মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের ডাক ইসলামী আন্দোলনের

../news_img/54692 mri n k i.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এছাড়া ১১ সেপ্টেম্বর প্রতি জেলায় বিক্ষোভ ও ১২ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে দলটি।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমের উত্তর গেটে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে এই ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির ফয়জুল করিম। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে আবার বায়তুল মোকারমে এসে শেষ হয়।

ফয়জুল করিম বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি চলবে। দূতাবাস ঘেরাওয়ের পরও যদি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হয় তবে সারাদেশের তৌহিদী জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাফ নদী পর হয়ে গোটা বার্মা দখল করে নেবে।’

ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চলছে তা এই আসমান কোনো দিন দেখেনি। ‍মিয়ানমারে মুসলিম নিধনের জন্য অং সান সু চি নোবেল পেয়েছেন। এই মুসলিম নিধনের জন্য সু চি মানুষ হত্যার কারখানা খুলেছেন।’ এই মানব হত্যার জন্য সু চি বিচার দাবি করেন তিনি।

বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলো সমালোচনা করে ফয়জুল করিম বলেন, ‘বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলো এখন কোথায়? এই যে রোহিঙ্গা নির্যাতন চলছে, তাদের কোনো ভূমিকা নাই। রোহিঙ্গারা কি মানুষ নয়?’ জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃত্বকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ফয়জুল করিম বলেন, ‘মিয়ানমার বলছে রোহিঙ্গারা না কি তাদের নাগরিক নয়। এ রোহিঙ্গারা আরাকানে শত শত বছর ধরে রয়েছে। তাই যদি হয় তবে আমি সরকারকে বলব আরাকান মিয়ানমারের অংশ নয়, ওটি বাংলাদেশের অংশ এবং আরাকান দখল করে নিয়ে সেখানে শান্তি স্থাপনের জন্য।’

বিক্ষোভ সমাবেশে অং সান সূ চির বিচার দাবি করা হয়। এছাড়া রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানানো হয়।

এছাড়া আজ বায়তুল মোকাররম এলাকায় রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আরও কয়েকটি ইসলামি দলও বিক্ষোভ করে। জুমার নামাজের পর পুরো এলাকা মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠে।