নিউ ইয়র্ক বিশ্ব সিলেট সম্মেলন: সবার সঙ্গে যুক্ত হবার প্রত্যাশা

../news_img/54768 mri nu.jpg

সৈয়দ জগলুল পাশা :: বাংলাদেশের হৃদয় জুড়ে বিশ্বময়তার এক অনন্য ধারার অবস্থান সিলেট বিভাগের। ঐতিয্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সম্পদ, ত্যাগ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বৈশিষ্টময় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল। আপন আলোয় প্রদীপ্ত সিলেট। বাংলা ভাষার সংগ্রাম, বাংলা ভাষা বিকাশে সহযোগিতা, মহান স্বাধীনতা অর্জনে ত্যাগ, দেশের অর্থনীতি বিনির্মানে অব্যাহত অবদান, প্রবাসে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর অভিযানিক জনগোষ্ঠির গৌরবময়তা নিয়েই সমকালীন সিলেট অঞ্চল। পীর, দরবেশ, আউলিয়া ও ধর্মগুরু সকল ব্যাক্তিত্ব আর্শীবাদ নিয়ে প্রবহমান আমাদের সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির ধারা। বিশ্ব সিলেট সম্মেলন এ আলোকের ঝর্নাধারা।
বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের পেক্ষাপটের গুরুত্বপূর্ন দিক হলো, আমাদের সম্প্রীতির বন্দন সুদৃঢ় করা, ঐতিহ্যের প্রচারনায় জাতীয় উন্নয়ন সমৃদ্ধ হয়ে আমাদের সিলেটের অধিকতর উন্নয়ন সাধন, বিশ্বময় সহযোগিতা ও অর্জনের ধারাকে সমৃদ্ধ করা।

বিশ্বব্যপী মানুষে মানুষে যোগাযোগের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নতুন শতাব্দীতে আমাদের আকৃষ্ট করেছে। আপনজনকে চেনা ও কাছে টানার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পারস্পরিক ও মানবিক যোগাযোগের ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে। ব্যবসায়িক পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বহতা নদীর মত প্রবহমান। আমাদের গুনিজনের অনুপ্রেরণা দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রজন্মের প্রতিনিধি ও সাংগঠনিক সহযোগিতায় আমরা কেন্দ্রীয় জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকা ও দক্ষিন কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশন আযোজন করেছিলাম ২০১৪ সালের কলকাতা সম্মেলন ‘ইন্দো-বাংলা সিলেট উৎসব’। বিস্মায়াভিভূত সকলেই প্রত্যক্ষ করেছিল এ আয়োজন। উপমহাদেশসহ বিভিন্ন দেশের হাজারো মানুষের সমাবেশ আমাদের কে বিপুল উৎসাহ প্রদান করেছিল। পরবর্তী বছরে মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে জালালাবাদ এসোসেয়েশন কাতারের সম্মেলন আরেক সোপান তৈরী করে। এ বছর ২০১৭ তে শীলচরের বরাক উপত্যকা শ্রীহট্ট সম্মেলন, মার্চ মাসে ঢাকা ও সিলেট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব’২০১৭ নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

সিলেটীরা যখনই সম্মেলন করেছে-তখনই কিছু অর্জনে সচেষ্ট হয়েছে। বৃটিশ ভারতে শিক্ষা সম্মেলন, সাধীনতা উত্তর কালের ইতিহাস সম্মেলন সবই আমাদের ক্ষণে ক্ষণে সচেতন করেছে ও সমৃদ্ধির ধারায় প্রবাহিত করেছে। সাম্প্রতিক সম্মেলনসমুহ মৌলিক ভাবে সম্প্রীতি, সেতুবন্ধন ও ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হবার মনষ্কতা প্রদান করেছে। আসন্ন নিউইয়র্ক সিলেট বিশ্ব সম্মেলন নিজেদের জানা, সমৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রার পদক্ষেপ চিহ্নিত করা, প্রযুক্তির বিকাশমান ধারায় আগামী প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে এগিয়ে যাবার অঙ্গিকার কে পুনর্ব্যক্ত ও সুদৃঢ় করবে। তাছাড়া এ উদ্যোগ বস্তুগত ভাবে বাংলাদেশের মতই নিউইয়র্ক, মুম্বাই, কলকাতা, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে যথাসম্ভব আমাদের জালালাবাদ মিলন ও সম্মেলন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে।

জালালাবাদ এসোসিয়েশন আমেরিকার এ উদ্যোগকে আমরা সকলেই স্বগত জানাই। প্রাসঙ্গিক ভাবেই জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ইউকে লন্ডনে আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব আয়োজনের সিন্দান্ত গ্রহন করেছে। এ সম্মেলন অধিকতর পরিকল্পিত হবে বলে বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা সিলেটবাসী আশাবাদী।

এ পর্যায়ে আমরা প্রায় শতাব্দিব্যাপী তৎপরতায় অনেক অর্জন সম্পন্ন করতে পেরেছি। শ্রীহট্ট সম্মিলনী স্বজনদের গেঁথে রেখেছে। ৬৯ বছরের জালালাবাদ এসোসিয়েশন প্রিয় দেশ ও আমাদের বিভাগের জনগোষ্ঠির জন্য ভূমিকা রেখেছে। তবে প্রজন্মের জন্য সুন্দর আগামী বিনির্মান কল্পে শিক্ষা বিস্তার, সংস্কৃতি বিকাশ ও সুস্বাস্থের জন্য প্রকল্প গ্রহন এবং তথ্য প্রযুক্তি সুবিধা বিকাশে প্রদক্ষেপ গ্রহন হবে প্রণিধানযোগ্য কর্ম প্রয়াস। আগামী ২০১৮ সালে জালালাবাদ এসোসেয়েশন ৭০ বছরে পদার্পন করবে। তখন যেন আমরা আপন আলোয় সবার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই, এ প্রত্যাশা আমাদের।

লেখক: জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সরকারের (অব:) যুগ্ম সচিব।