রোহিঙ্গাশূন্য করতেই নির্যাতন, নেপথ্যে রাখাইনে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা

../news_img/54736 mri nu i.jpg

মৃদুভাষন ডেস্ক ::  মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতনে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ৮০ ভাগই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। বাকি ২০ ভাগ শিশু ও বয়স্ক পুরুষ। ১০-৪৫ বছর বয়সী সুস্থ বালক থেকে পুরুষের সংখ্যা খুবই কম। এ বয়সী ছেলেদের সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয়া হয়নি। রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সামনে কিশোর-যুবকদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ছেলেশিশুদের ঘরে বন্দি করে আগুন দেয়া হয়েছে। বাড়িঘরের সঙ্গে ছেলেসন্তানও পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আর কিছু ধরে নিয়ে বন্দি করে রেখেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মূলত রাখাইনকে রোহিঙ্গাশূন্য করতেই বর্বর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। দেশ ছেড়ে আসা পরিবারের সদস্যরা জানেন না তাদের কি হয়েছে, বেঁচে আছেন না মরে গেছেন। বেঁচে থাকলে স্বামী-সন্তানরা কবে ফিরবেন সেই প্রত্যাশায় আছেন রোহিঙ্গা নারীরা। এদিকে সংখ্যায় খুবই কম হলেও কিছু পুরুষ আত্মগোপনে চলে গেছেন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা বলেন, (পালিয়ে আসা শরণার্থী) এভাবে বেছে বেছে হত্যার পেছনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। রোহিঙ্গা নিধনে চালানো নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে না পারে। জন্মভূমি ফিরে পাওয়ার জন্য বিদ্রোহ করতে না পারে সে জন্য ১৪ থেকে ৪০-৪৫ বছর বয়সী কিশোর ও পুরুষকে হত্যা করা হচ্ছে। অন্য দেশে পালিয়ে গিয়ে এরা যাতে নতুন করে প্রজন্ম তৈরি করতে না পারে সে জন্যই হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরা। তারা বলেন, মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধিরা ঘোষণা দিয়েছেন, সবাইকে ফিরতে দেবে না। সে জন্য আমরা সীমান্ত পার হয়ে আসার পরই সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হচ্ছে। সীমান্ত সিল করে দেয়া হচ্ছে। স্থলমাইন পুঁতে রাখা হচ্ছে। এসবের উদ্দেশ্য কি? রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা বলছেন, তাদের ওপর যেভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে তা বর্ণনাতীত। বাবা-ভাইয়ের সামনে মা-বোন-স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। বাবা-মায়ের কোল থেকে শিশু কেড়ে নিয়ে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না। এসব দৃশ্য যে সন্তান দেখেছে সে কোনোদিন ভুলবে না। সম্ভব হলে এখনই অন্যথায় ভবিষ্যতে প্রতিশোধ নিত চাইবে। নতুন প্রজন্ম যাতে প্রতিশোধ নিতে না পারে সে জন্যই তাদের শেষ করে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। মূলত এ জন্য শরণার্থী শিবিরে পুরুষের সংখ্যা কম বলে তারা জানান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অবস্থান বঙ্গোপসাগরের খুবই কাছে। ফলে অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেক রাষ্ট্র ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে রাখাইনে বিনিয়োগ করেছে। তাদের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাড়িয়ে দেয়ার বিশেষ মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে সর্বশেষ হামলা শুরু হয় গত ২৪ আগস্ট ভোররাত থেকে। হামলায় পুরুষরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে এ পর্যন্ত তিন লাখ ১৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮০ ভাগেরও বেশি নারী ও শিশু। অর্থাৎ যারা আক্রান্ত হয়ে আসছেন তাদের তালিকায় পুরুষের সংখ্যা খুবই কম।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপেট্রিয়েশন কমিশন বলছে, ২৪ আগস্টের পর বাংলাদেশে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচআরসি বলছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। বাকি যারা আশ্রয় নিতে পালিয়ে আসছে তাদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় নেয়া অনেক নারী বলছেন, তাদের স্বামী, বাবা বা ভাইকে সেনাবাহিনী অথবা উগ্রপন্থী মগ সম্প্রদায় ধরে নিয়ে হত্যা করেছে অথবা তারা নিখোঁজ রয়েছেন। তারা বলছেন, ১০ বছরের কিশোর থেকে শুরু করে ৪০-৪৫ বছর বয়সী যুবকদের পেলেই ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা জানান, সে দেশের সেনাবাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের ধরে গুলি করে এবং গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। অনেকে পালিয়ে জঙ্গল ও পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পায়নি।

