ঘুষ না দেয়ায় স্ত্রীকে গ্রেফতার, খবর শুনে স্বামীর মৃত্যু

../news_img/55593mmri iu.jpg


মৃদুভাষণ ডেস্ক::পুত্রবধূ নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে মোটরসাইকেলের তেল খরচ চেয়ে না পাওয়ায় এক নারীকে আটক করে পুলিশ। আটকের খবরে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন তার স্বামী।

বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কাটাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে মোটরসাইকেলের তেল খরচের এক হাজার টাকা না দেওয়ায় ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। স্ত্রীকে আটকের খবর শুনে ঘরের ভেতরে স্বামী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। পরে স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে স্ত্রীকে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার কাটাখালী গ্রামের শানু হাওলাদারের (৭০) ছেলে সুমন হাওলাদারের নামে তার স্ত্রী সুখী বেগম নলছিটি থানায় একটি অভিযোগ দেয়। যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে নলছিটি থানা পুলিশ।

বুধবার দুপুরে এএসআই জসিম শানু হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে সুমন হাওলাদারকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে পুলিশ মোটরসাইকেলে আসার তেল খরচ বাবদ এক হাজার টাকা চায় সুমনের মা সালেহা বেগমের কাছে। টাকা দিতে না পারায় পুলিশ তাকে বলে, আপনার বিরুদ্ধেও পুত্রবধূ নির্যাতনের অভিযোগ আছে, আপনাকে আটক করলে ছেলেকেও পাওয়া যাবে।

এক পর্যায়ে বৃদ্ধ স্বামীর সামনেই পুলিশ সালেহা বেগমকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যাচ্ছে দেখে স্বামী শানু হাওলাদার হার্ট অ্যাটাকে অসুস্থ হয়ে কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ আধঘণ্টা পড়ে সালেহা বেগমকে ছেড়ে দেয়। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জানাজা শেষে শানু হাওলাদারের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সালেহা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশ এসেছিল আমার ছেলেকে ধরতে। তাকে না পেয়ে পুলিশ গালাগাল শুরু করে। আমার কাছে তেল খরচের এক হাজার টাকা চায়। টাকা দিতে না পারায় আমাকে আটক করে পুলিশ। এ খবর শুনে আমার স্বামী হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়। আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য পুলিশই দায়ী।

নলছিটি থানার ওসি একেএম সুলতান মাহামুদ বলেন, ‘সুমনের স্ত্রীর দায়ের করা একটি অভিযোগের তদন্তে গিয়েছিল এএসআই জসিম উদ্দিন সিকদার। তিনি সবাইকে ডেকে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে আটকের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে জসিম ওই বাড়ি থেকে চলে আসার পরে গৃহকর্তা শানু হাওলাদার মারা যায়। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু এখানে কারো হাত নেই।’

এ ব্যাপারে নলছিটি থানার এএসআই  জসিম উদ্দিন সিকদারের ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরিচয় দিয়ে এ প্রতিবেদক একটি ম্যাসেজ পাঠালেও তার উত্তর দেননি তিনি।