রায় ইস্যুতে উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ

../news_img/55419mmri iu.jpeg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::দশম জাতীয় সংসদের সপ্তদশ অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ রবিবার বিকাল ৫টায়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ২২ আগস্ট এ অধিবেশনের আহ্বান করেন।

সংসদের শরৎকালীন এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেযা রায় নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে সংসদের এই অধিবেশন। রায়ের পর্যবেক্ষণে সংসদ নিয়ে যেসব মন্তব্য করা হয়েছে তা নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন সংসদ সদস্যরা।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ জানান, এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে। তবে ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। বলেন, যেহেতু ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে সংসদ নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য আছে, সংসদ সদস্য এতে নিজেদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করলে আলোচনা করতেই পারেন। তবে আইন ও নীতিমালার বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্যরা কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে আশ্বস্ত করেন চিফ হুইপ।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত হয়। ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রতিস্থাপিত করেছিল জাতীয় সংসদ। ওই সংবিধানের ৯৬ ধারা অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে বিচারপতিদের অপসারণ করতে পারতো সংসদ।

গত ১ আগস্ট এই মামলার যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে, তাতে শাসনব্যবস্থা, সংসদ নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে নানা মন্তব্য এসেছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতারা এই পর্যবেক্ষণের কড়া সমালোচনা করেছেন।

অধিবেশনের মেয়াদ হবে সংক্ষিপ্ত

সংসদ সচিবালয় থেকে জানা গেছে, এ অধিবেশনের মেয়াদ এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন হতে পারে।

ইতিমধ্যে সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে সপ্তদশ অধিবেশনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অবশ্য রবিবার বিকাল ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সংসদ কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় সপ্তদশ অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যক্রম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে দশম জাতীয় সংসদের ১৬তম (বাজেট) অধিবেশন গত ১৩ জুলাই শেষ হয়। ৩০ মে শুরু হওয়া ওই অধিবেশনে গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। গত ২৯ জুন এ বাজেট পাস করা হয়।

মোট ২৪ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ১৫টি সরকারি বিলের মধ্যে সাতটি পাস হয়। আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে ১৯০টি নোটিশ পাওয়া যায়। নোটিশগুলো থেকে ১২টি গৃহীত নোটিশের মধ্যে সাতটি আলোচিত হয়। এছাড়া ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিটের আলোচিত নোটিশের সংখ্যা ছিল ৫৭টি।

এছাড়া ১৬তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দানের জন্য সর্বমোট ১৬৯টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। তার মধ্যে তিনি ৭০টি প্রশ্নের উত্তর দেন। মন্ত্রীদের জন্য আনা দুই হাজার ৮০৯ টি প্রশ্নের মধ্যে এক হাজার ৯৩৮টি প্রশ্নের জবাব দেন।