নাট্যকলা অধ্যয়নে বাংলাদেশের প্রথম কমনওয়েলথ স্কলার সুদীপ চক্রবর্তী

../news_img/54732 mri nu i.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সুদীপ চক্রবর্তী বাংলাদেশের একজন তরুণ নাট্যশিল্পী ও শিক্ষক। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাজ্য সরকার প্রদত্ত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ২০১৭ লাভ করেছেন। নাট্যকলা অধ্যয়নে বাংলাদেশ থেকে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ পাওয়া প্রথম ব্যক্তি তিনি।   চলতি সেপ্টেম্বর থেকে গোল্ডস্মিথস্, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিভাগে ‘পারফর্মিং বাংলাদেশ: আইডেনটিটি, ভায়োলেন্স এন্ড কনসিলিয়েশন (১৯৭১-২০১৩)’ শিরোনামে পিএইচডি অধ্যয়ন শুরু করবেন।

সুদীপ চক্রবর্তীর জন্ম  ১৯৮০ সালে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে।   তাঁর ২৫টি নির্দেশিত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চাকা, রক্তকরবী, দক্ষিণা সুন্দরী, প্রণয় যমুনা, মহাজনের নাও, লাল জমিন, ফণা, গহনযাত্রা, ম্যাকবেথ, শেক্সপিয়র সপ্তক, জ্যোতিসংহিতা, বিভাজন, পাইতাল প্রভৃতি। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নাট্যদল প্রযোজিত প্রায় ৫০ নাটকের মঞ্চ, আলো, পোশাক, দ্রব্য ও মুখোশ পরিকল্পনা করেছেন তিনি। সমাদৃত হয়েছে তাঁর নবরূপায়ণে মঞ্চস্থ হওয়া থিয়েটারের কালজয়ী নাটক সৈয়দ শামসুল হকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনের রচনা ও ফেরদৌসী  মজুমদারের একক অভিনীত কোকিলারা।

যুক্তরাজ্যে ২০তম কমনওয়েলথ গেমস নাট্যোত্সব, কন্টাক্ট থিয়েটার নাট্যোত্সব, চিকেনশেড নাট্যোত্সব, সিজন অব বাংলা ড্রামা, দক্ষিণ কোরিয়ায় কিওচাং নাট্যোত্সব এবং ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন রাজ্যের নাট্যোত্সবে তাঁর নির্দেশিত নাটক আমন্ত্রিত ও প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের দেশজ নাট্যকলা ও নাগরিক নাট্যকলা বিষয়ক তাঁর গবেষণা প্রবন্ধসমূহ বাংলা একাডেমী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশ করেছে।

নাট্যশিল্পের ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নবান করে তোলাই শিক্ষকের প্রথম কাজ বলে দাবি করেন এই তরুণ শিল্পী-শিক্ষক।
তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর আলোচনাকে সুখময় করার জন্য প্রতিদিন নতুন করে ক্লাস প্রেজেন্টেশন, যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাইরে অবস্থান করা একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু আশা না করে আগে শিক্ষকদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন।