। ঘুরতে ঘুরতে অনেক রাত হয়ে যায়। বনানীতে পুলিশ আমাদের গাড়ি থামায়। তারা জানতে চাইল  আমরা সম্পর্কে কী হই? ইমন স্ট্রেইট বলে দিলো আমাদের প্রেমের কথা। বিয়ে না করে এত রাতে ঘোরাঘুরি করছি বলে পুলিশ আমাদের আটক করে। পরে আমার এক মামা আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।

আমার ও লেভেল পরীক্ষা চলছিল তখন। ইমন আমাকে এ সময় বিয়ের প্রস্তাব দিলো। আমি রাজি হইনি। আমি ইমনকে বলেছিলাম, আমার পরীক্ষাটা শেষ হোক। এখন আমার পরিবার বিয়ে দিতে রাজি হবে না। কিন্তু ইমন আমাকে পালিয়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। তখন আমি তাকে স্পষ্ট বলেছিলাম- আমি পালিয়ে বিয়ে করতে পারব না।

এই কথা কেন বললাম? সেই রাগে সে সুইসাইড করতে  বিষ খেয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে ইমনের ছোট ভাই বিল্টুকে ল্যান্ড ফোনে কল দিয়ে দ্রুত আসতে বললাম। পরে বিল্টু ও তার বন্ধুরা মিলে ইমনকে হলি ফ্যামিলিতে নিয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে এখনও সে রেকর্ড আছে। এর আগেও ইমন সুইসাইড করতে চেয়েছিল! আসলে আমার পরিবার চাইত না ইমনের সঙ্গে আমার বিয়ে হোক। তারপরও ১৯৯২ সালে ১২ আগস্ট ধুমধাম করেই ইমনকে বরণ করে নিয়েছিল আমার বাবা-মা।