টাওয়ার হ্যামলেটসে বাঙালী ল্যান্ডলর্ডকে ৬হাজার পাউন্ড অর্থদন্ড

../news_img/54661 mri n k i.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক ::  টাওয়ার হ্যামলেটসের বো এলাকার তিন বেড-রুমের একটি ফ্লাটে ১৬ জনকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসে বাধ্য করা এবং যথাযথ অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার দায়ে ফ্লাটের মালিককে অর্থদন্ড ও মামলার খরচ বাবদ ৬ হাজার পাউন্ডের বেশি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলর এনভায়রনমেন্টাল অফিসারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই অর্থ দন্ড প্রদান করেন।

এক সময়কার কাউন্সিল মালিকানাধীন ফ্লাটের বর্তমান লীজ মালিক নজরুল ইসলাম ভুইঁয়া তাঁর বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতে দোষ স্বীকার করে নিলে বো ম্যাজেস্ট্রেট কোর্ট গত ১৭ আগষ্ট তাকে ৪ হাজার ৭৫০ পাউন্ড জরিমানা করেন। একই সাথে মামলার খরচ বাবদ কাউন্সিলকে ১,৪২৯.৬৮ পাউন্ড এবং ভিক্টিম সারচার্জ বাবদ আরো ১০০ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেন। কাউন্সিলের হেলথ এবং হাউজিং টিমের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অফিসাররা বোম্বর শেফিহ্ব স্কোয়ারে অবস্থিত উক্ত ফ্ল্যাটে গিয়ে ১৬ জন ভাড়াটেকে দেখতে পান, যাদের মধ্যে ৭ জনই শিশু। এদের মধ্যে রয়েছে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তিনটি পরিবার, ৩ সদস্যের একটি পরিবার ও একজন পুরুষ।

একেকটি পরিবার একেকটি রুমে অত্যন্ত গাদাগাদি অবস্থায় বসবাস করছিলো। তারা সবাই একটি কিচেন, বাথরুম ও টয়লেট ব্যবহার করতো। মাত্রাতিরিক্ত গাদাগাদি পরিবেশের কারণে ফ্ল্যাটটিতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকাটা অত্যন্ত জরুরী হলেও, কোন ব্যবস্থাই ছিলো না। বেডরুম ও কিচেনে কোন ফায়ার ডোর কিংবা আগুন সনাক্তকরণের কোনরূপ ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। আদালতে শুনানিকালে উল্লেখ করা হয় যে, ফ্ল্যাটটির মালিক সর্বোচ্চচ পর্যায়ে রেন্টাল ইনকাম নিশ্চিত করতে ঘরটিকে সংস্কার করেন, যা ভাড়াটেদের জীবনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যদি অগ্নিকান্ডের কোন ঘটনা ঘটতো, তাহলে ভাড়াটে ও তাদের শিশু সন্তানদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তো।

অর্থ দন্ড ঘোষনাকালে আদালত এটা পরিস্কার করেন যে, জরিমানার অর্থ নির্ধারনের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাটটির মালিক ইলফোর্ড এর রবিনিয়া ক্লোজের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দোষ স্বীকার করে নেয়ার বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি মেয়র এবং কেবিনেট মে“ার ফর হাউজিং, কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাইভেট টেনেন্টদের সেফটি বা নিরাপত্তা, বিশেষ করে অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি কাউন্সিল অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে থাকে। যেসকল ল্যান্ডলর্ড ব্যবসা হিসেবে ঘর বাড়ি ভাড়া দেন, তাদেরকে অবশ্যই সকল আইনী দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে।

খারাপ বাড়িওয়ালা, যারা তাদের ভাড়াটেদের শোষন করে এবং তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়, তারা কাউন্সিলের কাছ থেকে কঠোর পদক্ষেপ আশা করতে পারে। যদি আমরা দেখি যে, ভাড়াটেদের সুরক্ষার আইনের কোন ব্যতয় ঘটছে, তাহলে আমরা তা তদন্ত করবো এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন ভাড়াটে বাড়ি-ঘর নিয়ে আমাদের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ ডিপার্টমেন্টের কার্যক্রমকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দৃঢ়তার সাথে সমর্থন করছেন। এই বারায় প্রাইভেট রেন্টেড ঘরের মান উন্নয়নে এবং টাওয়ার হ্যামলেটস প্রাইভেট রেন্টার্স চার্টারের মাধ্যমে ভাড়াটেদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।