শরণার্থীদের ঢল কমাতে ইউরোপ-আফ্রিকার উদ্যোগ

../news_img/55449mmri iu.jpg

মৃদুভাষণ ডেস্ক::শরণার্থীদের ঢল কমাতে ইউরোপ-আফ্রিকার উদ্যোগ
ইউরোপমুখী শরণার্থীদের ঢল নিয়ন্ত্রণ করতে ফ্রান্সের উদ্যোগে সোমবার মিলিত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা। এ সংকট কিছুটা স্থিমিত হলেও এর মোকাবিলায় বেশকিছু সার্বিক উদ্যোগ নিতে চান তারা।

ইউরোপে শরণার্থীদের ঢল আর নাটকীয় মাত্রায় না থাকলেও এ সংকটের সমাধান এখনও কঠিন। জাতিসংঘের সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার শরণার্থী নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপের ভূখ-ে পা রেখেছে। আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ মানুষের পথেই মৃত্যু হয়েছে।

ফলে জার্মানিসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একাধিক দেশে বিষয়টি রাজনৈতিক সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পর সার্বিক সমাধানের লক্ষ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার প্যারিসে আফ্রিকা ও ইইউ’র কয়েকটি দেশের শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। আফ্রিকার দেশ নাইজার, চাদ ও লিবিয়ার জাতীয় ঐক্য সরকার ছাড়াও উপস্থিত থাকছেন জার্মানি, স্পেন ও ইতালির শীর্য নেতারা। ইইউ’র পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনিও এ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে শুধু সীমান্তে কড়াকড়ি যে যথেষ্ট নয়, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। যেসব দেশ থেকে শরণার্থীরা রওনা হচ্ছে, তাদের ভূমিকাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া যে কারণে শরণার্থীরা আদৌ ভিটেমাটি ছেড়ে উন্নত জীবনযাত্রার আশায় ইউরোপের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছে, সেই সমস্যার উৎস অন্তত কিছুটা হলেও দূর করতে হবে বলে মনে করছেন ইউরোপের কিছু নেতা। তাই প্যারিস সম্মেলনে আফ্রিকার দেশগুলোকে আরও উন্নয়ন সাহায্যের অঙ্গীকার করতে চায় ইইউ নেতৃত্ব। এভাবে কর্মসংস্থান বাড়িয়ে মানুষের মনে আশা জাগানোই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। এর বদলে সে দেশগুলোকে ইউরোপমুখী শরণার্থীদের ঢল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে। নাইজারের সরকার এক্ষেত্রে বেশকিছু সফল পদক্ষেপ নিয়েছে।
ফ্রান্স একক উদ্যোগে আফ্রিকায় কিছু ‘হটস্পট’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। শরণার্থীরা সেসব কেন্দ্রে গিয়ে আইনি পথে ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন জানাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আদম ব্যবসায়ীদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তাদের বিপজ্জনক পথে ইউরোপের উদ্দেশে পাড়ি দিতে হবে নাÑ এমন এক সুযোগ সৃষ্টি করতে চান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। ইউরোপের যেসব এনজিও সমুদ্রে শরণার্থীদের সহায়তা করে, ইতালি তাদের জন্য এক আচরণবিধি স্থির করেছে।
এরই মধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের উদ্যোগের ফলে শরণার্থীর সংখ্যা অনেকটা কমে এসেছে। বিশেষ করে লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনী ভূমধ্যসাগরে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠায় বেআইনি পথে শরণার্থীরা ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হতে পারছে না। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মর্কেল লিবিয়ার এ বাহিনীকে আরও সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে রেহাই পাবে না। ২০১৫ সালে তিনি যেভাবে জার্মানির দ্বার শরণার্থীদের জন্য খুলে দিয়েছিলেন, সেই সিদ্ধান্তে আজও অটল তিনি। একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলে তিনি আবার সেই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন মর্কেল।

পার্স টুডে