রোহিঙ্গা নিয়ে মোদির নির্দেশ মানবে না মমতা

../news_img/55425mmri iu.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর যে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা মানবে না বলে জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ওই পদক্ষেপকে ‘অমানবিক’ বলেও রাজ্য সরকার মন্তব্য করেছে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কমপক্ষে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করে বলে সরকার মনে করছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যগুলোকে শরণার্থী ইস্যুতে টাস্ক ফোর্স গড়ে অবৈধভাবে আসা শরণার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত ৮ আগস্ট এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা ভারতের চোখে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। আইনে যেহেতু ওরা বৈধ অভিবাসনকারী নয়, সেজন্য ওদের ভারত থেকে বের করে দেওয়া হবে। আইন অনুসারেই অবৈধ শরণার্থীদের দেশ থেকে চলে যেতেই হবে’ বলে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু ভারতে বিভিন্ন দেশের শরণার্থী থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার কেবলমাত্র রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বের দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক এক শীর্ষ কর্মকর্তা অবশ্য কোনো রাখঢাক না করেই বলেছেন, রোহিঙ্গারা ‘মুসলিম’ বলেই কেন্দ্রীয় সরকার এমন অবস্থান নিচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্র ‘অমানবিক’ হলেও আমরা তা হতে পারব না।

কেন্দ্রীয় সরকারের চাপে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোমে বন্দি থাকা ২৩ জন নারী ও শিশুকে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের দেয়া বিশেষ পরিচয়পত্র বিতরণ বন্ধ রাখতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কার্যত ধমক দিয়ে পরিচয়পত্র বিতরণ বন্ধ করিয়েছেন।

এদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন।

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের আমীর মুহাম্মদ নূরুদ্দিন রোববার রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘রাজ্য সরকারের ওই ‘মানবিক সিদ্ধান্ত’কে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেরই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মুহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন, ‘আমরা ভারত সরকারের উদ্দেশ্যেও আবেদন জানাচ্ছি তারা যেন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এবং মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে যেন চাপ সৃষ্টি করে যাতে সেখানকার চলমান সঙ্কট ও জীবনহানি যাতে বন্ধ হয়।’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গনহত্যার প্রতিবাদে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের উদ্যোগে ও বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সোমবার কোলকাতার মিয়ানমার কনস্যুলেট ঘেরাও, প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে জানা যায়।