ভারতে সিনিয়র সাংবাদিক গৌরিকে গুলি করে হত্যা, ক্ষোভ

../news_img/54653 mri n k i.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ভারতের একজন সিনিয়র সাংবাদিক গৌরি ল্যাঙ্কেশকে (৫৫)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আটটার দিকে ব্যাঙ্গালুরুতে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশ মনে করছে, তাকে হত্যা করেছে পেশাদার খুনিরা। কমপক্ষে ৩টি গুলি বিদ্ধ হয়েছে তার শরীরে।

এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে ভারতে। ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সাংবাদিক সমাজ। সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সুশীল সমাজ সহ সর্বস্তরের মানুষ এমন হত্যাকাণ্ডে বাকরুদ্ধ। তারা বলছেন, এ হত্যাকাণ্ড গণতন্ত্রের ওপর হামলা। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তার মন্ত্রীপরিষদের বিভিন্ন সদস্য, বিরোধী দল কংগ্রেসের সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী সহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।

তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলেছে, মঙ্গলবার রাতে নিজের বাসার বাইরে রাত আটটার দিকে বাসার গেট খোলার জন্য গাড়ি থেকে নামেন এই সিনিয়র সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী। সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির মতো গুলি এসে বিদ্ধ করে তাকে। সাতটি গুলি করা হয় তাকে লক্ষ্য করে। এর মধ্যে তিনটি গুলে তার শরীর ভেদ করে। তিনি মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়েন। নিথর হয়ে যায় তার দেহ। খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা হয়। ৫৫ বছর বয়সী গৌরির দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় তার গাড়ির ওপর। ঘটনার সময় প্রতিবেশীরা গুলির শব্দকে মনে করেছিলেন আতশবাজির শব্দ। এ জন্য কেউ আর এগিয়ে যান নি। পরে গৌরিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। 

পুলিশ সন্দেহ করছে ভাড়াটে খুনিরা তাকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে নিহত সাংবাদিক গৌরির পরিবার বলছে, হত্যাকাণ্ড ধরা পড়েছে বাসার খুব কাছেই লাগানো সিসিটিভিতে। তাতে দেখা যাচ্ছে, একজন খুনির মাথায় হেলমেট। পরনে কালো পোশাক। নিহত গৌরির ভাই, চলচ্চিত্র নির্মাতা সাংবাদিকদের বলেছেন, পুরো ঘটনা ধরা পড়েছে বাসার সামনে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায়। আমি আশা করছি, অপরাধীরা শিগগিরই ধরা পড়বে। ওদিকে দু’বছর আগে সুপরিচিত বিজ্ঞজন এম এম কালবারগিকেও ঠিক একই কায়দায় তার বাসায় হত্যা করা হয়েছিল। ব্যাঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার দিন ধারবাদে তার বাসায় যায় অজ্ঞাত মোটরসাইকেল চালকরা। এ সময় তার বাসায় নক করলে তিনি দরজা খুলে দেন। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের এখনও কোনো সুরাহা হয় নি। সাংবাদিক গৌরি ও এম এম কালবারগি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টিবি জয় চন্দ্র। কারণ, এ দুটি ঘটনায়ই খুনিরা গুলি করেছে খুব কাছে থেকে। তারা এসেছিল মোটরসাইকেলে করে। এ দু’জন সুপরিচিত মানুষকেই গুলি করা হয়েছে বুকে ও মাথায়।

 এরই মধ্যে বাসার বাইরে যে দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন গৌরি তার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারের পাসওয়ার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। তা ব্যবহার করে দেখা গেছে, খুনিরা মিসেস গৌরিকে কাজ থেকে তার বাসায় আসা পর্যন্ত অনুসরণ করছিল অথবা তাদেরকে কাছেই আত্মগোপন করে ছিল গৌরির ফেরার প্রতীক্ষায়। পুলিশ বলেছে, গৌরি যে পথে বাসায় ফিরেছেন সেই পথের সন্ধান পাওয়া গেছে। ফলে তারা ওই পথে স্থাপিত বিভিন্ন সিসিটিভির ফুটেজ যাচাই করে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। সাংবাদিক, অধিকারকর্মী ও প্রথম সারির ব্যক্তিরা এ হত্যাকাণ্ডকে অভিহিত করেছেন সেইসব মানুষের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়া, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। এর প্রতিবাদে আজ সারা ভারতে বিক্ষোভ প্রতিবাদ আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

রাজ্য সরকার বলেছে, পরিবার বা পুলিশের কাছে কখনো নিহত ওই সাংবাদিক তার হুমকির বিষয়ে কিছু জানান নি। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামালিঙ্গা রেড্ডি বলেছেন, গত সপ্তাহে তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন। আমার সঙ্গে সাক্ষাত করতে চেয়েছিলেন। ওই সময়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলাম না। তিনি সোমবার আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আসেন নি।