স্বজনের অপেক্ষায় নারীরা : সোমবার দুপুরের পর উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে ৭ নারীর সঙ্গে কথা হয়, যাদের স্বামীরা নিখোঁজ। এসব নারীর বয়স ১৬ থেকে ৩৫ বছর। তাদের

প্রত্যেকেরই এক বা একাধিক শিশুসন্তান রয়েছে। চারজন নারীর সঙ্গে কথা হয়েছে, যাদের ভাই ও বাবা নিখোঁজ। দু’জন নারীর সঙ্গে কথা হয়েছে, যাদের সন্তান নিখোঁজ। তাদের মধ্যে তাসলিমা বেগমের দুই সন্তান এবং ইয়াসমিন নামে এক নারীর চার সন্তান নিখোঁজ রয়েছে। তাদের দু’জনের বয়স ৫০ এর বেশি। তাদের সন্তানদের বয়স ১৬ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। তারা নিখোঁজদের ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এর বাইরে আরও তিন নারীর সঙ্গে কথা হয়েছে, যাদের বয়স ৩৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। তাদের তিনজনের স্বামী ও কিশোর বয়সী সন্তানকে সেনাবাহিনী ও মগরা হত্যা করেছে।

১৭ বছর বয়সী নারী রাজিয়া বেগম বলছিলেন, তিনি বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে মংডু থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। দুই বছর আগে আনোয়ার আলী নামে ২২ বছরের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এক বছর বয়সী তাদের একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর রাজিয়া স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন। ২৭ আগস্ট সেনাবাহিনী ও মগরা তাদের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাড়িতে তখন তার স্বামী ও ছোট ভাই অবস্থান করছিল। তাদের ধরে নিয়ে নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যা করেছে।

কুতুপালং ক্যাম্পে কথা হয় হাফেজা বেগম নামে ২৩ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে। তিনি জানান, মংডুর বুচিঢং এলাকায় তাদের ঘর ছিল। এক বিঘা চাষের জমি ছিল। গোয়ালে পাঁচটি গরু ছিল। ঈদের আগের দিন সেনাবাহিনী তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তার স্বামী হালিম মিয়াকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। তার ভাগ্যে কী জুটেছে তিনি তা জানেন না। চার সন্তানকে সঙ্গে করে তিন দিন আগে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। এখন তিনি কুতুপালং ক্যাম্পে অবস্থান করছেন।

সোমবার রাখাইনের মংডু হাইচ্ছোরাতা পুরান বাজারপাড়ার আবুল হাশিম সীমান্ত পাড়ি দিয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ হয়ে পৌঁছেন সোমবার। তারপর তিনি টেকনাফ কায়ুখখালীপাড়া এলাকায় আশ্রয় নেন। তিনি জানান, গ্রামে তার ছেলে ইব্রাহীমসহ ৮ যুবককে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অন্য সাতজন হলেন- আসাদুল্লাহ, সৈয়দুল আমিন, ওমর ফারুক, ইউনুচ, শামসু ও রশিদ। পালিয়ে আসা অপর রোহিঙ্গা নারী মংডু বাঘঘোনাপাড়া এলাকার সনজিদা জানান, তার স্বামী মো. ইয়াছিনকে সেখানে রেখেই তিনি পালিয়ে এসেছেন। স্বামীর কী হয়েছে তিনি জানেন না।

রাখাইন রাজ্যের মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী নির্মম নির্যাতনের ঘটনাকে পরিকল্পিত দাবি করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, পৃথিবীর কোনো জাতি, কোনো একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর এমন অমানবিক আচরণ করেছে- এমন নজির নেই। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নির্বিচারে মানুষ হত্যা, মেয়েদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। এসব ঘটনাকে আমি গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করছি। এটি পরিকল্পিত।

