নরসিংদী থেকে রায়পুরায় যান চলাচল বন্ধ ২৪ইউনিয়নের মানুষেরা ভোগান্তি

../news_img/54724 mri nu i.jpg

নরসিংদী প্রতিনিধি ::  নরসিংদীর আরশিনগরস্থ সিএনজি ষ্ট্যান্ডটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলে আসছে। একটি প্রভাবশালী মহল সিএনজি, অটোরিক্সা ও অন্যান্য তিন চাকাওয়ালা যানবাহন থেকে অবৈধভাবে টোল নিয়ে আসছিল।

জানা যায়, সি.এন.জি ষ্ট্যান্ডের অবৈধ চাদা নিয়ে প্রভাবশালী মহলের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ হয়। এরই প্রেক্ষিতে বর্তমানে সি.এন.জি ষ্ট্যান্ডটি সরকারী নিষেধাজ্ঞা দিয়ে উঠিয়ে দেয়া হয়। সি.এন.জি ষ্ট্যান্ডটি উঠিয়ে দেয়ার পর পরই নরসিংদী সদর থেকে রায়পুরা উপজেলাতে যাওয়ার সকল যানবাহন বন্ধ হয়ে যায় (ট্রেন ব্যাতীত)। তৎকালীন সাবেক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু রাস্তাটি নির্মাণ করে রায়পুরা উপজেলাধীন ২৪টি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়ত ব্যবস্থা সুগম করেন। কিন্তু বর্তমানে সি.এন.জি ষ্ট্যান্ড এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করায় সি.এন.জি চালকসহ অন্যান্য তিন চাকাওয়ালা ড্রাইভাররা এ রাস্তায় আর গাড়ি চালাবেন না বলে জানা গেছে।

রাস্তা অবরোধ করে ২৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় থ্রি হুইলার চলাচলে সরকারী নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছে চালক ও মালিকরা। মহাসড়কে গাড়ি চলাচল না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারন যাত্রীরা। এদিকে সাধারন মানুষেরা যাতায়তের জন্য কোন গাড়ি না পেয়ে হেটে হেটে যার যার কর্মস্থলে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার পারছেন না।

এই নিষেধাজ্ঞা জারীর পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। এর প্রতিবাদে ওইদিনই বিক্ষোভ করে মালিক-শ্রমিকরা। অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ এখনো পর্যন্ত চলে আসছে।

আরশিনগর-রায়পুরা মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচলে সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে নরসিংদীর হাসনাবাদ, মেথিকান্দা, আমিরগঞ্জ, শ্রীনিধিসহ বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে অটোরিক্সা চালক ও মালিকরা। অন্যদিকে মহাসড়ক বন্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তিন চাকার মালিক ও শ্রমিকরা। ৯ সেপ্টেম্বর, রবিবারে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও অবরোধ করে তিন চাকার যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকরা নিষেধাজ্ঞা জারী প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলন করেন। মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা বন্ধের প্রতিবাদে নরসিংদী সিএনজি অটোরিক্সা চালক ও মালিকরা আরশিনগর-রায়পুরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। আরশিনগর-রায়পুরা মহাসড়কে নিলক্ষ্যা নামক স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে অটোরিক্সা মালিক ও চালকরা। সিএনজি চালকরা জানান, আমরা গাড়ি না চালালে যাত্রীরা চরম সংকটে পড়বে। কোনোভাবেই এ রাস্তায় সিএনজি অটোরিক্সা ছাড়া যাতায়ত সম্ভব না। নরসিংদীর বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামান এর আদেশ মোতাবেক সি.এন.জি ষ্ট্যান্ডটি বন্ধ হয়ে যাবার পর পরই রায়পুরার সর্ব সাধারন যাতায়ত করতে পারছে না। রায়পুরার সাধারন জনগনের দাবি সি.এন.জি ষ্ট্যান্ডটি পুনরায় চালু করা হোক।

চলমান সংকটের কবলে প্রায় সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীরা সড়কে নেমে পায়ে হেঁটে, ভ্যানে করে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছেন। আরশিনগর-নরসিংদী মহাসড়কে অটো, সিএনজিসহ অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় শত শত দোকানিও বিপাকে পড়েছেন। শহর থেকে নি প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের কোন সুযোগ নেই। ফলে পিকআপ কিংবা পায়ে চালিত রিক্সা-ভ্যানে মালামাল পরিবহনে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ফলে দামও বেড়ে যাচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় মালামালের। পুলিশী অভিযানে সড়কে অটো, সিএনজিসহ অযান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের মাঝে সরকারের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সরকার সারা দেশের মহাসড়কগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিক্সা ও অটোটেম্পো চলাচল ১ আগস্ট থেকে নিষেধ করেছে। মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চলাচল নিষিদ্ধের ফলে আরশিনগর-রায়পুরায় চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

এদিকে, আরশিনগর-রায়পুরা মহাসড়কের ২৪ টি ইউনিয়নের সংযোগ রাস্তাগুলোতে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চলাচল না করায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে বেশ কিছু সিএনজি মহাসড়কে অবস্থান নিলেও পুলিশী বাধায় চলাচল করতে পারেনি।