রোহিঙ্গাশূন্য করার পেছনের কারণ অর্থনৈতিক জোন : রোহিঙ্গাদের পুরুষশূন্য করতে গণহত্যা এবং নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের বিতাড়নের যে নীতি মিয়ানমার নিয়েছে এর পেছনে মূল কারণ রাখাইন রাজ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা। ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলার অং সাং সুচি রাখাইনে জাতিগত সমস্যা সমাধানে কফি আনানের নেতৃত্বে একটি এডভাইসরি কমিশন গঠন করে। রাখাইনে যেসব সম্প্রদায় আছে, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায় আছে, তাদের সঙ্গে কীভাবে সমঝোতা করা যায়, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয় কমিশনকে। ওই সময় যে কমিশন গঠন করা হয়েছে সেখানে ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৬ জনই মিয়ানমারের। গত ২৪ আগস্ট এই কমিশন মিয়ানমার সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরই সেখানে শুরু হয় রোহিঙ্গাদের হত্যা এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া।

নতুন করে জ্বলছে রাখাইন ৮ গ্রামে আগুন : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম বসতিতে এখনও প্রায় প্রতিদিনই নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমার সেনারা প্রতিদিনই মুসলমানদের বসতিতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। অসহায় মানুষ দিগি¦দিক ছুটছে। সেনাদের হেলিকপ্টার আকাশে চক্কর দিচ্ছে। টেকনাফ সীমান্ত থেকে পরিষ্কারভাবে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যাচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বলতে দেখা গেছে। যা সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ জ্বলন্ত গ্রামগুলো দেখতে সীমান্তে ভিড় জমিয়েছে।

রোহিঙ্গারা এখনও আসছে : রোহিঙ্গারা এখনও আসছেন। রোববার রোহিঙ্গাদের আনাগোনা কম থাকলে সোমবার রোহিঙ্গা প্রবেশের হার বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের রিফিউজি রিলিফ অ্যান্ড রিপেট্রিয়েশন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম যুগান্তরকে বলেন, রোববার পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার। এটি এখন চার লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এখনও রোহিঙ্গারা আসছে। এটি কোথায় গিয়ে ঠেকে এটাই এখন দেখার বিষয়।

পানি, খাবার স্যালাইন ও খাবারের তীব্র সংকট ক্যাম্পগুলোতে : টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে পানি, খাবার স্যালাইন এবং খাবারের তীব্র সংকট চলছে। কোনো ক্যাম্পেই এখনও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। অনেক শিশুর এরই মধ্যে ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন এনজিও ও জেলা প্রশাসন চেষ্টা করছে।

ক্ষুধায় কাতর অবুঝ শিশু : নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা নারীদের সঙ্গে থাকা ছোট ছোট শিশু সন্তানরা ক্ষুধায় কাতর। তাদের কারও বয়স দুই মাস, কারও এক-দুই বছর, কারও বা তিন থেকে ৭-৮ বছর। এই বয়সে যে শিশুটি থাকে মায়ের কোলে, যে শিশুটি থাকে সবচেয়ে নিরাপদ সেই শিশুটি আজ বাবা কিংবা মায়ের সঙ্গে উদ্বাস্তু। নেই খাবার। নেই থাকার একটু আশ্রয়। এ এক অমানবিক দৃশ্য। শিশুরা ক্ষুধার জ্বালায় কাতরাচ্ছে। তাদের জন্য নেই আলাদা করে খাবারের কোনো ব্যবস্থা।

রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের প্রস্তুতি শুরু : কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, সোমবার থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে জড়ো হওয়া রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবারই উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ও বালুখালীতে দুটি নিবন্ধন বুথ স্থাপন করা হয়েছে। আজ থেকে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা সব কাজ গুছিয়ে নিয়েছি। মঙ্গলবার থেকে রোহিঙ্গা নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে পারব বলে ধারণা করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ রোহিঙ্গাকে তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হবে, সংশ্লিষ্টরা এমনটি ধারণা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন ইউএনও।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে খোলা কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় ২০০ নতুন ঘর তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব ঘরে সাময়িকভাবে রোহিঙ্গাদের রাখা হবে। বর্তমানে এখানে এক হাজার ৬০০ পরিবার অবস্থান করছে। পরবর্তীতে আরও ঘর নির্মাণ করে সব রোহিঙ্গাকে একসঙ্গে একই এলাকায় রাখা হবে।-যুগান্তর